আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তাওয়াজ্জুহ বা নূর কি? এবং মানব দেহের ক্বলবে তাওয়াজ্জুহ প্রতিফলন (৬)

[ হযরত আওলাদে রাসুল শাহ সাইয়েদ আহমদ কবীর রেফায়ী (রাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর অলীদের সিলসিলাহ এভাবেই পূর্ব সুরীদের কাছ থেকে চলে আসছে এবং তাওহিদের পূর্ণতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তোমরা আল্লাহর সাথে, অলীদের অনুরুপ ব্যবহার করো, তবেই তাঁদের সাথেই তোমাদের সম্পর্ক সুচিত হবে এবং তাঁদের অনুকরণে তোমাদের সমস্ত বিষয়ে শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তোমাদের জীবনে তাঁদের অনুসরণ পরিপূর্ণতা লাভ করবে। তিনি আরো বলেনঃ পীরের ভাব মুরীদের হৃদয়ে এমনভাবে প্রবেশ করে থাকে, যেমনি ভাবে সুগন্দি নাকের ভিতর প্রবেশ করে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও বুজুর্গ হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মোহাদ্দেসে দেহল্ভী (রঃ) তৎপ্রণীত গ্রন্থ ‘আল-কাওলুল জামীল’-এ লিখেছেন “পীর স্বীয় লতিফা কিংবা সর্বাঙ্গে জিকর জারী করে অথবা নিজেকে মোরাকাবার নূরে আলোকিত করে সজোরে উক্ত জিকর কিংবা নূর মুরিদের লতিফা বা সর্বাঙ্গে নিক্ষেপ করলে, উক্ত লতিফা বা সর্বাঙ্গ জিকরে উম্মত্ত হয়ে উঠে কিংবা নূরে আলোকিত হয়ে উঠে- ইহায় তাওয়াজ্জুহ”। কাগতিয়ার মোরশেদে বরহক (মঃ জিঃ আঃ) অনুসৃত তরিকতে আভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তথা লতিফা সমূহে ভিন্ন ভিন্ন ছবকের ব্যবহারিক অনুশীলনে পীর ছাহেব কর্তৃক মহিলাদের বেলায় “তাওয়াজ্জুহ-বিল-গায়েব” পদ্দতিতে এবং পুরুষের বেলায় মুখামুখী অবস্থায় সজোরে নিক্ষেপ প্রক্রিয়ায় “সিনা- ব-সিনা” তাওয়াজ্জুহ প্রদানের ব্যবস্থাটি তরিকতের ময়দানে একটি মাইলস্টোন।

উল্লেখ্য যে, ইহা মনোবিজ্ঞানের উচ্চতম স্তরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি ব্যবস্থাপনা। পার্থক্য এই যে, মনোবিজ্ঞানের ধ্যান ধারনা প্রবেশ করে পার্থিব চিন্তা-চেতনার গভীরে, আর তরিকতের ধ্যনমগ্নতা প্রবেশ করে পার্থিবের অতীত অপার্থিব জগতের পারাপার বিহীনতার অতলগভীরে। বিশেষতঃ “তাওয়াজ্জুহ-বিল-গায়েব” ব্যবস্থাপনায় যেনো ইসলামী দর্শন এক চুডান্তরূপ পরিগ্রহণ করে। এ ব্যবস্থাপনাটাও যদিও থিওলজীর কথিত কমান্ড লেভেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তথাপি উভয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। বিজ্ঞানের তথ্য-বিন্যাস শেষ পর্যন্ত দেহ-গত পরিণতিতেই পর্যবাসিত হয়, কিন্তু আধ্যাত্নিক তথ্য বিন্যাস সাধককে নিয়ে যায় এ পার্থিব জগত ছাডিয়ে আল্লাহ তায়ালার আদেশ জগত, সিফাত জগত, শান জগত পেরিয়ে ‘কা’বা কাওসায়নে আও-আদনার দ্বারপ্রান্তে।

