(এটি যতটি না লেখা তার চেয়ে বেশি হল এলোমেলো করে জট পাকানো চিন্তার সুতা। সে হিসেবে এটির জায়গা হওয়া উচিৎ ফেসবুক নোটে। সচলায়তন যেহেতু লেখকদের মঞ্চ এখানে কিছুটা কুণ্ঠাভরে দিচ্ছি। আমার মূল প্রশ্ন হল, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে কি আসলেই "আওয়ামী বিদ্বেষ" বলে অনন্য কোন অনুভূতি আছে? নাকি গড়পরতা যেকোন রাজনৈতিক দল সাংগঠনিকভাবে এবং তার সদস্য ও সমর্থকরা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দলের প্রতি যে হতাশা, ক্রোধ ও প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা সংরক্ষণ করেন তারই একটি রুপ "আওয়ামী বিদ্বেষ"? যদি "আওয়ামী বিদ্বেষ" আসলেই অনন্য ও বিশেষ হয় তাহলে আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকরা যদি তাদের প্রতিদ্বন্ধী দলগুলোর প্রতি যে ক্রোধ ও প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা সংরক্ষণ করেন, প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকরা আওয়ামী লীগ দলটির প্রতি পরিমাণ ও মানে তার চেয়ে ভিন্ন ক্রোধ ও প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা সংরক্ষণ করেন। আমার অপেশাদার পর্যবেক্ষণ হল এটি আছে।
যদি এটি আসলেই সত্য হয় তাহলে তার পিছনের মনস্তত্বটি কি? )
নি:সন্দেহে আমাদের দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরোধী দল হয় তাতেও তারা দেশময় পপুলার ভোটে এগিয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় আসন না পেলেও ভোটসংখ্যার অনুপাতে তারা সবসময় এগিয়ে থাকে। এখন বলুন তো বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘৃণিত দল কোনটি? উত্তর হল আওয়ামী লীগ। যারা জামাত বলে ফেলেছেন তাদের উত্তর ভুল হয়েছে কারণ জামাত কোন রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী দল যারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আগ্রহে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেয়েছে ঘটনা চক্রে।
তারপর ধর্মের মলম আর হাজমোলা বিক্রি করেছে কয়েক দশক এবং এখন শাহবাগের ঠেলায় তাদের ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলে গেছে।
তাহলে কেন আওয়ামী লীগ সবচেয়ে ঘৃণিত দল? কারণ বাংলাদেশে এমন রাজনৈতিক আছে যাদের আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত মতাদর্শই হল আওয়মী লীগকে ঠেকানো! আওয়ামী লীগ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গৌরবজনক ফসল বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে একমত (একদম নিঁখুতভাবে না হলেও, কাগজে কলমে এবং বেশিরভাগ সময় চর্চায়)। এই আদর্শিক অবস্থানকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে, না কোন আত্মিক বা আদর্শিক বা নৈতিক কারণে নয়, শুধুমাত্র শুধুমাত্র শুধুমাত্র এই আদর্শিক অবস্থানকে ঘায়েল করার জন্যই আস্ত একটি রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে যারা ধর্মের মলম বিক্রি করবে ধর্মভীরু মানুষদের কাছে পরিকল্পিত ভাবে ভুলভাল তথ্য পৌঁছে দিয়ে। আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন কোন দলকে ঘায়েল করা কি করে আরেকটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ হতে পারে বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতার মত একটি চমৎকার জিনিসকে ঘায়েল করা কি করে রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে? কেন এটি হতে পারে সেটি আমি জানতাম যদি সেই আদর্শ আমি প্রস্তাব করতাম। তবে এটির সুবিধা বুঝা যায়।
নিজে একটি আরো ভাল বিকল্প আদর্শ প্রস্তাব করে আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করতে হলে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতই দশকের পর দশক খেটে খেটে মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন কিংবা মতিয়া চৌধুরীর মত নেতৃত্ব বিকশিত হবে। কে অত কষ্ট করে? তার চেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসের কারণে রেগে থাকা মানুষের আক্রোশের উপর ভর করে যদি কোনমতে টেনেটুনে পাশ করা যায় ক্ষতি কি? কোন দলের খারাপ কাজের নিন্দার মধ্যে আপত্তির কিছু নেই। আওয়ামী লীগ নিয়মিতই নিন্দার যোগ্য কাজ করে থাকে। আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না, আওয়ামী লীগের ভাল কাজের নিন্দাও একটি দল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মতাদর্শের অংশ হিসেবে নিয়ে নিয়েছে।
বিএনপি 'র ওয়েবসাইটে তাদের আইডিওলজী কি আছে নিচে দেখুন!
