আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাগান বেস্টিত বাড়ীর বন্দী জীবন (২য় কিস্তি)

জীবন একটাই তাই যা করার ভেবে চিন্তে করতে চাই........ বাড়ীর আমগাছগুলো যা তার জীবন প্রবাহের চাকা ঠিক রাখতে সহায়তা করতো তা বেশ ক'বছর আগে সিডরে ধ্বংস হয়ে গেছে। কাঠাল, বেলাতি গাবসহ গাছগুলোও এখন নেই বললে চলে। আর একসময়ের লেবু গাছগুলো এক বৃদ্ধ হতে হতে ফল উতপাদন প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। তাই জীবন ধারণ এখন অনেক কঠিন তার। সেই সাথে একসময়ের বাড়ী ভরা হাস মুরগী কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে।

এক ছেলে আর এক মেয়ের মত ওরাও আর কাছে আসেনা। একদিকে বয়সের ভার অন্যদিকে ক্ষুধায় গায়ের চামড়া ভেদ করে হাড়গুলো অনেক স্পস্ট। একসময় শীতের দিনেও যে খেজুর গাছ কাটতো। রস বের করে তা বাজারে বিক্রি করে বেশ সম্রদ্ধই ছিল। আজ তার সকল আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

এখন শুধু ব্যয়ের পথ অর্থাত নি:শ্বাস বন্ধ হলেই তার কেবল মুক্তি, না হলে নয়। একমাত্র ছেলে ঢাকায় একটা ছোট চাকরী করে। বিয়ে-থা করেনি। আর মেয়েটার বিয়ে করেছে তার গার্মেন্টস কলিগকে। তাও অনেক দুরে।

সেই কুমিল্লায়। তাই কারো কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়ারও পথ বন্ধ। ছেলে-বাবার সাথে কোনো কথা হয়না অন্তত ১০ বছর। একই ঘরে বাস করলেও বেড়ার দুই ধারে দুই রকম পরিবেশ। দুই ধরনের হা-হুতাশ বিরাজ করে।

ছেলের সাথে তার ফুফু আছে একান্নবতী হয়ে। আর বাবা কেবল একাই । কারো কাজ তার পছন্দ হয়না। কারো হাটা তার ভালো লাগেনা। ছেলে অনেকদিন পরে বাড়ী গেলেও বাবার জন্য কিছু নেয়না।

কেবল ফুফুর সাথেই তার আনন্দ বা বেদনার ভাগাভাগি। আর কখনো কখনো বন্ধুদের সাথে। কিন্তু বাবা অনেকটাই সমাজ বিচ্যুত। সমাজের সবাই তাকে কেমন যেন ভিন্ন চোখে দেথে। কেননা সামাজিক রীতি নীতি সে পালনে করতে ব্যর্থ।

ধর্ম-কর্মে তার মন নেই। তারপর আবার নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। সমাজ তাকে কেনইবা মূল্য দেবে??? ছেলের আনন্দ তাও কিছুটা হলেও মানুষের চোখে পড়ে। কিন্তু বাবার আনন্দ আর বেদনা জীর্ণ ঘরের সেই বেড়া ভেদ করেত পারেনা। কেউ তার কষ্টের খোজ নেয়না আর আনন্দতো তার কাছে অধরা সেই অনেক আগে থেকেই।

আজকের এই বুড়ো লোকটির কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনা যায়। হাস্যরস আর ভয়ংকর সেই গল্পগুলো তার বাস্তব জীবনের। যুদ্ধে তার অংশ গ্রহন ছিল বীরত্বের। সুন্দরবনের বিশাল এলাকায় ৭১'এ সে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সে যে লড়াই করেছিল আজকের তার অবস্থা কোনো ভাবেই প্রমান করেনা। তারপর সে একজন প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন সেকথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, যদিও তার কোনো সনদ নেই....... ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।