আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অভিশপ্ত টেরি জোন্স, পাদ্রীর ছদ্মবেশে সিআইএ’র গুপ্তচর।

বাস্তবতা নিয়ে কথা বলতে চাই। নিজেকে তিনি ধর্মীয় নেতা এবং ধর্ম প্রচারক বলে দাবি করেন। অথচ দেড়শ কোটি মানুষের পরম শ্রদ্ধার পাত্র এবং বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)কে অবমাননা করতে তার এতটুকু কুণ্ঠা হয় না। ঘোষণা দিয়ে তিনি পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন পুড়িয়েছেন, ঘৃণা ছড়িয়েছেন এবং নিজের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অভিশপ্ত শয়তানের আচরণ করেছেন। তিনি আর কেউ নন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র হাতে প্রশিক্ষিত মার্কিন পাদ্রী টেরি জোন্স।

চলতি সপ্তাহে জোন্স নিজের ওয়েবসাইটে একটি স্ট্রিমিং ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইসলামকে চরমভাবে আক্রমণ করে তৈরি করা ওই ভিডিওর মাধ্যমে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন। এ ধরনের উস্কানিমূলক ভিডিও প্রকাশ করার জন্য বর্তমান সময়কে বেছে নেয়াও কোনো দৈব ঘটনা নয়। সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নরাধম টেরি জোন্স এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি পশ্চাদপদ এলাকার নীচু পরিবার থেকে উঠে আসা একজন অশিক্ষিত মানুষ এই জোন্স।

বস্তির অপরাধী চক্রের সঙ্গে সহবাস করে ঘটেছে তার মানসিক বিকাশ। আর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সব অপরাধী, মাদকাসক্ত ও ভিন্ন মতাবলম্বীরা এসে জুটেছে তার আখড়ায়। মার্কিন এ পাদ্রীর অনুসারীদের সংখ্যাও অত্যন্ত কম। আমেরিকান ভাঁড় টেরি জোন্সের ধর্ম নিয়ে খেলা শুরু হয়েছিল ১৯৮০'র দশকে। নিজ দেশে ঠাঁই না পেয়ে ১৯৮১ সালে তিনি জার্মানীতে চলে যান এবং সেদেশের কলোগনি এলাকায় একটি খ্রীস্টান আশ্রম গড়ে তোলেন।

সেখানে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার দারুণ সখ্যতা গড়ে ওঠে। সে সময়ে বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনি নেতাদের হত্যার জন্য ইসরাইল তৈরি করেছিল বহু ঘাতক বাহিনী। নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এরকম একটি ঘাতক বাহিনী 'অপারেশন গিলাডো'র সঙ্গে গাঁটছাড়া বাঁধেন অভিশপ্ত টেরি জোন্স। ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী 'অ্যালদো মোরো'কে হত্যা এবং ১৯৯০'র দশকের বহু বোমা হামলার জন্য এই 'অপারেশন গিলাডো'কে দায়ী করা হয়। কাজেই নিজেকে পাদ্রী হিসেবে দাবি করলেও জোন্সের আসল কাজ গুপ্তচরবৃত্তি ও নরহত্যা।

তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা হচ্ছে আত্মম্ভরিতা। আর তার শক্তিমত্তার স্থানটি হচ্ছে হাবাগোবা অভিব্যক্তির পেছনে দু'টি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় সদস্যের পরিচয়টি গোপন রাখা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং জার্মানীর একটি উগ্র গোষ্ঠীর গুপ্তচর হিসেবে কাজ করা হচ্ছে টেরি জোন্সের আসল পেশা। ওই জার্মান উগ্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দুর্বৃত্ত ও শণ্ডা প্রকৃতির পরিচালকদের দ্বারা চালিত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র হাতে প্রশিক্ষিত গুপ্তচর টেরি জোন্স।

পাদ্রী হিসেবে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা অক্ষুন্ন রেখে আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনামে স্থান করে নিতে তার জুড়ি নেই। কিন্তু আত্মম্ভরী জোন্সের এই ইসলাম বিদ্বেষী আচরণের ফলে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মনে যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে তার আগুনে শুধু যে টেরি'র উপেক্ষিত গীর্জাটিই পুড়বে তাই নয়, সেই সঙ্গে ছাড়খাড় হয়ে যেতে পারে বিশ্ব মোড়লের দাবিদার আমেরিকার ক্ষমতার মসনদ। বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের ক্ষোভের কিঞ্চিত বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে মঙ্গলবার রাতে লিবিয়ার বেনগাজিতে। এরপরও কি সম্বিত ফিরে পাবে না মার্কিন সরকার? অযথা একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে শত্রু বানিয়ে আর কতদিন ক্ষমতার দম্ভ দেখাবে আমেরিকা? সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যেদিন টেরি জোন্সদের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে মার্কিন আধিপত্যবাদ; যে আধিপত্য আমেরিকা ধরে রাখতে পারতো আরো বহুকাল টেরিমুক্ত পরিবেশে। তথ্যসূত্র : আইআরআইবি ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।