আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বৃত্ত

শরতের মেঘ একটা সময় আসে যখন সবকিছু কেমন করে আপনা আপনি বদলাতে শুরু করে। এই বদলটা হয়তো খানিকটা বাহ্যিক, খানিকটা মানুষিক। বাহ্যিক হয়তো সামান্য, তবে মানুষিকটা জটিল। সবকিছু তো আগের মতোই থাকে, সূর্য তো পশ্চিমেই উঠে, ভুল-ভাল হয় না। তাই হয়তো বাহ্যিক পরিবর্তনটা খুব বেশি পরিমেয় নয়।

যাহোক, মানুষিক পরিবর্তনের সাথে সাথে হয়তো দৃষ্টি-ভঙ্গিটারও পরিবর্তন হয়। দেখার প্রার্থক্য ঘটে। একই চোখে এক বছর আগে যা দেখেছি, এখন অন্য কিছু দেখি। ধীরে ধীরে আমাদের জ্ঞান-গরিমা বাড়ে, আমরা প্র্যাকটিক্যাল, রেশনাল হওয়ার চেষ্টা করি। প্রত্যেক কাজে অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা করি।

ইমোনশানকে পাত্তা দিতে কম চেষ্টা করি। সবকিছুতে প্রাকটিকাল সলুউশান আশা করি। এটা বেশ ভাল। তবে আমরা মানুষ বলেই কোন না কোন ভাবে ইমোশানের মাঝে আটকা পরে থাকি। যতই রেশনাল হওয়ার চেষ্টা করি না কেন, একসময়, কোন এক মুহূর্তে আমরা আবেগটাকে প্রাধান্য দিয়ে ফেলি।

এই বিশেষ মুহূর্তটা এতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, ঐ কাজটা না করলে ফলাফল অন্যরকম হতো। এটাকে কেওস থিওরীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়। অর্থাৎ পৃথিবীতে প্রত্যেকটা ইভেন্ট এর ইম্পেক্ট থাকে। ফড়িং ডানা না ঝাপটালে হয়তো ঝড় হতো না। ধরে নেওয়া যায় সেরকম একটা ব্যাপার।

ব্যাপারটা সত্যি হলেও ফড়িং কিন্তু ডানা ঝাপটানো বন্ধ করবে না। এমনকি আমরা সব ফড়িং মেরে ফেলবো না। যাহোক, মানুষের চিন্তা ভাবনার একটা গণ্ডি থাকে। এর বাইরে সে ভাবতে পারেনা। যেমনটা, কেও যদি কোন খাবার পূর্বে কখনো না খায়, তাহলে সেই খাবারের স্বাধ কল্পনা করতে পারবে না।

আমি অনেক ভাবি। এক ভাবনার পরতে অন্য ভাবনা চলে আসে। তারপর ডালপালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বট গাছ হয়ে যায়। অদ্ভুত লাগে তখন। একসময় মানুষের কর্মকাণ্ড গুলোকে খুব খেয়ালী মনে হয়।

কিছুটা ভাল লাগা আর কিচুটা অবেলার ক্লান্তি মিশে একাকার হয়ে যায়। মনের মধ্যে অদ্ভুত রিনরিন ভাব ঝেকে বসে, তখন শুধু ভাবতেই ইচ্ছে করে। সেই ভাবনা থেকে মন উঠে আসতে চায় না। কিন্তু ভাবনার চ্ছেদ এক সময় পরেই। ঐ যে বললাম, আমরা এখন রেশনাল, প্র্যাকটিক্যাল হওয়ার চেষ্টা করি।

এবং স্বাভাবিকভাবেই দৈনন্দিন নিজস্ব কাজ কর্মে আত্মমগ্ন হতে হয় আবার। ভাব আবেগ গুলো ঠায় হয়তো সেখানে খুব কম। আমি মাঝে অবাক বিষ্ময়ে ভাবি আর প্রত্যেকটা কাজ কর্মের সঠিক ব্যাখ্যা বের করতে চেষ্টা করি। কেন আমাদের এতো কোলাহল। কেন আমরা বেঁচে থাকা তাগিদ অনুভব করি।

এই কথা গুলো হয়তো অপটিমিস্টিক নয়, তবুও মাঝে মাঝে আমাকে বড় আগলা করে দেয়। কেনই বা এতো ইচ্ছা অনিচ্ছার ভেড়াজ্বালে আমাদের প্রাত্যহিক দিনাতিপাত। এ থেকে বের হওয়ার আদৌ কোন পথ আছে কি? তখনি নানা রকম ভাবনা ঝেকে বসে। মনটা বড়ো পৃথুলা হয়ে যায়। নিজেকে বড় বুড়ো বুড়ো মনে হয়।

অথচ কিইবা আমি। এইতো আমার কেবল শুরু। আর কতশত সময়ের স্রোতে অবগাহন করতে হবে । সময়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানি। কিন্তু মাঝে মাঝে এগুলোকে অবহেলা করতে বড় ভাল লাগে।

এই ভাললাগাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে হয়তো বেশ বড় রকমের ক্ষতি হয়ে যায়, কিন্তু কি করবো, পারি না। প্র্যাকটিক্যাল হওয়ার যতই চেষ্টা করি না কেন, মনের ভেতর কোথাও একটা শিশু বাস করে, আনমনে সে খেলে যায়। তার এই খেলার মানে নাই যদিও, কিন্তু তাতে তার মাথা ব্যাথা নেই, তার খেলা সামগ্রী, সাথী থাকলেই হলো। অবেলায় লিখছি, আকাশে বিকেলের রোদ নেই, বরং বেশ গম্ভীর। সন্ধ্যার অনেক আগেই মনে হচ্ছে সান্ধ্য রচনা হবে।

আর মেঘ গুলো নীলকে ছেয়ে ফেলছে। রাগী রাগী ভাব নিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভাল লাগছে না কিছুই। মনটা বড়ো বাধো বাধো ঠেকছে। মাঝে মাঝেই মনে হয়, আমি কোথাও যেন আটকা পরে আছি একটা কিছুতে।

সেই একটা কিছুকে ঘিরেই আমার যত সব আস্ফালন, ভাব রচনা। নিজেক বড়ো হতাশ মনে হয়। যত বেশি করে মন থেকে সরিয়ে ফেলতে চাই, তত বেশি করে মনের মধ্যে আরো ভাল করে আসন নিয়ে বসে। এখানেই আমার পরাজয়। ভাল লাগে না।

নিজেকে নিজের কাছে অসহ্য মনে হয়। কেন এমন লাগে। আমি কেন পারি না জয় করতে। একটা বৃত্তকে কেন্দ্র করে ঘুরছি, অথচ পারছিনা কেন্দ্রে পৌঁছতে, না পারছি বাধন ছিড়ে হারিয়ে যেতে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।