আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হরতালে ঢাকা শহর

তোমাদের মাঝে কি কেউ আছে বন্ধু আমার

অন্যান্য দিনের চাইতে আজকে ঢাকা শহরের চেহারা একটু অন্যরকম ছিল। কারণ আজ ছিল হরতাল। আজকের সকালটা শুরুও হয়েছিল একটু অন্যভাবে। প্রতিদিনের মত সকালে উঠেই অফিসে যাওয়ার তোরজোর শুরু করতে হয়নি। বসকে আগেই বলে রেখেছিলাম যে অফিসে আসব না।

তাই বেশ আয়েশ করে ৯টা পর্যন্ত ঘুমাতে পেরেছি। অবশ্য আরাম বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। কারণ গিন্নী ছুটি পায়নি। তাকে অফিসে যেতেই হবে। আর অফিসে দিয়ে আসার ভারটা আমার উপরেই পরেছে।

যাই হোক বাসা থেকে বের হতেই রিকসা পেয়ে গেলাম। যতই সামনে যাচ্ছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম। ঢাকা শহরের এইরূপ আগে কখনো দেখি নি। শুক্রবারেও এত ফাকা থাকে না। শাহবাগের ওখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ দেখলাম।

অল্প কয়েকটা বাস আসা যাওয়া করছিল। শাহবাগ থেকে একটু এগোতেই দেখলাম পিকেটাররা একটা যায়গায় জরো হয়ে বাসের উদ্দেশ্যে ঢিল ছুড়ছে। অবশ্য রিকসা যাত্রিদের প্রতি তারা মোটামুটি সহানুভূতিশীল ছিল। এমন সময় আমাদের পিছনদিক থেকে একটি বাস আসল। চালক একদম শেষ মুহুর্তে পিকেটারদেরকে দেখতে পেল।

ততক্ষণে গাড়ী ঘোরানোর সময় শেষ হয়ে গেছে। সে গাড়ী রেখে জানালা দিয়ে চম্পট দিল। যাত্রিদের মধ্যে শুরু হল তাড়াতাড়ি নেমে যাওয়ার প্রতিযোগীতা। এরমধ্যে কাঁচ ভাঙ্গা শুরু হল। কিছুক্ষনের মধ্যে গাড়ীতে আগুনও ধরানো হল।

আমরা রিকসা থামিয়ে বিকল্প পথ খুঁজছিলাম। এমন সময় পিকেটারদের আনন্দকে মাটি করে দিয়ে বেরসিক পুলিশের আগমন ঘটল। পিকেটাররা নিমেষেই পগার পাড়। বাসের হেল্পার তখন আগুন নেভাতে ব্যস্ত। আবার শুরু হল আমাদের যাত্রা।

আজকের হরতাল কতটুকু সফল হয়েছে জানি না। তবে বাস থেকে নেমে দৌড়ানোর সময় মানুষের চোখে যে আতঙ্ক আমি দেখেছি তা কোনদিন ভুলব না। এর মধ্যে দুএকজন মহিলাও ছিল। হরতালকারী দের বলছি, আর কিছু না পারলেও পেরেছেন মানুষের মধ্যে এই অবর্ণনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে। বর্তমান সরকার যখন বিরোধী দল হবে তখন তারাও আবার হরতাল ডাকবে।

এই হরতাল সংস্কৃতি কবে যে বন্ধ হবে!!!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।