আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাওয়াজ্জুহ বা নূর কি? এবং মানব দেহের ক্বলবে তাওয়াজ্জুহ প্রতিফলন (২)

[ পূর্ব প্রকাশের পর আমরা জানি, আল্লাহর প্রেম প্রসূত প্রথম সৃষ্ঠি ‘নুরে মোহাম্মদী’ হতেই জগতের সৃষ্ঠি; এখানে জ্ঞাতব্য বিষয় হলোঃ নূরে মোহাম্মদী হতে জগতের সৃষ্ঠি- জিসমে মোহাম্মদী হতে নয়। জিসমে মোহাম্মদী প্রথম সৃস্ট নুরে মোহাম্মদীর ধারক হওয়াতেই সর্বচ্চো মর্যদাসমন্ন হয়ে আছেন। তাইতো আমরা দেখি, মা আমেনার পূর্ণ কুঠিরে হযরত মোহাম্মদ(সঃ) ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আনা রাসুলুল্লাহ-আল্লাহ ছাড়া উপাস্য নেই, আমি আল্লাহর রাছুল’ না বলে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদূর রাসুলুল্লাহ’ই পড়তেন অর্থাৎ আবদুল্লাহ তনয় হযরত মোহাম্মদ(সঃ) তাঁরই ভিতরে রক্ষিত ‘নুরে মোহাম্মদী’ নবুয়তি বিকাশকে ঘোষণা করেছেন- কলেমা তৈয়্যেবাহ পাঠ করেছেন। কোরআন পাকে বর্ণিত ‘নবীর হাত’ হলো নবুয়তের হাত, যা কোন রক্ত মাংসের হাত নয়, যেমনি ভাবে আল্লাহর হাত ও রক্ত মাংসের হাত নয়। (বর্তমান জমানার কিছু মুনাফিকের মত)বিধর্মীরা দেখেছিলো মক্কার হযরত মোহাম্মদ(সঃ) এর সুরতযুক্ত হাত; দেখেনি নবুয়তের হাত।

নিরাকার নবুয়তের হাত দেখতে পেলে, তারা নিরাকার আল্লাহর হাতও দেখতে পেতো। তাই সর্বজ্ঞানে মাহাজ্ঞানী নবী(সঃ) কে জানতে, বুজতে, চিনতে ও অনুসরণ করতে আমাদেরকে শুধু বা মদিনার নবীকেই দেখলে চলবেনা-তাঁর স্থূল অবস্থার পিছনে সুক্ষ এবং সুক্ষাতিসুক্ষ অবর্ণনীয়, অব্যক্ত, অপরূপ অবস্থাদির সাথে পরিচিত হতে হবে। তাই, হযরত মোহাম্মদ(সঃ) এর অনুসরণের যে আদেশ আছে তা তাঁর আভ্যন্তরীণ নুর তথা নবুয়তেরই আমানতের জন্য। নবুয়তরুপী প্রিজমের ভিতর দিয়ে না দেখলে হযরত মোহাম্মদ(সঃ) কে বোঝা যাবেনা। হযরত নবী করীম(সঃ) এর ভিতর আল্লাহর নূর গচ্ছিত,আর কামেল আরেফ গন ‘ওয়ারেসান’ হিসাবে সেই নূরের কামালতপ্রাপ্ত হয়ে থকেন- ভাগীদার হয়ে থাকেন।

নবুয়তের দরজা বন্দ্ব, নবীর আগমনও চির রহিত- কিন্তূ নবুয়তের কামালত থাকবে চির প্রবাহিত। এই কামালতকে যদি ‘পীরত্ব’ নামে অভিহিত করা হয়, তাহলে পীরত্ব পাত্রস্থ হলে সে পাত্রকে বলা হয় পীর, যেমনিভাবে নবুয়ত পাত্রস্থ হলে সে পাত্র হয় নবী। পীরে ফানা হওয়া মানে পীরের মধ্যে গচ্ছিত আমানতে ফানা হওয়া। অর্থাৎ আমানতরুপ নূরে ফানা হওয়া। এখানে পীরের শরীর লক্ষ্য নয়,পীর এখানে ব্যাক্তি নন- ব্যাক্তি পুজার আতঙ্ক এখানে অবান্তর,অমূলক।

তবে পাত্র হিসাবে আমানতের আধার হিসাবে পীরের শরীরেরও যথেষ্ট মর্যদা রয়েছে। লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে, যখন শুনতে পাই মুসলিম নামধারীরা পীরকে গালি দিচ্ছে,ঝগডা বাঁধছে, দলাদলি করছে। পীর শুধু শরীরযুক্ত মানুষ নয়। পীরের প্রকাশিত জোতিরদেহ আলমে আমরে দেখা চাই। প্রকৃত ব্যাপার হল, অশরীরী পীরত্বের সম্মুখে অশরীরী মুরিদ নবজাতক শিশু হিসাবে দন্ডায়মান।

পীর সর্বদা এ শিশুর দিকে লক্ষ্য রাখেন এবং সর্বদিক দিয়ে হেফাযত করে কিছুটা বড় করে তুলে নবীর পাঠশালায় ভর্তি করায়ে দেন; অর্থাৎ ছবকদির মাধ্যমে পীরের অভ্যন্তরস্থ সুক্ষ আমানতের প্রভাব মুরিদের মাঝে সুক্ষভাবে উৎকীর্ণ করে দেয়ার পর্যায়ে মুরীদ ক্রমশঃ পীরের কামালতের হিসসাপ্রাপ্ত হতে থাকে। এভাবে আত্নিক শৈশবাবস্থা উত্তীর্ণের পর কৈশোরাবস্থার আগমন ঘটে, যা হলো ফানা-ফির-রাসুলের মাকাম। আর ফানা-ফির-রাসুলের মাকাম থেকে ফানাফিল্লার মাকামে উত্তীর্ণের ব্যাপারটি যেনো স্বয়ংক্রিয়। রাসুলকে ভালোবাসতে পারলে আল্লাহর ভালোবাসা এসে যায় আপনা আপনি। কেননা, রাসুলের আনুগত্যের মাঝেই আল্লাহর প্রেম নিহিত; ভালোবাসা না থাকলে আনুগত্য হয় না যথার্থ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.