আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাওয়াজ্জুহ প্রদান পদ্দতি ও তাওয়াজ্জুহর অনুভুতি

[ তাওয়াজ্জুহ প্রদান পদ্দতিঃ স্থান ও ক্ষেত্র বিশেষে প্রকৃত পীর অলিদের ওঁই তাওয়াজ্জুহ বা আত্মার শক্তি প্রদান পদ্দতিকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো, (১) তাওয়াজ্জুহ বিল হাজির, (২) তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব। (১) তাওয়াজ্জুহ বিল হাজিরঃ খাঁটি পীর ছাহেব স্বীয় মুরীদকে মুখোমুখি চোখ বন্দ করিয়ে বসিয়ে নিজের ক্বলব থেকে মুরীদের ক্বলবে যে পদ্দতিতে আত্মার শক্তি, যিকির বা নূর নিক্ষেপ করেন সেটাকে তাওয়াজ্জুহ বিশিষ্ট ত্বরিকতের পরিভাষায় তাওয়াজ্জুহ বিল হাজির বলা হয়। (২) তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েবঃ প্রকৃত পীর ছাহেবেরা তাদের নীজ খানকা থেকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, হাজার হাজার মাইল দূরে অর্থাৎ পৃথিবীর যে প্রান্তে অবস্থানরত মহিলা বা ক্ষেত্র বিশেষ পুরুষ মুরিদদের লতিফা সমুহে যে পদ্দতিতে আত্মার শক্তি, যিকির বা নূর নিক্ষেপ করেন সেটাকে তাওয়াজ্জুহ বিশিষ্ট ত্বরিকতের পরিভাষায় তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব বা অদৃশ্যভাবে আত্মার শক্তি নিক্ষেপ করণ বলা হয়। এ কথা উল্লেখ্য যে সকল পীর,অলীর পক্ষে তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব দেওয়া সম্ভব নয়।

কারন তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব দেওয়ার সেই বিশেষ ক্ষমতাটি পীর ছাহেবকে সু-কঠিন রেয়াজত বা সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এলহাম হওয়ার পর অর্জন করতে হয়। সে জন্য সুফিবাদে তাওয়াজ্জুহ বিল গায়েব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষনীয় বৈশিষ্ট্য বলে বিবেচিত। তাওয়াজ্জুহ বা নূর যখন মুরীদের ক্বলব বা অন্যান্য লতিফায় ঢুকে ( গরম, ঠাণ্ডা বা শীতলতা, কম্পন বা নড়াচড়া ও ভারী ইত্যাদি) বিভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি করে এবং মুরীদেরা তা নিজেদের লতিফা সমূহে অনুভব করতে পারে। মুরিদের লতিফায় উপরোক্ত চার প্রকারের যে কোনো একটি অনুভুতির সৃষ্টি হলে বুঝতে হবে তাওয়াজ্জুহ বা নূর ওঁই লতিফায় ঢুকেছে এবং জিকির যারী হয়েছে। অনেকের মনে মনে প্রশ্ন জাগে; তাওয়াজ্জুর সাথে গরম, ঠাণ্ডা, কম্পন ও ভারী এগুলোর সম্পর্ক কি? এসব অনুভুতি কোরআন, হাদিস ও বিজ্ঞানের আলোকেও প্রমানিত।

যার প্রমান নিম্মে উল্লেখ করা হলঃ ভারি অনুভুতি হওয়াঃ- আল্লাহপাক এরশাদ করেন, “ইন্না ছানুলকি আলাইকা কাউলান ছাকিলা” অর্থাৎ আমি আপনার (রছুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) প্রতি ভারি কালাম অবতীর্ণ করবো। এখানে ভারি কালাম দ্বারা প্রবিত্র কোরআন তথা ওহীকে বুজানো হয়েছে। উল্লেখ্য ওহী হলো আল্লাহ প্রদত্ত এক প্রকার ঐশী নূর। তাই আল্লাহ পাক এরশাদ করেন “ওয়া আনজালনা ইলায়কুম নুরাম মুবীনা”। আমি তোমাদের উপর এক প্রকার উজ্জল নূর অবতীর্ণ করেছি।

