আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাওয়াজ্জুহ বা নূর কি? এবং মানব দেহের ক্বলবে তাওয়াজ্জুহ প্রতিফলন(১)

[ তাওয়াজ্জুহ বা নূর কি? ঈমান না আনার আগে হযরত ওমর ফারুক(রাঃ)ও হযরত ফোজালা বিন আমর(রাঃ)প্রিয় নবী হুজুর পাক(সঃ)উপর প্রচন্ড হিংসা ক্ষোভের বশীভুত হয়ে হত্যা করতে গিয়ে, যে জিনিষ বা শক্তির বৌদলতে জিঘাংসার পরিবর্তে প্রবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন,তাহাই ছিল মুলতঃ তাওয়াজ্জুহ বা নূর। মানব দেহের ক্বলবে হক্কানি পীর, অলি হইতে নিক্ষিপ্ত তাওয়াজ্জুহ বা নূর সরবরাহ করণ পদ্দতি সম্পর্কে জানবার আগে ক্বলব সম্পর্কে সম্যক ধারনা নেওয়াই হবে বুদ্দিমানের কাজ। ক্বলব সম্পর্কে তেমন ধারনা থাকলে, তাওয়াজ্জুহ কিভাবে, কোন গতি প্রকৃতিতে পীর মাশায়েখের সিনা থেকে মুরিদের ক্বলবে গিয়ে পোঁছে এবং বিভিন্ন রকমের অনুভব অনুভুতির সৃষ্ঠি করে তা বোঝা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হবে। মানব দেহের নিয়ন্ত্রণকারী হচ্ছে ক্বলব। ক্বলবের ইঙ্গিতে মানুষের কর্মজীবন পরিচালিত হয়।

ক্বলবে যদি কু-ভাব,কু-ধারনা থাকে তাহলে মানুষের কাজও হয় অপ্রবিত্র কলুষিত। তাই আল্লাহপাক বলেন-“ইউয়াছ বেছু ফি ছুদুরিন্নাছে” মানুষের ক্বলবে শয়তান ধোঁকা দিয়ে থাকে। ক্বলব পরিষ্কারের ওই স্পিরিট বা মহৌষধ হযরত মুহাম্মদ(সঃ)এর আদর্শে উদ্বুদ্দ হাক্কানী পীর অলিদের সিনায় ছাডা পিথিবীর আর কোন চিকিৎসক বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীর কাছে পাওয়া যাবে না। এই মহাওসুধ বা নুরের সংযোগ যে ব্যক্তি পায়, সে যদি আন্তরিকতার শিয় গুরত্ব সহকারে সেই নুরের হেফাজত করতে সক্ষম হয়, তাহলে মহান আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকেই ওই ব্যক্তির কলবে আল্লার সৃষ্ঠি জগতের গোপনীয় রহস্যবলী দেখানোর জন্য দেখার বৈশিষ্ট্য সমন্বিত চোখ বা দর্পণ খুলে দেওয়া হয়। তখন ওই ব্যক্তি এমন কতোগুলো রহস্য সম্পর্কে অবগত হয় বা দেখে, যা অন্যকারও পক্ষে দেখা সম্ভব হয় না।

মহান আল্লাহপাক এ সমস্ত মানুষ গুলোকে কোরআনের কোনো জায়গায় ‘বন্দু” আবার কোনো জায়গায় “মোর্শেদ” নামে অভিহিত করেছেন। কিন্ত তাসাউফ তত্তে আল্লাহ্‌র সেই বন্দুদেরকে “সুফী” বলা হয়। আল্লাহ্‌র এই বন্দুরা যে শক্তির জোরে বা যে জিনিষের প্রভাবে আল্লাহ্‌র গোপনীয় জগৎ সম্পর্কে জানতে পারে, সেই শক্তি হল রূহানী শক্তি এবং সেই জিনিষ হল কলব। হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী(রহতাঁর কিমিয়ায়ে স’আদত গ্রন্থে লিখেছেন,মোমেন ব্যক্তির কলব দর্পণতুল্য, লওহে মাহফুজ ও দর্পণ সরূপ। এতে বিশ্বের যাবতীয় বস্তু ও ঘটনার ছবি অংকিত আছে।

