আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বুদ্ধিমান পাখি কাকের গল্প:বিজ্ঞানীদের ভাবনা।

...............................।

বিজ্ঞানীরা অনেক দিন থেকেই অনুমান করে আসছিলেন যে কাকগোত্রীয় পাখিরা মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি বুদ্ধিমান। এবার নিউরোবায়োলজিস্টরা দেখিয়েছেন, কিভাবে বিভিন্ন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কাকের মস্তিষ্ক বিভিন্ন বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ করে, ঠিক মানুষের মতোই। যদিও মানুষ ও কাকের পূর্বপুরুষ ভিন্ন। আর এর মাধ্যমে হয়তো স্তন্যপায়ী নয় এরকম প্রাণীদের মস্তিষ্কের ভেতরের কাজগুলো সম্পর্কে আমরা খুব ভালভাবে জানতে পারবো।

কেউ কেউ আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে ভিন্ন গ্রহের প্রাণীদের চিন্তা-ভাবনা কিভাবে সম্পন্ন হয় সেটাও জানা যেতে পারে।

জার্মানির Tubingen University in Baden-Wurttembergর লীনা ভেইট ও অধ্যাপক আন্দ্রিয়াজ নিয়েডার সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। মানুষ একটি ঘটনা যেভাবে অবলোকন করে, কাক সেই একই ঘটনা উপলব্ধি করে ভিন্নভাবে। কারণ মানুষ ও কাকের বিবর্তনের ধারাটি একদমই আলাদা। কাকদেরকে ডায়নোসরের উত্তরসূরি হিসেবে ধরা হয়।

এর অর্থ যদি কাকদের চিন্তাশক্তি কিভাবে কাজ করে সেটা জানা যায় তবে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বাইরের যে বিশাল জীবজগৎ অর্থাৎ পাখিদের মস্তিষ্ক সম্পর্কে খুব সহজে জানা যাবে। কাক ও প্রাইমেট গোত্রীয় (মানুষ, বানর, শিম্পাঞ্জী ইত্যাদি) প্রাণিদের মস্তিষ্কের গঠন ভিন্ন। তবে মস্তিষ্কের যে কোষ সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজটি করে সেটা উভয় প্রাণীর ক্ষেত্রেই একই রকম।

শুধু তাই নয়, অন্য প্রাণীদের তুলনায় কাক অনেক বেশি বুদ্ধিমান, যে কারণে অনেক সময় এদেরকে ‘পালকযুক্ত প্রাইমেট’ বলেও ডাকা হয়। কারণ কাক তাদের নিজেদের সুবিধামত ডাল-লতাপাতা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি ও ব্যবহার করতে পারে, যেসব জায়গায় খাবার পাওয়া যায় সেসব জায়গা মনে রাখতে পারে।

এছাড়া বিভিন্ন গাছের বীজ যেগুলো কাকেদের খাদ্য কিন্ত খুবই শক্ত, সেগুলোকে কাকরা রাস্তায় ফেলে রাখে। গাড়ি আসলে বীজগুলো ভেঙ্গে যায়, ফলে তারা সেগুলো খেতে পারে। শুধু তাই, একটি কাক যে ঝাঁকের সদস্য, সে সেই ঝাঁকের অন্য কাকদের সাথে সমাজবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন কাজ করে। আর পাখিদের মস্তিস্কের গঠন মৌলিকভাবে মানুষের মস্তিষ্কের চেয়ে আলাদা হওয়া সত্ত্বেও তাদের উচ্চ দক্ষতার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা অবাক করার মতো বৈকি!

গবেষকরা কাকদেরকে একটি কম্পিউটার নির্ভর মেমরি টেস্টের জন্য প্রশিক্ষণ দেন। তারপর কাকগুলোকে টাচ স্ক্রিনে প্রদর্শন করা দুটি ছবির একটিকে নিজেদের ঠোঁট বা চঞ্চু দ্বারা স্পর্শ করতে দেয়া হয়।

এরপর আরো দুটি ছবি দেখানো হয় যাদের মাঝে একটি ছিল আগে দেখানো ছবিগুলোর একটির মতো। কাকগুলো একদম নিখুঁতভাবে দেখতে একই রকম ছবিগুলোকে স্পর্শ করে, যেটা তাদেরকে প্রশিক্ষণে করতে শেখানো হয়েছিল। এমনকি তাদেরকে বিভিন্ন নতুন ছবি দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, সেখানেও তারা সঠিক ছবিগুলো বেছে নিতে সক্ষম হয়। আর একই ছবি বা ভিন্ন ছবি বাছাই করার সময় তাদের মস্তিষ্কও ভিন্নভাবে সাড়া দেয়।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.