এখানে “নুরাম মুবীনা” দ্বারা পবিত্র কোরআন তথা ওহীকে বোঝানো হয়েছে। মোফাচ্ছেরীন কেরামদের মতে, কোরআনকে ভারি কালাম বলার কয়েকটি কারন আছে। তম্মধ্যে উল্লেখ্য যে, কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বিশেষ ‘ওজন ও ভারি’ অনুভব করতেন। হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,উটের ওপর সওয়ার অবস্থায় হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নিকট ওহী নাযিল হলে ওহীর ওজনে উট হাটতে পারতোনা। যার কারনে হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম উট থেকে নেমে যেতেন।

এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) কোরআন পাকের এই আয়াতটি তেলাওয়াত করেন, “লা ইয়াস্তাবি কায়েদুনা মিনাল মেনীন” এর অন্তর্গত উলীদ্দারারে অংশটি অবতীর্ণ হওয়ার সময় হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মাথা মোবারক বিশিষ্ট সাহাবী হযরত জায়েদ বিন ছাবেত(রাঃ) এর রান মোবারকের ওপর ছিল। জায়েদ বিন ছাবেত(রাঃ) বলেন, সে সময় ওহীর ওজনের কারনে আমার রান ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ বর্ণনা থেকে প্রমানিত হয় যে, ওহীর প্রভাব ভারি অর্থাৎ ওজন বিশিষ্ট। গরম অনুভুতি হওয়াঃ- বোখারী শরীফের প্রথম দিকে হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে একটি হাদিছ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, খুব ঠাণ্ডার মওসুমে হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী অবতীর্ণ হওয়ার প্র নবীজির কপাল মোবারক থেকে প্রচুর ঘাম বের হতো।

এ ঘটনার আলোকে এ কথাই প্রমানিত হয় ওহীর প্রভাবে হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নিকট গরম অনুভুত হতো এবং দেহ মোবারক থেকে ঘাম বের হতো। কম্পন অনুভুতি হওয়াঃ- বোখারী শরীফের উল্লেখ করা হয়, “ফারাজায়া বিহা রাসুলুল্লাহে সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ওয়া ইয়ারজুফু ফুয়াদুহু” অর্থাৎ হেরা পর্বতের গুহায় হুজুরেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী আসার সময় তাঁর ক্বলব মোবারক নড়াচড়া বা কম্পন করতে থাকতো। মুলতঃ এটাও ছিলো ওহীর তাছির বা প্রভাব। উল্লেখ্য, নূরের তাছিরের প্রভাবে বা শক্তিতে ক্বলব, অন্যান্য লতিফা কিংবা কোনো বস্ত যে, নড়াচড়া বা কম্পন করে তা নয়, এমন কি দেরিতে হলেও ১৯০২ খৃষ্টাব্দে বিখ্যাত বিজ্ঞানী লেবেডু বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে আলোর প্রভাব বা শক্তি প্রয়োগ করে একটি পাতলা প্লাটিনাম ফলককে নড়াচড়া বা ঘুরিয়েছেন। ঠাণ্ডা অনুভুতি হওয়াঃ- উল্লেখিত রেওয়ায়তে আরো বর্নানা করা হয় যে, ওহী নিয়ে আসার পর আল্লাহর রসূল(সাঃ) হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) ‘র কাছে গিয়ে তাঁকে সম্বোধন করে বলতেন “যাম্মেলুনি, যাম্মেলুনি” অর্থাৎ আমাকে কম্বল জডিয়ে দাও, আমাকে কম্বল জডিয়ে দাও।

সাধারণত মানুষের শরীরে ঠান্ডা অনুভুতি হলে ঠান্ডা থেকে রক্ষার্থে কম্বল বা চাদর চায়, অতএব হুজুরেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নিকট ওহীর তাছির বিরাজমান থাকার কারনে তিনি গায়ে জড়াবার জন্যে কম্বল খুঁজেছিলেন। (চলবে) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.