যা ইসলামের সোনালি যুগের কথাই স্মরন করিয়ে দেয়। অতএব, তাওয়াজ্জুহ প্রদানকারী পীরের রূহানী ফয়েজ প্রাপ্তিতে যদি বর্তমান যুগের বিপথগামী যুব সমাজ ফিরে পায় তাঁদের প্রান কিংবা তরিক্বত পন্থীরা পায় সঞ্জীবনী শক্তির অমুল্যঘ্রান, তা কি ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির জন্যে প্রভুত কল্যাণধর্মী নয়? বুঝেও না বুঝা কিংবা শুনেও না শুনার ভানকারীদের সম্মদ্দে, আল্লাহপাক এরশাদ করেনঃ-“তাদের কলব আছে কিন্তু তা দ্বারা বুজেনা, চক্ষু আছে কিন্তু তা দ্বারা দেখেনা, কর্ণ আছে কিন্ত তা দ্বারা শুনেনা। তারা পশুর ন্যায়, বরং আরো পথভ্রষ্ট” (সুরা-আল আরাফঃ ১৭৯)। এদের সম্পর্কে আল্লাহপাক আরো এরশাদ করেনঃ “আমি তাদের সম্মুখে একটি প্রাচীর এবং পশ্চাতে ও একটি প্রাচীর দিয়ে রেখেছি; তৎপর আমি তাহাদিগকে আবৃত করে রেখেছি যেন তারা দেখতে না পায়” (সুরা-আল ইয়া-ছিন ৯)। এ দিকে আল্লাহপাক জানিয়ে দিচ্ছেনঃ ওয়া’তাছেমু বে হাবলিল্লাহে জামীয়া, ওয়ালা তাফাররাকু – তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুত সহকারে ধারণ করো এবং পরস্পর বিছিন্ন হয়ে যেওনা- (সুরা-আল ইমরানঃ ১০৩)।

কোথায় পাবো আল্লাহর রজ্জু? কিভাবে ধরা যায় আল্লাহর রজ্জু? কি তাঁর প্রাযুক্তিক দিক? কোরআন মজিদের বিধি-বিধানকে শুধু বাহ্যিক আচার সর্বস্ব হিসাবে প্রতিপালনে যেনো একটা ফাক থেকে যায়। বিধান মেনে চলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী তো কোরআন মজীদ দিয়েই রেখেছে, যা মেনে চলা অবশ্যই শিরোধার্য। তারপরেও বিধানপালন সত্ত্বেও কোন কোন বিধান পালনকারীর মাঝে দেখ যায় অশ্লীলতা, অশালীনতা যা আমাদেরকে নিরাশই করে; অনেক নামাজী, রোজাদার কিংবা হাজী সাহেবের মাঝে কখনো কখনো অশ্লীল কার্যাদি দেখা যাওয়ার পেছনেও একই রহস্য কাজ করছে। প্রক্বতপক্ষে, বিধানের অন্তর্নিহিত সুর থেকে বিচ্যুত হয়ে বিধান পালন করার গতানগতিক ধারার কারনেই এরূপ হচ্ছে। উল্লেখিত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় তফসিরে ইবনে কাসির বলেছেনঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের রেওয়াতে হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন “কোরআন হলো আল্লাহ তায়ালার রজ্জু যা, আসমান থকে জমীন পর্যন্ত বিস্ত্বত”।

আসমান থকে জমীন পর্যন্ত বলে হাকিকতে কোরানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আধ্যাত্বিক স্তর উত্তরণে নূরের এ প্রযুক্তিগত রজ্জুকে আকডে ধরতে পারলেই বিধান পালন হয় যথার্থ, পূর্ণাঙ্গ ও সুষমা মণ্ডিত। এ পথই অবিসংবাদী সত্যের পথ। এ পথই নুরানি পথ, আলোকিত পথ। আঁধারে রয়েছে সমূহ বিপদ- দুর্গম প্রান্তরের খাদ-গহবর ও নাগ-নাগিনির বিষাক্ত ছোবল।

প্রতি নিয়তই সর্বনাশা মরণ ফাঁদ পেতে মানব জাতিকে জানাচ্ছে আমন্ত্রণ। (চলবে) ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.