আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাওয়াজ্জুহ বা নূর কি? এবং মানব দেহের ক্বলবে তাওয়াজ্জুহ প্রতিফলন (৫) (রিপোস্ট)

[ হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের কর্তৃক তাওয়াজ্জুহ প্রদানঃ- ( ১) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে হযরত ওমর(রাঃ) নাঙ্গা তলোয়ার নিয়ে কতলের উদ্দেশ্যে হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তি হলে, হযরত তাঁর দুই হস্ত স্পর্শ করেন- এতে তাঁর শরীর বিকম্পিত হয় হস্ত হতে তরবারি পডে গেল, সাথে সাথে তিনি কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যান। (তফসিরে দোররে-মনসুর) ( ২) হযরত রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হযরত ওমর(রাঃ)কে জিজ্ঞেস করলেন-শুধু আমাকেই মোহব্বত করো, না এর মধ্যে অন্যেকেও অংশী করছো? হযরত ওমর(রাঃ) উত্তর দিলেনঃ মোহব্বত মিশ্রিত অবস্থায় বিদ্যমান। আপনাকে মহব্বত করি –নিজেকে, সন্তানবর্গকে এবং মাল আসবাবকে। তখন হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্ত মোবারক ওমরের বুকে স্থাপন করলেন এবং পরবর্তী অবস্থা জানতে চাইলেন। উত্তরে হযরত ওমর(রাঃ) বললেনঃ পরিজন ও মালের মহব্বত চলে গেছে বলে মনে হয়, কিন্তু নফসের মহব্বত রয়ে গেছে এখনও।

হযরত রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম পুনারায় তাঁর বুকে হাত রাখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন এবার কি অবস্থা? তদুউত্তরে হযরত ওমর ফারুক(রাঃ) বললেনঃ সমূদয়ের মহব্বত চলে গেছে- শুধু বাকি আছে আপনার মোহব্বত, হে আল্লার রছুল। ( ৩) হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি একদিন বললাম, ইয়া রাসুল্লুল্লাহ – আমি আপনার নিকট থেকে বহু হাদিছ শ্রবন করে থাকি, কিন্তু উহা বিস্ম্বত হয়ে যাই। হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন,- তোমার চাদরখানি বিছায়ে ধরো। আমি উহা বিছায়ে ধরলাম; হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম দু’হাত দ্বারা উহার দিকে ইশারা করে বললেন, তুমি উহা উঠায়ে লও। আমি ইহা উঠায়ে নিলাম।

অত;পর আমি আর কোনদিন কোনকিছু বিস্ম্বত হইনি। (বোখারী শরীফ) ( ৪) ফাজালা বিন আমর বলছেন; হযরত রসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বৎসরে কাবা শরীফ তাওয়াফ করছিলেন। এমতাবস্থায় আমি তাঁর প্রান বধ করতে ইচ্ছা করলাম। আমি হযরতের নিকটবর্তী হলে, তিনি ডেকে বললেন – হে ফাজালা, আমি উত্তর দিলাম; ‘হুজুর’। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন,-মনে মনে কি ভাবছো? আমি বললাম “কিছুই না”।

এতে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন, আমার জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইলেন এবং স্বীয় হাতখানি আমার বুকের উপর রাখলেন। এতে শান্তিপ্রাপ্ত হল আমার মন। আল্লাহর তায়ালার শপথ হযরত হস্ত মোবারক উঠাতে না উঠাতেই আমার এরূপ অনুভুব হলো যে, আল্লাহর তায়ালা যেনো আমার নিকট তাহা অপেক্ষা সমাধিক প্রিয়পাত্র আর কাউকে সৃজন করেননি। (শেফায়ে-কাজী এয়াজ) এ হলো হযরত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সাহাবীদের তাওয়াজ্জুহ প্রদানের ফলশ্রুতি। যারা বলে রাছুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের জমনায় এই গুলি ছিলনা উপরোক্ত প্রমান্য চিত্র সমূহ তাওয়াজ্জুহর স্বপক্ষে স্পষ্ট দলিলাদির স্বাক্ষর।

সাহাবায়ে কেরাম রাছুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সাহচর্যজনিত নূর সাগরে অবগাহন করতেন বিধায় জাহেরী ও বাতেনী এলম তাদের কাছে সর্বদা উম্মুক্ত অবস্থায় উদ্ভাসিত থাকতো। ইসলামের সেই সোনালীযুগ- সাহাবাগনের যুগ,তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীনের যুগ আজ অতিক্রান্ত। তাঁর মানেই হল নূরে মোহাম্মদী’র রূপ মহাসূর্য হতে ক্রমাগত দূরে আসার অনিবার্য পরিনতি মুসলিম জাতি আজ তাঁর একটি ডানা হারিয়ে আহত পাখির ন্যায় স্বস্থানে ঝাপটে মরছে, উড্ডয়নের হিম্মত হারিয়ে কোনমতে বেঁচে আছে। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বেমালুম ভুলে গেছে। এ প্রসঙ্গে কাজী সানাউল্লাহ পানি পত্তি(রঃ) তাঁর ‘এরশাদুত্তালেবীন’ গ্রন্থে বলেনঃ এ বিষয়ে উম্মতের ইজমা হয়েছে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) সাহাবা (রাঃ) ব্যতীত অপরাপর সকল লোক হতে উৎক্বস্ট।

অথচ এলম ও আমলে সকলেই হয়তো সমকক্ষ। এ পার্থক্য সেই বাতেনি এলেমেরই দরুন হয়েছে। যা, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের পুন্যময় ছোহবত হতে হাসিল করেছেন। (চলবে) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.