আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভারতীয় সন্ত্রাস আর ভারতীয় জুজু উভয়ের অবসান চাই...

কখনো চাই নাই দূরে থাকি...তবু দূরগুলো বারে বারে আসে...

সীমান্তে শহীদ হান্নান সরকার আর শহীদ কৃষ্ণপদ'র প্রতি শ্রদ্ধা জানাইয়া এই লেখার শুরু... বিএসএফ'এর গুলিতে দুইজন বাঙালি সীমান্তরক্ষী বাহিনী পরবর্তীতে আরো দুইজন সাধারন নাগরিক নিহত হওনের পর সারাদেশে যা'ই হোক না ক্যান ব্লগীয় ভূমিতে তুমুল জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম শুরু হইছে দেইখা আমি একটু চমকাই...ভারত কি এই খুনের মধ্য দিয়া কোন নতুন রূপ দেখাইলো? এতো দিন কি বিএসএফ আমাগো সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিডিআর ভাইগো লগে আত্মীয় সম্পর্কীয় ছিলো!? সকলেই জানেন বিষয়টা আদৌ এইরম না...সাম্রাজ্যবাদী রূপ পরিগ্রহ করনের নিমিত্তে ভারত বহুত বছর ধইরাই তার পার্শ্ববর্তী দেশ গুলির সীমান্তে অরাজকতা চালাইয়া আসতেছে...কেবল বাংলাদেশ না সবগুলি দেশের রাজনীতিতেই তার হস্তক্ষেপ একটা নিত্ত নৈমিত্তিক আচরন... ভারতের এই খবরদারীমূলক আচরনের বিরুদ্ধে সবদেশেই ভারতবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অবস্থান আছে...তার ব্যত্যয় বাংলাদেশেও নাই। মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতের ভূমিকার কারনে হয়তো এই দেশে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তুলনামূলকতায় কিছু ভারতীয় সমর্থনের বাস্তবতা দেখা দ্যায়। তার বাইরে যা আছে সবটাতেই ভারতের মুন্ডুপাত! আর ভারতের এই সাম্রাজ্যবাদী প্রবনতা বাকী দেশগুলির মতোনই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলিও ব্যবহার করে সেই স্বাধীনতা লাভের কাল থেইকাই...নির্বাচনের আগে ভারতের জুজু দেখতে দেখতেই তো বয়স বাড়লো এই দেশে। আমাগো দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র হয় ভারতে, আমাগো সকল অপরাধীরা আশ্রয় পায় ভারতে, কোনরম অর্থনৈতিক সঙ্কট মানেই তার দায় ভারতের, বাজারে চাইলের দাম বাড়লে দায়ি ভারত...এইরম আরো কতো কি! এর অনেকটাই বাস্তবতা...ভারত আমাগো দেশের বর্তমান দূর্দশার লেইগা আসলেই দায়ি...কিন্তু অন্য একটা চিত্র আছে...আমাগো রাজনীতিবিদেরা উঠতে বইতে ভারতের বিরোধীতা কইরা জনগণের ম্যান্ডেট কামানের পরিকল্পণা কিম্বা কৌশল সাজাইলেও...তাগো ভারত মূখাপেক্ষি জীবন যাপন কি এখনো অজ্ঞাত মানুষের কাছে!? ভারতের মুখ চাইয়া আমাগো সকল বুর্জোয়া রাজনৈতিক শক্তি অবনত বইসা থাকে নির্বাচনের আগে...বাণিজ্যিক চূক্তি কিম্বা সকল সম্পদ বিনিময় চুক্তিতেই আমাগো রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখাপেক্ষি চরিত্রের সুযোগ নিয়া ভারত সবসময়ই আমাগো প্রতারিত করে। সীমান্তে নিয়োজিত বিডিআর বাহিনী'র লগে ভারতীয় বিএসএফের যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর শুইনা আসতেছি সেই শৈশব থেইকা...আজ পর্যন্ত কোন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলরে দেখি নাই এই সীমান্ত বিরোধের সমাধানে কোন যথার্থ উদ্যোগ নিতে...যেই কারনে আজো বিপদসঙ্কূলতা নিয়া আমাগো বিডিআর ভাইয়েরা সীমান্ত রক্ষার চেষ্টা করেন...তয় আবার তাগো মহান বানানের কোন চেষ্টাও আমি করতে চাই না...যেই চোরাচালান ব্যবসা চালান দেশের ক্ষমতাসীন বুর্জোয়ারা তার লগেও জড়িত জানি এই বাহিনীর অনেক সদস্যই...এইসব দোলাচলেই চলে সীমান্ত বিরোধের ধারাবাহিকতা... সীমান্তে ভারতীয় সন্ত্রাস নিয়া তাই ক্ষুব্ধ হইলেও চমকিত হইনা...জানি শাসক গোষ্ঠী এই বিরোধের কোন সুরাহা চান নাই কোন কালে...কোনকালে হয়তো চাইবেনও না...বরং মনযোগী হইয়া অবজার্ভ করি এই দেশের ধূর্ত রাজনীতিসেবীরা কেমনে ভারত বিরোধীতার নামে ফায়দা লুটনের ধান্দা করে...জরুরী অবস্থার নামে সকলের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কাইড়া নেওয়া হইলে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী নামে ভারত বিরোধীতার ছদ্মাবরনে দখলদারী মনোবৃত্তি নিয়া...মৌলবাদের প্রসারে, ধর্মভিত্তিক পশ্চাদ্পসারনে ভারতের জুজু আইসা উপস্থিত হয় অনায়াস সাবলীলতায়... ভারতীয় জুজুরে আমিও ডরাই...ভারতীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমিও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ দেখতে চাই...সে অর্থনীতি হোক-বাণিজ্য হোক-সীমান্ত বিরোধ হোক, সবখানে...কিন্তু ভারত নিয়া যেই সুবিধাবাদী রাজনীতি চলে...সেই রাজনীতির অবসান চাই!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.