আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিজ্ঞানের আলোকে কলবে তাওয়াজ্জুহ বা নূর ঢোকার সত্যতাঃ

[ অনেকে মনে মনে প্রশ্ন করেন পীর সাহেবের মুখোমুখি বসে তাওয়াজ্জুহ নেওয়ার সময় অর্থাৎ তাওয়াজ্জুহ বা নূর যে বুকের ভেতর বা লতিফা সমূহে কোন ছিদ্র না করে বা সিনাকে না কেটে ঢুকে, এর সত্যতার ভিত্তি কতোটা মজবুত? যারা সর্বদা এই সন্দেহ বা ধারনা পোষণ করেন, তারা নিশ্চয় এক্সরে’র ধর্ম ও শক্তির প্রতি দৃস্টিপাত করলে এর সত্যতা সহজেই বুজে উঠতে পারবেন। বুকে কোন ছিদ্র নাকরে না কেটে এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মি যদি রোগীর দেহভ্যন্ত্রেরস্থ রোগের ছবি তুলে আনতে পারে তাহলে ওঁই রঞ্জন রশ্মি র চেয়ে হাজার হাজার গুণ শক্তিশালী তাওয়াজ্জুহ বা নূর মানুষের বুকের ভেতর বা লতিফায় পৌছতে কেনোইবা বিকল্প ছিদ্রের প্রয়োজন হবে? তাছাড়া ও রঞ্জন রশ্মি অপেক্ষা তাওয়াজ্জুর নূর যে হাজার হাজার গুণ শক্তিশালী, তা নিচের উদাহারনটির প্রতি খেয়াল করলে বোঝা যাবে। রঞ্জন রশ্মি ঃ ১। এই রশ্মি মানব দেহের নরম অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে গিয়ে কোনো হাড় অথবা ক্ষতস্থানের ছবি তুলে আনতে সহায়তা করে। ২।

হাড় বা টিউমারের মধ্য দিয়ে এ রশ্মি ঢুকতে পারেনা এবং একস্থান থেকে দূরবর্তী অন্যস্থানে অর্থাৎ একদেশ থেকে অন্যদেশে এ রশ্মি নিক্ষেপ করা যায় না। ৩। মানব দেহের ভিতর এ রশ্মির স্থায়িত্ব নেই। তাওয়াজ্জুহ বা নূর ঃ ১। নূর মানব দেহের নরম এবং কঠিন উভয় অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে যেতে পারে।

২। নূর হাড় বা টিউমার ছাড়াও কাঠ, ইট এমনকি লৌহের প্রাচীর ভেদ যেতে পারে অতি সহজে। এমনকি একদেশ থেকে অন্যদেশে অর্থাৎ পৃথীবির যে কোনো প্রান্তে ইহা নিক্ষেপ করা যায়। ৩। মানব দেহের ভিতর তাওয়াজ্জুহ বা নূরের স্থায়িত্ব আছে।

এখানে আরো একটা কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সাধারন আলো দৃশ্যমান; কিন্তু বুকের ভিতর ঢোকার ক্ষমতা সম্পন্ন এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মি দৃশ্যমান নয়। অনুরূপ ভাবে তাওয়াজ্জুহ ও বুকের ভেতর ঢোকার ক্ষমতা সম্পন্ন এবং তা ও দৃশ্যমান নয়। তবে কোনো রোগীর বুকের ভেতরে এক্স-রে করার পর, ডাক্তারেরা যখন ফ্লিম দেখে রোগ সনাক্ত করেন এবং তখনই রোগি তাঁর বুকের ভেতর যে, রঞ্জন রশ্মি ঢুকেছে তা এক্স-রে ফ্লিম বা ডাক্তারের রিপোট দেখেই সহজে বিশ্বাস করতে পারেন। তাওয়াজ্জুহর ব্যাপারটিও অনুরূপ। তাওয়াজ্জুহ বা নূর যখন মুরীদের ক্বলব বা অন্যান্য লতিফায় ঢুকে ( গরম, ঠাণ্ডা বা শীতলতা, কম্পন বা নড়াচড়া ও ভারী ইত্যাদি) বিভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি করে এবং মুরীদেরা তা নিজেদের লতিফা সমূহে অনুভব করতে পারে।

তখনই বিশ্বাস করতে পারে যে, সত্যি তাদের বুকের ভিতর নতুন কোনো কিছুর ভিত নির্মিত হয়েছে। আর তখনই ব্যবহারিক ক্ষেত্রে তাওয়াজ্জুর রহস্যের সত্যতা তাদের কাছে দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে ওঠে। স্মর্তব্য যে, সকল পীর অলীর পক্ষে তাওয়াজ্জুহ বা নূর অপরের লতিফায় কিংবা ক্বলবে নিক্ষেপ করা সম্ভব নয়। আল্লামা শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী(রহঃ)বলেন, “পীর সাহেবকে আগে নিজের লতিফায় (ক্বলব,রুহ,সির,খফি ইত্যাদি)কিংবা সর্বাঙ্গে জিকির জারী করে নিজেকে মোরাকাবা বা ধ্যানের নূরে আলোকিত করতে হয়, তারপরই আশেক মুরিদের ক্বলব বা অন্যান্য লতিফা কিংবা সর্বাঙ্গে ওই নূর নিক্ষেপ করা যায়”। হযরত মাওলানা শাহ্‌ আবদুল আজিজ দেহল্ভী(রহঃ) তাঁর অন্যতম গ্রন্থ “তফসীরে ফতহুল আজিজ” এ লিখেছেনঃ পীরে কামেল ও অলি আল্লাহদের তাওয়াজ্জুর নামক আত্মার মহাশক্তির এ প্রক্রিয়াকে চার ভাগে বিভক্ত করে চারশক্তিতে রূপান্তরিত করেন, সেগুলো হল-(১) এনয়েকাসী, (২) এলকাইয়ী, (৩) ইছলাহী ও (৪) এত্তেহাদী।

এত্তেহাদী তাওয়াজ্জুহ হলো সবচেয়ে শক্তি সম্পন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ তাওয়াজ্জুহ যথাযথভাবে কোনো পাপী লোকের ক্বলবে নিক্ষেপ করতে পারলে, মুহূর্তের মধ্যে ওঁই লোক আল্লাহর অলি ও হয়ে যেতে পারে। আবার অযোগ্য ও অনুপযুক্ত মুরিদের ক্বলবে এই তাওয়াজ্জুহ নিক্ষেপ করলে প্রতিক্রিয়ায় মুরিদের মৃত্যুও হয়ে যেতে পারে। তাই কামেল পীর ছাহেবেরা সাধারণত এ তাওয়াজ্জুহ নিক্ষেপ করেন না। তাওয়াজ্জুহ প্রদান পদ্দতিঃ স্থান ও ক্ষেত্র বিশেষে প্রকৃত পীর অলিদের ওঁই তাওয়াজ্জুহ বা আত্মার শক্তি প্রদান পদ্দতিকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা যায়।

সেগুলো হলো, (১) তাওয়াজ্জুহ বিল হাজির, (২) তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব। (চলবে) ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.