যাই হোক এই লেখা বিএনপি'র জন্য না। এই লেখা বাংলাদেশের 'সবচেয়ে নন্দিত ও নিন্দিত' দল আওয়ামী লীগের জন্য। মূলত: নিন্দাগুলোই এ লেখার মূল বিষয়।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই শুরু করি। এ বছরের গোড়ার দিকেও ধূলা ছাড়া আমার একটাই অ্যালার্জী ছিল - নাম শেখ হাসিনা।
পড়াশোনার অভ্যাস কিছুটা বাড়ার কারণে ইদানীং আমি অ্যালার্জীর ব্যাপারটি লজিক দিয়ে প্রতিস্থাপন করা চেষ্টা করছি।
তো আওয়ামী লীগের প্রতি নিন্দার মেকানিজম কি? একটি ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ। নিচে যেসব মেকানিজম বলা হবে সেগুলোর অনেকগুলোই কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই বিচ্ছিন্নভাবে অন্য দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে করেছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে এটি তাদের মূল ট্রেইট না। আমি দুটিকে সমান পাল্লায় দেখতে রাজি না।
কারণ আওয়ামী লীগকেই তার বিরোধী দলগুলো তাদের নিজেদের মাণদন্ডে বিচার করে না। আওয়ামী লীগের জন্য তাদের স্পেশাল ট্রিটমেন্ট। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটি তো রীতিমত মতাদর্শই রচনা করেছে আওয়ামী লীগকে ঘিরে। আওয়ামী লীগের প্রতি এই মনস্তত্ত্ব বিকশিত ও প্রচারিত হয়েছে খুবই অর্গানাইজড ও সিস্টেমেটিক উপায়ে, রীতিমত টার্গেট করে পয়সা খরচ করে।
জাসদ দিয়েই শুরু করি।
বাল্টিমোরে আমাদের একজন পরিচিত আছেন। আমরা মামা বলে ডাকি, তিনি আবার প্রাক্তন জাসদের বিপ্লবী। ঘরোয়া আড্ডাতেই একদিন শেখ কামালের বিরুদ্ধে ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগ উঠায় তাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম এটির কাহিনী কি। তিনি বললেন, "এটি আমরাই ছড়িয়েছিলাম আর কে?" কি অদ্ভুৎ তাই না? চাইলেই তো আওয়ামী লীগের আসলেই যেসব ভুল সেগুলো ধরে ধরে সমালোচনা, প্রতিবাদ, নিন্দা এবং সেগুলোর পথে আইনী বাধাও সৃষ্টি করা যেত। তা না করে এই শর্টকাট পথে যাওয়ার কারণ কি? মিথ্যা বলে কি শেষ মেশ জাসদ ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল? এটা কি ধরণের মনস্তত্ব যেটি মানুষকে দেখতে দেয় না যে সে যে বুদ্ধি বের করেছে সেটি সময়ের পরীক্ষায় টিকবে না?
এরপর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের কথা বলা যাক।
বঙ্গবন্ধুকে কিন্তু তার প্রতিদ্বন্ধী রাজনীতিকরা হত্যা করেন নি। করেছেন কিছু জুনিয়র অফিসার। একটা লোকের অপরাধ কি এমন হতে পারে যে তার জন্য তার বাচ্চা ছেলেকেও মেরে ফেলতে হয়? এ করে কি তারা শেখ পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে পেরেছে? যে এ ধরণের কাজ করে তার চিন্তাপ্রক্রিয়াটা কি?
তারপর ধরা যাক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট যখন শোকবাণীতে তাকে 'স্বাধীনতার ঘোষক' উপাধি দিলেন। তিনি ধরেই নিলেন বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের কোন একটি সিল লাগাতে হবে। সেটি কিন্তু জিয়াউর রহমানের ছিলও, তিনি একসময় সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
তাহলে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠককে ঘোষক বলে দুই নম্বুরী করতে হল কেন? শেখ মুজিবের হিমালয়সম ব্যক্তিত্বের বিপরীতে দাঁড় করানোর জন্য এই হাইহিল অলা জুতা আসলেই কি দরকার ছিল? তার চেয়ে শেখ মুজিবের মত দশকের পর দশক বাংলার মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করাটা বেশি টেকসই হত না? শেষমেশ কি হল? এখন তো ঠিকই সবাই আসল ব্যাপার জেনে গেছে। তাহলে কি সেই অসুস্থ মনোবৃত্তি যেটি মানুষকে ভুলিয়ে দেয় যে সে যা করতে যাচ্ছে সেটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না?
