আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শতাব্দির আলোচিত রাস্ট্রনায়ক- দেশপ্রেমিক- ফ্যাসিস্ট- এডলফ হিটলার (৩য় পর্ব)

আমরা দেখলাম হিটলার আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে পারলনা, বাবা মারা গেছেন ফুসফুসে রক্তক্ষরণে, তারপর? শুনুন: বাবা মারা যাবার পর হিটলার একটু ছন্নছাড়াই হয়ে গেলেন। ঘুম থেকে দেরী করে উঠতেন, বেশী রাতে বাড়ী ফিরতেন, না তার কোন খারাপ অভ্যাস ছিলনা। তার বন্ধু তেমন কেউ ছিলনা, তবে একজনের নাম শোনা যায়, তার নাম অগাস্ট কুবিযেক (August Kubizek) যিনি একজন সংগীতজ্ঞ হতে চেয়েছিলেন। নীচে তার ছবি দেখুন: হিটলার সেই বয়সেই জ্বালাময়ী ভাষায় দারুন বক্তৃতা দিতে পারতেন আর তার একমাত্র নিরব শ্রোতা ছিলেন ঐ কুবিযেক। পরে কবিযেক স্মৃতিচারণ করার সময় বলেছিলেন, হিটলার তার কথার কোন সমালোচনা সহ্য করতেননা, ভুল স্বিকার করতেননা।

তার এই দোষটার জন্য তাকে, জার্মানীকে তথা সারাবিশ্বকেই চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। তিনি যদি যুদ্ধচলাকালীন তার কয়েক ডজন জেনারেলদের কিছু কথা বা পরামর্শ শুনতেন তাহলে পৃথিবীর ইতিহাস অন্য রকম হতে পারত। তবে সে গল্প অনেক দেরীতে আসবে। উপরের উনি ছিলেন ফিল্ড মার্শাল উইলহেম কাইটেল, হিটলারের একনম্বর জেনারেল। নীচে দুনিয়াখ্যাত যোদ্ধা 'ডেজার্ট ফক্স' নামে পরিচিত, যার মরুভুমিতে যুদ্ধ কৌশল এখনো বাংলাদেশ সহ পৃথাবীর বিভিন্ন দেশের মিলিটারি কলেজ সমূহে পড়ানো হয়, নাম ফিল্ড মার্শাল আরভিন রোমেল।

[ তরুন হিটলারের কোন মেয়ে বন্ধু ছিলনা, তবে একজন লালচুলো সুন্দরী স্টেফাইন কে তিনি মনে মনে পছন্দ করতেন যা তিনি কোনদিন তাকে বলেননি, আর মেয়েটিও কোনদিন জানতে পারেনি। ঐ সময় হিটলার জার্মান ইতিহাস আর নর্ডিক পৌরানিক গাথা মন দিয়ে পড়তেন। এভাবেই হিটলারের মধ্যে নিজেকে ঐতিহ্যবাহী গৌরবময় নীল রক্তের জার্মান ভাবার প্রবনতা দেখা দেয়। শত শত বছর ধরে যেই হাপসবুর্গ সাম্রাজ্য আর অস্ট্রো- হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য অস্ট্রিয়া আর তার আশে পাশের এলাকাতে রাজত্ব করে আসছিল তাদের প্রতি একধরনের ঘৃনা অনুভব করতে থাকেন। ১৯০৭ সালের ১৪ই জানুয়ারী হিটলারের মা ক্লারা বুকে ব্যাথা অনুভব করায় পারিবারিক ডাক্তারকে দেখান।

তাদের পারিবারিক ডাক্তারের নাম ছিল ডাক্তার এড্ওয়ার্ড ব্লশ ( Dr. Edward Bloch) আর তিনি ছিলেন একজন ইহুদী। ডাক্তার পলীক্ষা করে দেখেন হিটলারের মা ক্লারার স্তন ক্যান্সার হয়েছে। তাও আবার অনেক দুর এগিয়ে গেছে। যাহোক তিনি অপরেশন করার উপদেশ দিলেন। এই ঘটনায় হিটলার ভিয়েনা থেকে চলে আসলেন মায়ের সেবা করার জন্য।

কয়েকদিন পর ডাঃ ব্লশ ক্লারার অপারেশন করে একটা স্তন কেটে ফেলে দেন আর একটা কড়া ডোযের অষুধ দেন, যেটার নাম ছিল আইডোফরম। অবশ্য ততক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল। ডাঃ ব্লশ ফি নেবার সময় প্রায় সবটাই মাফ করে দিয়েছিলেন যার জন্য হিটলার সেই মুহুর্তে তাকে বলেছিলেন যে এটার জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন। আর তিনি ছিলেন বলে শোনা যায়। পরে যুদ্ধকালীন সময়ে গনহত্যার আগেই ইহুদী ডাঃ ব্লশকে তার সম্পত্তি বেচে আমেরিকা যাবার সুযোগ করে দেয়া হয় বলে শোনা যায়।

সেখানে নিউইয়র্কে তিনি মারা যান বলে কথা প্রচলিত আছে। এটা হিটলারের মানবিক গুনের একটা দিক। বেশ কিছুকাল ভুগে এডলফ হিটলারের মা ক্লারা পোলয ৪৬ বছ বয়সে ক্রিষ্টমাসের সময়কালীন ১৯০৭ সালের ২১ শে ডিসেম্বর নীরবে মারা যান। তাকে তার স্বামী এলয়েস আর পুত্র এডমন্ডের সাথেই সমাধিস্হ করা হয়। বাকিটুকু আরেকদিন! আগের ২টি পর্বের লিংক নীচে: Click This Link Click This Link  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.