আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রসঙ্গ আসিফ নজরুল

ভাষা ধর্ম বর্ণ আর আভিজাত্যে বিশ্ব আজ বহুধা খণ্ডিত। কেউ প্রথম বিশ্বের, কেউ তৃতীয় বিশ্বের। কেউ হিন্দু কেউ মুসলমান কেউবা হিন্দু.....এত জটিলতায় কাজ নেই। আমি মানুষ এবং একজন বাঙালি এটাই হোক আমার পরিচয়। এতেই আমি গর্বিত।



আজ প্রথম আলো’র সময়চিত্রে আসিফ নজরুলের লেখা একটি নিবন্ধ ছাপা হয়েছে- “আবার আওয়োমী লীগ সরকার”। অনলাইনে নিবন্ধের নিচে অনেক পাঠক মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্য করেছেন (১৪১)। এর অধিকাংশই আসিফ নজরুলের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে ঘোরতর সরকার বিরোধী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বিরোধী। কয়েকজন আসিফ নজরুলের লেখার নেতিবাচক সমালোচনা এবং তাঁকে বিএনপি-জামাত সমর্থক বলেও মন্তব্য করেছেন-- এসব মন্তব্যের প্রতি মন্তব্যই (মন্তব্যের জবাব) সবচেয়ে বেশি। দেখার জন্য এই লিংকে যান--- Click This Link বেশ কিছু মন্তব্য পড়ে আমারও কিছু লিখতে ইচ্ছে হলো, লিখলাম।

আশংকা করছি মডারেটরের হাতে মন্তব্যটির মৃত্যু হবে এবং তা প্রকাশ পাবে না। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মন্তব্যটি ‘অক্ষেমাণ’ রয়েছে------- তাই বিকল্প হিসেবে ফেসবুকেই মন্তব্যটি পোস্ট দিলাম------- আসিফ নজরুল সম্পর্কে অনেকেই খুব উচ্চ ধারণা পোষণ করে মন্তব্য করেছেন, করতেই পারেন। শিক্ষকদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই শিক্ষকের স্ববিরোধী আচরণ যখন উন্মোচিত হয় তখন আর তার সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করা যায় না। স্কাইপে ফোনালাপ হ্যাক এবং প্রকাশ করার ব্যাপারে তিনি আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে -- আবার তিনিই প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী নেত্রীর ফোনালাপ প্রকাশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন সংবিধানের দোহাই দিয়ে।

ওনার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হয়তো নেই-- কিন্তু উপযুক্ত সম্মানি সাপেক্ষে তিনি তার জ্ঞান ও মেধা কারও পক্ষে বিলোবেন না এর কি নিশ্চয়তা আছে। একটু ভালোভাবে ওনার লেখাটা পড়লেই বিএনপির প্রতি সহানুভূতি এবং সমবেদনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। ঢাকা মহানগর বিএনপির আন্দোলন গড়ে তুলতে না পাড়াকে ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করার মধ্যে তার অভিভাবকসুলভ আচরণ ফুটে উঠেছে-- কারণ আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত জোটের সহিংস তাণ্ডবের কথা তিনি উল্লেখ করেননি। রাজধানীতে কেন আন্দোলন ব্যর্থ হচ্ছে সে কথাও তিনি আড়াল করে গেছেন-- বিরোধী জোটের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করছে কিংবা মানুষকে আশাহত করছে-- তা তিনি বলছেন না। “বাংলাদেশে আসলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ইতিহাস নেই।

” এই কথার মধ্যেই আসিফ নজরুল নিজের পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগই উৎসবমুখর পরিবেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল এবং পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করেছিল। সংবিধান এবং গণতন্ত্রের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এমন নজির শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগই দেখিয়েছিল। কিন্তু আসিফ নজরুল কেন তা বলবেন? কারণ সত্য কথা বললে আওয়ামী লীগেরই গুণগাণ করতে হয়-- তাই প্রকারন্তরে মিথ্যাই বলে ফেললেন-- “বাংলাদেশে আসলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ইতিহাস নেই। ”-- বাক্যের মধ্যে ‘আসলে’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন ধূর্ততার সাথে, অর্থাৎ মিথ্যা তথ্যটি জানিয়ে দিলেন একটু ফাঁক রেখে..... এ কারণেই তিনি জ্ঞানী এবং প্রথম আলোতে তাঁর এত কদর।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।