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথাই ধরি। তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি এই দুর্ভিক্ষে যে অবদান রেখেছিল সেটির উপর ভিত্তি করে সেই সময়ের মানুষেরা আন্দোলন গড়ে তুললে কোন সমস্যা থাকা উচিত নয়। কিন্তু আফতাব আহমেদ নামের যে আলোকচিত্রী বাসন্তী নামে একটি মেয়েকে জাল পড়িয়ে ছবি তুলে সেটি দুর্ভিক্ষের ছবি হিসেবে চালিয়েছিল সে সেই কাজটি করার নৈতিক ভিত্তিটি পেল কি করে? ধরলাম সে পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিল কিন্তু সহকর্মীরা নিশ্চয় জানত। তারা নিজেদের মধ্যে নৈতিক বোঝাপড়া নিশ্চয়ই করেছিল।
কিছু একটা তাদের নিশ্চয়ই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যাতে তারা এই ঐতিহাসিক সত্য ভুলে গিয়েছিল যে প্রত্যেক মিথ্যাই কোন না কোন সময় ধরা পড়ে যায়।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ ঘনঘন তোলা হয় সেটি হল আওয়ামী লীগ ইসলামের শত্রু। এনিয়ে একবার নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার ভবিষ্যদ্বানীও ছিল যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে উলুধ্বনি হবে। আরেকটি হল পুরোনো অভিযোগ যে ভারতের কাছে আওয়ামী লীগ দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে। দেশ বিক্রি করা যে ঠিক কি সেটি কেউ কখনও পরিষ্কার করে বলে নি।
এটুকু বোঝা যায় যে বাংলাদেশের ভূখন্ড দখল করা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথ্যা নেই। তারা যদি বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে ভূখন্ড দখল করার দরকারই নেই। অর্থনীতির দিক দিয়ে চিন্তা করলে দেশবিক্রির অভিযোগটি ঠিক না। কারণ আমাদের মোট আমদানীর যে অংশ ভারত থেকে আসে তার অনুপাত দিন দিন কমছে, বাড়ছে না। আমার এক বড়ভাইয়ের এই ব্যাপারে মূল্যায়নটি খুব ইন্টারেসটিং।
ওনার বক্তব্য হল আওয়ামী লীগ যে ইসলাম বিরোধী দল নয় বা তারা যে নিজেদের স্বার্থেই ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করবে না এই কথাগুলো যারা অভিযোগগুলো করে তারাও জানে। তারা যখন কোন লেখায় এই দুটি ব্যাপার উল্লেখ করে এগুলো সেই লেখার মূল বক্তব্য থাকে না। এই অভিযোগগুলো দিয়ে আগে তারা পাঠকের মুড সেট করে নেয় তারপর আসল কথা ছাড়ে। প্রশ্ন হল আপনার যদি উদ্দেশ্য থাকে আওয়ামী লীগ যে খারাপ কাজটি করেছে তা রেকটিফাই করা বা তারা যদি সেটি সংশোধন করতে রাজী না হয় তাহলে শাস্তি দেয়া তার কোনোটির জন্যই তো মিথ্যা কথা বলার দরকার পড়ে না। তাহলে যারা এই কাজটি করে তাদের চিন্তাপ্রক্রিয়া কি করে কাজ করে?
২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা ধরা যাক।
এই ব্যাপারটি তো খুবই অদ্ভুৎ যে আপনি আপনার বিপক্ষের লোকদের পছন্দ করেননা বলে তাদের নেত্রীকে মেরে ফেলবেন। এরকম তো না যে তাদের কোন ভুল নেই, দোষ নেই, অন্যায় নেই। সেগুলো ধরে ধরে যে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করা যায় তার উদাহরণ তো আছেই। তাহলে শর্টকাটে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার বুদ্ধিটি কেন আসবে? এটা কেমন বিদ্বেষ যেটি আপনার বিবেচনাশক্তিকে অন্ধ করে দেয়? তারপরও যে কিছু মানুষ এই দলকে সমর্থন করে সেটি কি জন্য? এটি কি সেই দলের প্রতি সমর্থন নাকি আওয়ামী লীগের প্রতি রাগ থেকে আসা প্রতিক্রিয়া? সেই রাগের মনস্তত্ব কি? শুধুই বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্ত নেতা কর্মীদের দৌরাত্ম্য নাকি তার পাশাপাশি মিথ্যা গালগল্প ছড়ানোর ফলেও যাদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব না তাদের মেজাজ বিগড়ে যাওয়া?
