আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা

আমরা একটু পয়সা হলেই বিদেশি জিনিষ কিনে ভাব নিতে চাই। ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনে আমাদের মগজে গেথে গেছে, বিলাতী জিনিষের মত জিনিষ হয় না। কিন্তু, আমাদের দেশী জিনিষ না কিনলে যে আমাদেরই ক্ষতি, তা বাঙ্গালীকে বোঝাবে কে! উদাহরণ দিয়ে বলি। ওয়ালটন দেশে মটর সাইকেল তৈরি করছে। এখন, আমি যদি সারাদিন হিন্দী চ্যানেলে অনুষ্ঠান দেখার সাথে ভারতীয় মটর সাইকেল এর বিজ্ঞাপন দেখি, আমিতো আকৃষ্ট হবই।

ফলাফল, ওয়ালটন বিজ্ঞাপন এর জন্য দেশী চ্যানেলে টাকা খরচ করেও প্রচার পেলনা। কয়দিন পরে যখন ওয়ালটন ব্যবসায় মার খাবে, বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের দেশে কোনরকম মার্কেটিং খরচ না করেই ভারতীয় মটর সাইকেল লাভ করে ফেলল। দেশী বিজ্ঞাপন নির্মাতারাও ব্যবসা হারাল। আমাদের মিডিয়ার বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে গেল।

দ্বিতীয়ত, ওয়ালটন মটর সাইকেল যদি ব্যবসা ভাল করে, তারা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিব নতুন ডিজাইনের ভাল ও উন্নত মটর সাইকেল ডিজাইন করার জন্য। যেন, যুগের সাথে তাল মিলাতে পারে, বিদেশে রপ্তানী করতে পারে। তৃতীয়ত, কারখানা দেশে বলে ম্যানেজার, হিউম্যান রিসোর্স, একাউন্ট্যান্ট, মার্কেটিং প্রতিনিধি, ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনার, কারখানা শ্রমিক, বিক্রয় প্রতিনিধি - সবার কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। চতুর্থত, সকল কর্মচারীর বেতন থেকে সরকার উৎসে কর কর্তন করতে পারবে। সার্বিক ভাবে সরকার অনেকগুণ কর বেশী পাবে।

পঞ্চমত, দেশী জিনিষ কিনতে আমাদের মুল্যবান বিদেশী মূদ্রা খরচ হবেনা। ডলার সংকটে সরকার আইএমএফ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিতে গিয়ে ৬ শর্ত মানার জন্য বিদ্যুত, জ্বালানী সব কিছুর দাম বাড়িয়েতো আমাদের পাবলিকের অবস্থা খারাপ করে দিয়েছে। ষষ্ঠত, সব যদি বিদেশী জিনিষ চলে আমাদের দেশে, আমাদের সবারতো বেকার থাকা লাগবে। আর বেকার থাকলে কয়দিন পর আর কেনার সামর্থ থাকবেনা। সপ্তমত, এই মটর সাইকেলে অনেক যন্ত্রাংশ থাকে (টায়ার, সীট, ইঞ্জিন) যা হয়ত ওয়ালটন অন্য কোম্পানী থেকে কিনে সংযোজন করে থাকে।

গাড়ি ও আরো বড় যানবাহনে এরকম যন্ত্রাংশের সংখ্যা আরো বেশী। ফলে, ওয়ালটন এর সাথে সাথে আরো কিছু দেশী কোম্পানীর বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে, আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ। সবশেষে, দেশী কোম্পানী বলে স্পেয়ার পার্টসটাও দেশী। সুতরাং, সহজলভ্য।

আর, দেশে ব্যবসা করে লাভ করলে আরো লোকজন দেশে একইরকম ব্যবসা করার আগ্রহ পাবে। এখন আপনি যদি নতুন দেশী কোম্পানিকে সুযোগ না দেন, আর তার কারণ হিসাবে বলেন, "ইন্ডিয়ান মটর সাইকেল গুলা দেখছেন?" আমি আপনার দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করতেই পারি। তবে, এটাও মনে রাখবেন, এই কিছুদিন আগেও কিন্তু ভারতীয় গাড়ি-মটর সাইকেল আজকের অবস্থানে ছিল না। গান্ধী-নেহেরুর স্বদেশী আন্দোলনের জন্য আজ ভারতীয়রা এই অবস্থানে। আমরাতো জাপানী গাড়ি চড়লাম, ওড়া ওদের বিশ্রী গাড়িগুলোয় এতদিন চড়ে এখন জাপানী গাড়ির সাথে পাল্লা দেয়।

ওদের বড় বড় নেতারা ভারতীয় গাড়িতে চড়েন। আমরা বিনা ট্যাক্সে গাড়ি আমদানীর সুযোগ দেই সংসদ সদস্যদের। ভারতীয়দের গাড়িতে আমাদের দেশ সয়লাব। আর আমরা আমাদের রহিমাফরোজের লুকাস ব্যাটারী দুনিয়ার অনেক দেশে রপ্তানী করলেও ভারত থেকে কেনা গাড়িতে ওদের ব্যবহার করতে বলতে পারলামনা। বলতে পারলাম না, টাটা গাড়িতে লুকাস ব্যাটারী সংযোজন করে বাংলাদেশে পাঠান।

(গত ২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের যানবাহন রপ্তানী আনুমানিক ৫০ কো্টি মার্কিন ডলার) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.