১ম পর্ব
2য় পর্ব
২৭। ৯। ১২ঃ
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ম্যাপ নিয়ে বসলাম এক বাংগালী রেষ্টুরেন্টে। আজকের গন্তব্য সেনটোসা। চটপট নাস্তা সেরে নিলাম, নানরুটি আর গরুর মাংস মিলে ৩ সিংডলার।
জলিল ভাই সাথেই আছেন। ক্যামকডার নিয়ে হাজির।
ফেরার পার্ক থেকে মেট্রোতে উঠে পরলাম হারবার ফ্রন্ট। ট্রাভেল পাস কাটাই ছিলো। এই ট্রাভেল পাস ট্রেন বাস সব কাভার করে।
হারবার ফ্রন্ট নেমে বাস ধরলাম সেন্টোসার জন্য। ২ সিংডলার দিয়ে টিকেট নিতে হলো। ট্রাভেল পাস এটা কাভার করেনা।
মূলত সেন্টোসা একটা ছোট আইল্যন্ড এর মতো। বাস নামিয়ে দিলো একটা কেসিনোর সামনে।
এত জায়গা থাকতে কেসিনোর সামনে নামিয়ে দেয়ার বিষয়টা সহজেই বোধগম্য। হঠা্ৎ করে ইংল্যান্ডের সময়টা মনে পড়ে গেলো। (চামে আমি একসময় ইংল্যান্ড ছিলাম এইটা আপনাদের জানিয়ে দিলাম) ইংল্যান্ডের অলিগলিতে হরেকরকম কেসিনো। যা-ই এদেশে কামাবেন তার সবটাই এখানেই শেষ করবেন। দেশের টাকা দেশেই থাকলো।
সিংগাপুরও একই নীতিতে চলে।
একটা ম্যাপ নিলাম ফ্রিতে। আশেপাশে জলিল ভাইকে না পেয়ে খুজা শুরু করলাম। পেয়েও গেলাম, ওনি কেসিনোর সিকিউরিটি গার্ডের সাথে কথা বলছেন। একটু অবাক হলাম, জলিল ভাই ইংরেজী জানেননা ভেবে।
কাছে গিয়ে দুজনের কনভারসেশান শুনে হেসে খুন হওয়ার জোগাড়। জলিল ভাই বাংলা বলেই চলছেন আর সিকিউরিটি ইংরেজী। সে এক দেখার মত দৃশ্য। জলিল ভাইয়ের ধারনা সবাই বাংলা বুঝে আর সিকিউরিটি গার্ড কাষ্টমারকে বুঝার চেষ্টা করছেন।
ম্যাপ দেখে ঘুরা শুরু করলাম।
প্রথমেই গেলাম ইউনিভার্সেল স্টুডিও। ৬৫ সিংডলার। হাই বাজেট ছবির বিভিন্ন শুটিং স্পট। যাদের মুভি নিয়ে দুর্বলতা আছে তাদের জন্য আদর্শ জায়গা। মুভিতে আমরা কি দেখি আর বাস্তবে কি করে সেটা হয় তার নমুনা এখানে পাবেন।
ওটা দেখা শেষ করে আশেপাশে ঘুরতে লাগলাম। এখানে অনেক রেষ্টুরেন্ট আর হোটেল আছে। খাবারের দাম শুনলে খিদে চলে যাবে। এক বোতল আধালিটার পানির দাম ৩ সিংডলার। আমি পানি নিয়েই এসেছিলাম বলে রক্ষা।
যাই হোক ঘুরাঘুরি চলতে থাকলো।
এখানে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে। পুরা সেন্টোসাতে বাস সার্ভিস ফ্রি। ওয়াটার ওয়াল্ড এ গেলাম কিন্তু টিকেটের দাম শুনে মত পালটালাম। ভাবলাম এ শখটা মালেশিয়াতে গিয়ে পুরাবো।
রাস্তা পার হতেই বীচ। বীচে গিয়ে চিত হয়ে শুয়ে পড়লাম। সে এক অপরূপ দৃশ্য চোখের সামনে। বীচে আরো অনেক কিছুই দেখেছি সেগুলো বলতে চাইনা। আপনারা গিয়ে দেখে আসতে পারেন।
সারাদিন ঘুরাঘুরি করে ক্লান্ত হয়ে ফিরতি বাস ধরলাম হারবার ফ্রন্ট। বাসে টিকেট লাগলো না। এবার যেতে হবে জুরন আমার পরিচিত এক মেরিনার ভাইয়ের বাসায়।
পাঠক চাইলে চলবে.........
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।