আমার এক বন্ধু একসময় বিতর্কিত মানবাধিকার সংগঠন অধিকারে কাজ করেছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আদিলুর রহমান শুভ্র যখন হেফাজতের জন্য একটি দুই নম্বর তালিকা তৈরি করেছিল সেটি নিয়ে সংগঠনের কর্মীদের মাঝে নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কি করে তৈরি হয়েছিল।
তার মতে আদিলুর রহমানের ব্যাখ্যা ছিল 'যেহেতু এই মুহুর্তে যে কোন মূল্যে আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হবে কাজেই তার জন্য যদি আরেকটি কম খারাপ সংগঠনের সাথে মিলে দুই নম্বুরী করে হলেও কাজটি করা যায় তাহলে সেটি তুলনামূলকভাবে নৈতিক"! এরকম অদ্ভুৎ চিন্তা আসে কেন? আর সেটি তার সহকর্মীরা হজম করেন কেন? তাদের চিন্তা প্রক্রিয়াটি কি?
আনু মুহম্মদ যখন ভারতে কয়লাখনি পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশি হেনস্তার স্বীকার হলেন তখন আমি এক ভারতীয় বামপন্থী কর্মীর (শ্যাম কে মন্ডল) কাছে জানলাম তারা ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কয়লাখনি এলাকায় ঢুকে গিয়েছিলেন। এটি নিয়ে কল্লোল মুস্তফা যখন লিখলেন তার টোন ছিল সাম্রাজ্যবাদী ভারত আর তাদের স্বার্থের দোসর আওয়ামী লীগের জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাবে এই ভয়ে এই হয়রানী। ট্যুরিস্ট যখন কি পয়েন্ট ইনস্টলেশনে ঢুকে ছবি তুলবে তাকে বাধা দেয়া পুলিশের চাকরীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাহলে এই ব্যাপারটিকে এরকম মিথ্যার মোড়কে উপস্থাপন করা কেন? পরিবেশ আন্দোলনের মত একটি চমৎকার ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলার আদৌ কি দরকার আছে? এটা ছাড়া কি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করা যেত না? আওয়ামী লীগের আমলে তো পরিবেশ মন্ত্রণালয় একদম নিখুঁতভাবে চলছে না। তাদের কাজে কর্মে ত্রুটি ধরতে চাইলে তো এমনিই ধরা যেত।
এর জন্য মিথ্যা কথা বলার দরকারটি কি? এই মানসিকতার উৎপত্তি কোথায়?
(এরকম লেখা জীবনে লিখি নাই। চিন্তার সূতার জট এখন চিন্তার উলের বান্ডিলে পরিণত হয়েছে!!! )
আওয়ামী বিদ্বেষের কিছু সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র আছ: যেমন অনলাইনে বাঁশের কেল্লা, অফলাইনে সংগ্রাম, আমারদেশ ইত্যাদি। আমার পর্যবেক্ষণ বলে আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এ ধরণের কোন সুনির্দিষ্ট কেন্দ সৃষ্টি করেনি। তাদের প্রচারণার মূল কৌশল মানুষের মনে সন্দেহ বা দ্বিধাদ্বন্ধ ঢুকিয়ে দেয়া নয়। তারা যেটি করে সেটি হল আত্মসমালোচনার ধারে কাছে না গিয়ে শুধুমাত্র নিজেদের ভাল কাজের ঢোল পিটিয়ে যায়।
ঢোল পিটানো অনৈতিক নয় কিন্তু আত্মসমালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একারণে আমার কাছে মনে হয় "আওয়ামী বিদ্বেষ", "বিএনপি বিদ্বেষ" (আদৌ যদি সেটি থেকে থাকে) এর চেয়ে আলাদা। একজন ভাল মনস্তত্ববিদ বলতে পারবেন আদৌ আমার অনুমান সঠিক কিনা।
কিছুদিন আগে আমি প্রথম আলোর সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান খানকে বর্তমান নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ছাপা হওয়া তার একটি লেখার প্রতিক্রিয়ায় নিচের ইমেইলটি লিখেছিলাম:
মিজান সাহেব,
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।