আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাওয়াজ্জুহ বা নূর কি? এবং মানব দেহের ক্বলবে তাওয়াজ্জুহ প্রতিফলন (৪)

[ মি'রাজ বা নভোভ্রমনে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামঃ- নবুয়তের দশম বৎসরে হযরতের (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) পঞ্চাশ বৎসর বয়ঃক্রমকালে আল্লাহপাক তাঁকে স্থুল-সুক্ষ জগতের (আলমে খালক ও আলমে আমর) শেষ সীমানা পেরিয়ে সিফাত জগত, শান জগতের ঊর্ধ্বে স্বীয় সান্নিধ্যের চির-স্নিগ্ধ, চির মনোরম অপূর্ব জ্যোতিময় হেরেমে নিয়ে আত্নরূপ দর্শন করালেন। প্রেমাস্পদের সাথে আনেক কথা বললেন। স্বীয় মহিমা ও সৃষ্ঠি রহস্যকে তন্ন তন্ন করে দেখালেন। ভূত-বর্তমান ভবিষ্যৎকে একই প্লাটফর্মে উপস্থাপনার মাধ্যমে হযরতের (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বিশ্বজনীন কালোত্তীর্ণ রূপকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করলেন। আল্লাহ্‌তে বিলীন হওয়া নয় বরং আল্লাহর শক্তিতে শক্তিমান হয়ে আবার নিজের মাঝে ফিরে আসার মাধ্যমে মানবাত্নার জয় ঘোষণা করলেন।

এই মহাসফরের প্রাক্কালেও আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাঈল আমীন (আঃ) মারফত হজরত হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের হৃদয়কে শক্তিশালী করে নিয়েছিলেন। হজরত হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের চারবার সিনা চাকের উল্লেখ আছে। ‘কৈশোর অন্তে যৌবনের আগমন’-এর অব্যবহিত পূর্বেও একবার ‘সরহে ছদর’বা বক্ষ-সম্প্রসারণের হয়েছিলো- উদ্দেশ্য, মানবীয় স্বভাব থেকে নিরাপত্তা সাধন, মানবরূপে আবির্ভাবহেতু সৃষ্ঠ মানবীয় পর্দার অপসারণ। হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের একাধিক বক্ষ বিদারনের ঘটনা সমূহ তাই ইসলামী জীবন ব্যবস্থার সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত এক বৈশিষ্ট্যময় অধ্যায়। একবার হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আল্লাহতায়ালার কাছে জানতে চেয়েছিলেনঃ ‘হে আল্লাহ, আপনি সকল পয়গান্বরকেই এক-একটি বিশেষগুন দান করেছেন।

আমার বিশেষত্ব কি?” তখনই নিম্মোক্ত আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হয়ঃ “আমরা কি আপনার বক্ষ –সম্প্রসারিত করিনি এবং আপনার পৃষ্ঠদেশের ভার লাঘব করিনি”, সুরা-ইনশিরাহঃ ১,২। সাইয়েদুল মুরসালিন, রাহমাতুল্লিল আলামিনকে পার্থিব ক্লেদ মুক্ত রাখার জন্যে যদি প্রয়োজন হয় চার চারটি বার শক্কে ছদরের (বক্ষ –অপারেশনের), তাহলে সিনা- পরিস্কৃতির শিক্ষাকে এডিয়ে চলার নীতি অনুসরণে মুসলিম জাতি আর কতটুকু বা অগ্রসর হবে। সিনা-ব-সিনা তাওয়াজ্জুহ প্রাপ্তির কোরানি ব্যবস্থাপনায় ঔদাসীন্য প্রদর্শনে শুধু পুস্তক-লব্দ জ্ঞানের দৌড় আর কতটুকুই হবে। নূরে ইলাহির ঔজ্জ্বল্য থেকে পলায়নের আত্ন প্রবঞ্চনা মুসলিম জাতির ভাগ্যে আর কতদিন বিরাজ করবে, নিজে ‘তাজকিয়ায়ে নাফস’ বা আত্ব শুদ্দির পথে না চলে অপরকে পবিত্র করার বা চরিত্রবান হওয়ার আইন প্রয়োগের প্রহসন জগতবাসী আর কত দিন দেখবে? মুসলিম জাতি আজ তাঁর একটি ডানা হারিয়ে আহত পাখির ন্যায় স্বস্থানে ঝাপটে মরছে, উড্ডয়নের হিম্মত হারিয়ে কোনমতে বেঁচে আছে। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বেমালুম ভুলে গেছে।

