গনজাগরনের মাধ্যেমে পরিবর্তন সম্ভব....মানুষের চিন্তার পরিবর্তন করাটা জরুরি ....বুদ্ধিবৃত্তিক পুনরজাগরনে বিশ্বাসী পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মরলো মেয়ে মৌসুমী। মা হাওয়া অবশ্য লাফিয়ে পড়েও কি করে যেন প্রাণে বাঁচলেন। আগ্রাসী আগুনের কবল থেকে বেঁচে পেলেন মৃত্যুর চেয়েও কষ্টের জীবন। হাত-পা-বুকের হাড় ভাঙা মা হাওয়া অবর্ণনীয় কষ্ট শরীরে নিয়ে কাতরাচ্ছেন বিছানায়। অর্থাভাবে কিনতে পারছেন না ওষুধও।
ঢাকার আশুলিয়ার মনোসন্তোষপুরে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহত এই মা হাওয়া বেগম (৪০) ও তার মেয়ে মৌসুমী (১৮)। মৌসুমীর বিয়ের অর্থ যোগাতে মা-মেয়ে কাজ নিয়েছিলেন এই পোশাক কারখানায়। কিন্তু গত ২৪ নভেম্বরের অগ্নিকাণ্ড হাওয়ায় ভাসিয়ে নিয়েছে হাওয়ার স্বপ্ন। মেয়েকে তো হারিয়েছেনই, আহত শরীরে যন্ত্রণা সয়ে বেঁচে থাকাটাও যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছে তার।
কাটিং হেলপার হাওয়া বেগম কাজ করছিলেন প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ তলায়।
পঞ্চমতলায় সহকারী সুইং অপারেটরের কাজ করছিলেন মেয়ে মৌসুমী। তাদের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামে।
inter
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, হতাহতদের মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলার ২০ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া আরো ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
দাফন করাদের কয়েকটি পরিবার আর্থিক সহায়তা পেলেও কিছ পাননি হাওয়ারা।
শনিবার তেকানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ডান হাত, ডান পা ও বুকে ব্যান্ডেজ দিয়ে বারান্দায় শুয়ে আছেন হাওয়া বেগম। শরীরের এখানে ওখানে ক্ষত চিহ্ন। বাড়ির পাশেই কবর দেওয়া হয়েছে মৌসুমীকে। নিজের কষ্ট ভুলে মৃত মেয়ের কথা ভেবে ফুপিয়ে কাঁদছেন হাওয়া, মেয়েটার বিয়ের খরচ জোগাতেই তো পোশাক কারখানায় কাজ নেওয়া।
কোথায় হারিয়ে গেলো মেয়েটা!
অস্পষ্ট ভাষায় হাওয়া বেগম জানান, সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর সাইরেন বাজলে তারা হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার চেষ্টা করেন। কারখানার ষষ্ঠতলায় পুরুষদের ব্যবহৃত সিঁড়ির কলাপসিবল গেটে তালা দেখে নারীদের গেট দিয়ে নামতে গেলে সিকিউরিটি গার্ড বাধা দেয়।
বাংলানিউজকে হাওয়া বেগম বলেন, “ধুমা (ধোঁয়া) দেখি ভেতর শুকি গেল। চারদিকে কুটকুটা আন্ধার। দাউ দাউ করি আগুন জ্বলা, দেখি মানুষ দেওয়ালের ফ্যান ভাঙি লাফ দেওচে।
মুইও লাফ দিনু। বাতাসের মধ্যে ভাসতে থাকনু, তারপর আর কিছু জানো না”।
হাওয়া বেগমের স্বামী রাজু মিয়া কাঠ মিন্ত্রির কাজ করেন মনোসন্তোষপুরে। বড় ছেলে নাহিদও চাকরি করেন সেখানকার একটি কারখানায়। সাত বছরের মেয়ে আসমাউল হুসনা থাকে তাদের সঙ্গে।
mousomiরাজু মিয়া বাংলানিউজকে জানান, দিনের কাজ শেষে সন্ধ্যায় পাশের একটি দর্জির দোকানের সামনে থেকে কারখানায় আগুন জ্বলতে দেখেন। হাজার হাজার মানুষ বাঁচার জন্য চিৎকার করছে, কেউ ঝাঁপ দিচ্ছে। রাত পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয় জামগড়া হাসপাতালে অনেকগুলা লাশের মধ্যে মৌসুমীর লাশ পান তিনি।
একই হাসপাতালে আহতাবস্থায় পাওয়া যায় হাওয়া বেগমকে। কারখানা থেকে লাফিয়ে পড়া আহতদের স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয় বলেও জানান রাজু মিয়া।
রাজু মিয়া আরো জানান, পরের দিন একটি গাড়িতে করে আহত স্ত্রীকে রংপুর মেডিকেলে ও নিহত মেয়েকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। গাড়ি ভাড়া মেটাতে ৯ হাজার টাকা ধার করেন তিনি।
রাজু মিয়ার অভিযোগ, অন্যরা অর্থ সহায়তা পেলেও তাদের পরিবারের কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও যোগাযোগ করা হয়নি তাদের সঙ্গে।
mousomiতেকানীর বাসিন্দারা জানান, অভাবের সংসার চালাতে না পেরে রাজু মিয়া কয়েক বছর আগে ঢাকায় যায়।
ছয় মাস আগে যান পরিবারের অন্যরা। মা-মেয়ে গত ঈদের পর চাকরি নেন তাজরীন ফ্যাশনে। এনজিও’র ঋণ দিয়ে হাওয়া বেগমের বাবার চার কাঠা জমির উপর একটি ঘর তুলেছেন। ঋণ পরিশোধ হয়নি এখনও। টাকার অভাবে চিকিৎসাও ঠিকমতো হচ্ছে না হাওয়ার।
কান্না জড়িত কণ্ঠে হাওয়া বেগম জানান, ডাক্তাররা শরীরে প্লাস্টার করে ওষুধ লিখে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এক মাস চাকরি করলেও বেতন পাননি। টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারছেন না।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. হারুন-অর-রশীদ ওই পরিবারটির খোঁজ নেওয়া হবে বলে জানান।
আশুলিয়ার অগ্নিকাণ্ড ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ধসে নিহতদের প্রত্যেককে ২ লাখ ও আহতদের ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিলাপ করতে করতে আহত হাওয়া বেগমের বাবা শতোর্ধ আব্দুল মজিদ ও বৃদ্ধা মা হালিমা বেগম বলেন, “হামার কেউ খোঁজ নিলো না। হামার নাতনি তো আর ফিরি আসবে না, শেখের বেটি কিছু টাকা দেলে হাত-পাও ভাঙা মেয়েটার জীবনটা বাঁচতো”। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।