আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাজারে কৃত্রিম ডিম বিক্রির আতংকে ক্রেতারা

দেশে ডিম পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই এম এ বাবর: বাজারে কী ধরনের ডিম বিক্রি হচ্ছে ও ভোক্তা কোন প্রাণীর ডিম খাচ্ছেন তা নিরূপণের ব্যবস্থা নেই বাংলাদেশে। এদিকে দেশে ডিম আমদানি প্রক্রিয়া উম্মুক্ত করায় ক্রেতাদের মধ্যে কৃত্রিম ডিম বিক্রির আতংক বিরাজ করছে। ফলে শিশুখাদ্যের তালিকায় ডিম কিনতে যথারীতি হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ। অন্যদিকে সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক কামরুল হাসান রাজধানীর আগা সাদেক রোডের মিরজল­া বাজার থেকে ৮টি হাঁসের ডিম কেনেন। ওই ডিম থেকে ৪টি ডিম ভাঙলে ভেতরে দেখা যায় কুসুমের চারদিকে স্বচ্ছ জলীয় অংশের পরিবর্তে গোলাপী জলীয় অংশ রয়েছে।

ডিমগুলো আদৌ হাঁসের ডিম কিনাÑ তা পরীক্ষার জন্য ভাঙা ডিমসহ ভালো ৪টি ডিম কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার কেন্দ্রে পাঠান। এছাড়া কোন প্রাণীর ডিম তা পরীক্ষায় মাধ্যমে জানার জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বিএসটিআই ও সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে যোগাযোগ করা হয়। বিএসটিআই ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ ডিসিসিকে জানায় তাদের ল্যাবে ডিম পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লিখিতভাবে ডিসিসিকে জানায় ‘ডিমগুলো কোন প্রাণীর তা পরীক্ষার কোনো সুযোগ না থাকায় এ বিষয়ে কোনো মতামত দেয়া সম্ভব নয়। ’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ‘দ্য ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি’তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে বিশে­ষণধর্মী এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে ২০০৪ সাল থেকেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম ডিম।

কৃত্রিম ডিমে কোনো খাদ্যগুন ও প্রোটিন নেই। বিশেষজ্ঞরা জানান, চীনে তৈরী হওয়া এসব কৃত্রিম (নকল ডিম) এক কথায় বিষাক্ত। কৃত্রিম ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ ধরনের ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।

দ্যা স্টার ডট কম-এ কৃত্রিম ডিম প্রস্তুত প্রনালীতে সম্পর্কে বলা হয়, কুসুম ও সাদা অংশের সময়ে কৃত্রিম ডিম তৈরি করতে প­াস্টিকের ছাঁচ ব্যবহৃত হয়। তবে তার আগে কুসম তৈরি করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে। সরাসরি ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও কালারিং ডাই দিয়ে লাল বা গাঢ় হলুদ রংয়ের কুসুম তৈরি করা হয়। তার ওপর অতি পাতলা স্বচ্ছ রাসায়নিকের আবরণ তৈরি করা হয়। যাতে কুসুম ও সাদা অংশ এক না হয়ে যায়।

সাদা অংশ তৈরিতে ব্যবহার হয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রিজিন জিলাটিন ও এলাম। প­াস্টিকের ছাঁচ ডিমের সাদা অংশ তৈরি করে তার মাঝখানে ডিমের কুসুম তৈরি করা হয়। শেষ ধাপে ডিমের উপরের শক্ত খোলস তৈরিতে করা হয়। এর জন্য ব্যবহার করা হয় ওয়াক্স এর মিশনখানে ব্যবহার করা হয় প্যারাফিন, বেনজয়িক এসিড, বেকিং পাউডার, ক্যালসিয়াম কার্বাইড। সাদা অংশকে ওয়াক্সের দ্রবণে কিছুক্ষণ নাড়ানো চাড়ানো হয়।

বাইরে থেকে ¯^ল্প তাপ প্রয়োগ করা হয়। এতেই তৈরি হয়ে যায় আসল ডিমের ডিমের মতো হুবহু নকল ডিম। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বিধান কুমার দাস বলেন, তাদের ল্যাবে ডিম পরীক্ষা করে কোন প্রাণীর ডিম তা বের করা সম্ভব নয়। ডিমের ভেতের কী কী উপদান আছে পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু তাই নিরূপণ করা সম্ভব। এমনকি তার জানা মতে বাংলাদেশে কোনো পরীক্ষাগার নেই যে, ডিম পরীক্ষা করে কোন প্রাণীর ডিম তা বের করা সম্ভব।

বাজার থেকে সংগ্রিহীত ডিমে কোন ধরনের সমস্য দেখা গেলে তাদের অবহিত করা পরামর্শ দেন তিনি। এ বিষয়ে পরীক্ষা করে আসল ডিম কি নকল ডিম বা কোন জীবাণু আছে কিনা তা নির্ণয়ে সাধ্যমত চেষ্টা করবেন তারা। উলে­খ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ১৬ সেপ্টে¤^র এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাঁস-মুরগি ও পাখির ডিম, হ্যাচিং ডিম ও একদিনের মুরগি বাচ্চা আমদানির ক্ষেষত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যায় এসব ডিম অবাধে আমদানি করা যাবে। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.