বস্তুতঃ হৃদয়ের প্রসারন ব্যতীত কোন সময় কোন বৃহৎ সত্যের বাস্তবায়ন চরিতার্থ হয় না। কলব পূর্ণ বিকাসিত হলেই অসীমের ধ্যান হয়ে উটে বিমূর্ত, দিব্যদৃষ্ঠি হয় উম্মীলিত, আল্লাহর প্রেম-সুন্দর রূপ হয়ে উঠে উদ্ভাসিত; আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্বভার(আমানত) গ্রহণে হওয়া যায় সংকল্পবদ্ব। হৃদয়-সম্প্রসারণের মাত্রার নিরিখেই অলি-আল্লাহ, গাউস-কুতুব মহাত্বাগনের মূল্যায়ন নির্ণীত হয়। তাই, কি ব্যক্তিক, কি সমাজিক, কি রাষ্ঠ্রিক- সর্বক্ষেত্রে ইসলাম সম্মত জীবন-যাপনে প্রয়াসীগনের জন্যে প্রথমে প্রকৃত মোকাম্মেল অলীর নিকট হতে তাওয়াজ্জুহ গ্রহণ পূর্বক হৃদয় প্রান্তর ঊম্মূক্ত করার মাধ্যমে নিজের মাঝে ঐশিগুনাবলির (তা’খাল্লাকু বে-আখলাকিল্লাহ) সমাবেশ ঘটানো অপরিহার্য। সূর্য থেকে আলো সংগ্রহ করে চাঁদ রাতে তাঁর কিরণ জগতবাসীকে করে বিতরণ।

অলীয়ে কামেলগন ‘নূরে ইলাহির’তীব্র ঔজ্জ্বল্য থেকে নূরে মোহাম্মদির কমনীয়-রমণীয় স্নিগদ্বতা আকাংখীগনের মাঝে বিতরণ করেন, এ এক অনুপম প্রক্রিয়া। । প্রকৃত পক্ষে মুসলমানের বৈশিষ্ট বা শ্রেষ্ঠত্ব কিসে? আথবা মানবেরই শ্রেষ্ঠত্ব কিসে? ফেরেশতা মণ্ডলীর নিরলস এবাদত-বন্দেগী, পশুর কৌশল-বুদ্দি, পাখির শৈল্পিক-নৈপূর্ণ, কুকুরের প্রভু ভক্তি, শয়তানের কুটবুদ্দি, শীত গ্রীস্মের তাডনা হতে পশু-পাখির অমুখাপেক্ষি ইত্যাদির নিরিখে তুলনামুলক আলোচনায় মানুষ এদের অপেক্ষায় মোটেই নয় অগ্রবর্তী। মানুষ প্রকৃত পক্ষে হৃদয় প্রসারনের নিরিখেই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আল্লাহ পাক এরশাদ করেনঃ "আল্লাহ যাকে হেদায়েত করতে চান,তার বক্ষকে ইসলামের দিকে উম্মুক্ত করে দেন"-(সুরা-আনামঃ১২৫) অতএব, হেদায়েত প্রাপ্তির জন্যে বক্ষের উম্মুক্ততা অতীব প্রয়োজনীয়।

"আল্লাহ যার বক্ষকে ইসলামের জন্যে প্রসারিত করছেন, তিনি তাঁর প্রভুর নূরের ভিতর অবস্থান করেন"(সুরা-যুমারঃ২২) (চলবে) ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৬ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.