আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাওয়াজ্জুহ বা নূর কি? এবং মানব দেহের ক্বলবে তাওয়াজ্জুহ প্রতিফলন (৩)

[ চার বছরের শিশু নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)। দিগন্ত বিস্ত্বত মরুর মাঠে হযরত জিবরাঈল আমীন (আঃ) তাঁকে চিত করে শোয়ালেন। কচি বুকখানি চিড়ে হৃদপিন্ডটি বের করে আনলেন। খানিকটা জমাট রক্ত ফেলে দিয়ে সুবর্ণতশতরীতে স্থাপনপূর্বক জমজম পানিতে ধৌত করতঃ পুনারায় যথাস্থানে সংযোজন করে দিলেন। ফলে শিশু নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এমন ভারী হয়ে উঠলেন যে, জিবরাঈল আলাইহেচ্ছালামের ভাষায় ‘সমস্ত পৃথিবীর বিপক্ষে ওজন করলেও ইনির ওজন কম হবেনা- মুসলিম শরীফ।

উল্লেখ্য যে হৃদপিন্ড সংযোজনের সর্বাধুনিক বৈজ্ঞানিক কৃতিত্ব চৌদ্দশত বৎসর পূর্বের এ ঘটনার কছে যেনো ম্লান হয়ে যায়। পচিশ বৎসরের যুবক হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম। হযরত খাদীজাতুল কোবরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার সাথে পরিণয় সুত্রে আবদ্ব হওয়ার পর অনেকটা স্বচ্ছলতা আসায় মোরাকাবা বা ধ্যান চিন্তন করতে লাগলেন নির্বিঘ্নে। মক্কা হতে তিন মাইল দূরে হেরা গুহায় চলে গিয়ে মগ্ন হয়ে যেতেন ধ্যানে। কোন কোন সময় রান্না করা খাদ্য নিয়ে কয়েক দিনের জন্য চলে যেতেন ধ্যানের ধারাবাহিকতা রক্ষায়।

এভাবে মাসের পর মাস কাটতে লাগল ধ্যনের নিস্তব্দ্বতায়। এ সময় তাঁর মানসনেত্রে এক অপূর্ব জ্যোতি ঢেউ খেলে যেতো মনোরম সুষমায়; কোন সুদূর হতে আগত সুললিত সুর-তরঙ্গ তাঁর কানে কানে কি যেন বলে যেতো অপরূপ ভাষায়। সুদীর্ঘকাল মোরাকাবায় অতিবাহিত হওয়ার পর এক ধ্যানমগ্ন নিঝুম নিশিথে আল্লাহপাকের কালাম নিয়ে আবির্ভূত হলেন জ্যোতির্ময় ফেরেশতা জিবরাঈল আলাইহেচ্ছালাম। ভাষার বন্দ্বনে আবদ্ব, শব্দের শৃঙ্খলে সীমিত ‘পাঠ’ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করলেন ভাষা বিমুক্ত অনাদি,অসীম জ্ঞানের অধিকারী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম। তিনি তো জগত গুরু।

শুধু একটি ভাষার অনুশীলন তাঁর জন্য শোভন নয়। অপার্থিব জ্ঞানই তাঁর বৈশিষ্ট্যের উৎস বিন্দু, কিন্তু তারপরও তো চুপ থাকা যায়না, পাপ তাপ-ক্লিষ্ট জগদ্ববাসীকে শিক্ষা দিতে হবে যে। প্বথিবীর মানুষ অসিম,অব্যক্ত জ্ঞানের উজ্জল দ্যুতি বরদাশত করতে পারবেনা যে, বরং ভাষার জ্ঞানে উদবুদ্ব করেই ক্রমে ক্রমে তাদের কাছে ভাষাবিমুক্ত জ্যোতিরলোকের পরিচয় দিতে হবে যে। তাই আলিঙ্গনের পর আলিঙ্গনে মহব্বতের নূর সাগরে আবগাহন করালেন হযরতকে। পরিশেষে আল্লাহর কালামের ভাষাযুক্ত প্রকাশকে জগদ্ববাসীর জন্যে গ্রহণ করে নিলেন হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ‘নবুয়তের রেছালতের পোশাক’পরিধান করে।

প্রক্বত পক্ষে, উনি তো পূর্বে ও নবী ছিলেন। “আমি তখন ও নবী ছিলাম আদম যখন ছিলেন মাটি ও পানিতে”- আল হাদিছ। আমরা পরিচিত হলাম সিনা হতে সিনায় নূর স্থানান্তরের এক অপূর্ব সুন্দর ব্যবস্থাপনার সাথে। নিশ্চিত হলাম হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম অনুস্বরত সাধানার উজ্জল দিক-দর্শন সম্পর্কে। উল্লেখ্য যে, কাওল(বাণী) এবং ফে’ল (কার্য্য)- উভয় দিকের অনুসরণই পূর্ণ অনুসরণ।

সুতারাং আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের কাওল ও ফে’ল মুতাবিক সাধনায় আল্লাহ প্রাপ্তির সোপান। তাই এটাই সত্য যে সিনার শিক্ষা ব্যাতি্রেকে শুধু কিতাব সর্বস্ব শিক্ষায় কোনদিন হবে না লৌহ শ্বংখলের অবসান- হবেনা মুক্তির শুভ উদ্বোধন; হবেনা পূর্ণ অনুসরণ। । (চলবে) ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.