আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার আব্বা

আল বিদা

১. এইচএসসি পরীক্ষার সময় স্ট্রাইক চলছিল। যারা পরীক্ষার্থী তারা এডমিট দেখিয়ে যেতে পরবে। আমার আব্বার অফিস আর আমার কলেজ একই দিকে ছিল। একসাথেই পরীক্ষার দিনগুলি যেতাম। পুরোটা পথ আব্বা আমার এডমিট কার্ড হাতে নিয়ে বসে থাকলেন।

২. এইচএসসির পর আমি ঢাকায় চলে আসছিলাম। বাস স্ট্যান্ডে একাই আসলাম। কিছুক্ষন পর দেখি আব্বা দূর দিয়ে হেটে যাচ্ছেন আর বাস কাউন্টারের দিকে তাকিয়ে আছেন। যদি আমাকে একটু দেখা যায়। আমি যে বড় হয়েছি আর কোন কাজ ভালভাবে করতে পারি এই বিশ্বাসটা তখনও আব্বার হয় নি।

৩. ১৯৮৩/৮৪ সালে আমি যখন খুব ছোট তখন একবার জ্বর হল। আমার মনে পরে আব্বা আমাকে কোলে নিয়ে বারান্দায় হাটাহাটি করত। আজ এত বছর পর এখনও আমার জ্বর হলে আব্বা সারাদিন পাশে বসে থাকে। ৪. বাসায় খুব পানির সমস্যা যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়ারও পানি থাকে না।

অফিসে আসার সময় ফ্রেস না হয়ে তো আর আসা যায় না। আব্বা তাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমার জন্য পানি এরেজ্ঞ করে রাখে। জন্ম থেকেই বাবার এই কেয়ারটা পাচ্ছি। আমার আব্বা খুব যে সুন্দর করে কথা বলার মানূষ বা আদর্শবান পিতা তা না। একটু রাগীই বলা যায়।

সুন্দর করে কথা বলা, রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা, বেড়াতে যাওয়া এমন কোন গুনই তার নাই। তবে তার রাগের মধ্যেও যে একটা কোমল হৃদয় আছে তা বড় হয়ে ফিল করি। এই যে আমার বয়স এত হয়েছে আমার আব্বার কেয়ার মনে হয় আরও বেড়েছে। অথচ এখন আমারই উচিৎ আব্বার এই কেয়ার নেয়ার। আমি এক অযোগ্য সন্তান।

তাই কিছুই করতে পারি নি।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।