একটি স্বচ্ছ আয়নায় যেমন চিত্রিত আয়নার ছবি প্রতিপলিত হ্য়,তদ্রুপ নির্মল আত্নায় ও লওহে মাহফুজের সমস্ত ঘটনা ও ছবি দেখা যায়। হযরত ইমাম গাজ্জালী(রহ’র কথাটির উল্লেখযোগ্য শর্তটি হল, আগে কলব পরিষ্কার করতে হবে। তারপরই লওহে মাহফুজের ছবি ওই কলবে দেখা যাবে। হযরত ইমাম গাজ্জালী(রহএর উক্তির সাথে বিজ্ঞানী কেপলারের তত্ত্বানুস্নদানের যে এমন সামঞ্জস্যতা রয়েছে, বলার অবকাশ রাখে না। অনুরুপভাবে আরবীয় বিজ্ঞানী আল হাসান, স্যার আইজ্যাক নিউটন, হাইগেন,ইয়ং ফেনেল ও অন্যান্য বিজ্ঞানীরা ও দীর্ঘদিন গবেষণা করার পর বলেছেন, “আলো এক প্রকার বাহ্য শক্তি যা মানুষের চোখে ঢুকার সাথে সাথে দর্শনের অনুভুতি জম্মায়”।

“বাহ্য বস্ত থেকে আলো আগে মানুষের চোখে ঢুকে, তাঁরপরই মানুষ বিভিন্ন কি’ছু দেখার ক্ষমতা লাভ করে”। হযরত শেখ ছেইয়দ আবদুল কাদের জিলানী(রহঃ) “সিররুল আসরার” গ্রন্থে লিখেছেন, “মানবদেহের কলবে দুটি চোখ আছে, একটি বড়,একটি ছোট, ছোট চোখ দিয়ে সিফাতের নূর সমূহ আল্লাহপাকের নূর এবং বড় চোখ দ্বারা আলমে তাওহিদের নূর দ্বারা মহান আল্লাহ্‌র নূর সমূহ অবলোকন করে”। তাসাউফ বিজ্ঞান ও বলেছে, বাইর থেকে নিক্ষিপ্ত আলো বা নূর মানব দেহের কলবে স্থান নেওয়ার পর অনুরনিত যিকিরের মাধ্যমে মোরাকাবা বা মোশাহাদায় সৃষ্ঠি জগতের অনেক গোপনীয় রহস্য মানুষ দেখে থাকে এবং জানতে পারে। তাসাউফ বিজ্ঞান ও বলেছে বাইর থেকে নিক্ষিপ্ত আলো আসার উৎসই হল মোর্শেদ বা পীর সাহেব। যারা আধ্যাত্নিক শক্তির জোরে মুরিদদেরকে মুখামুখি বা দূরবর্তী স্থানে বসিয়ে, নিজের কলব থেকে তাওয়াজ্জুর মাধ্যমে মুরিদদের কলবে জিকির, নূর বা আলো নিক্ষেপ করেন।

ফলে নিক্ষিপ্ত ওই আলোর প্রভাবে কলবের চোখের পর্দা সরে গেলে এবং যথানিয়মে ধ্যান বা মোরাকাবা করার পর কলবের চোখের সাহায্যে মুরিদেরা উর্ধজগতের মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনেক গোপনীয় সৃষ্ঠি ও রহস্য দেখতে ও জানতে সক্ষম হয়। কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ হযরত শায়খ গাউছুল আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব যে মুরিদদেরকে তাওয়াজ্জুহর মাধ্যমে নূর বা আলো নিক্ষেপ করেন এবং তা দ্বারা যে, কলবের চোখের পর্দা সরে গিয়ে, কলব উর্ধজগতের গোপননীয় সৃষ্ঠি রহস্য অবলোকন করার ক্ষমতা অর্জন করে। যা আধুনিক বিজ্ঞানের যুক্তি দ্বারাও প্রমান পাওয়া যায়। (চলবে) ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.