আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফাজিল মেয়ে !! বিয়া করবি না মানে ?? (the beginning)

আমার চোখে ঠোটে গালে তুমি লেগে আছো !! কাল থেকে মন মেজাজ খুব খারাপ । কাল নিশির সাথে এমন খারাপ ব্যবহার করেছি যে সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে । এমনকি ওর গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছি । বেচারী একটা কথাও বলেনি । কেবল আমার দিকে নির্বাক চোখে তাকিয়ে ছিল ।

আসলে ও ভাবতেও পারেনি যে আমি ওর গায়ে হাত তুলতে পারি ! কিন্তু মাথা গরম হয়ে আমার কান্ড জ্ঞান কিছু থাকে না । কাকে কি বলছি কি করছি কিছুর ঠিক থাকে না । অফিসের কেবিনে চুপচাপ বসে ছিলাম । সকাল থেকে নিশি একবার আসে নি । আগে প্রতি দিন অফিস এসেই ও আমার কেবিনে আসতো আজ লাঞ্চ আওয়ার হয়ে আসছে এখনও ও আসছে না ।

মেজাজটা গরম হচ্ছে । তার উপর নিশির উপর রাগ লাগছে খুব । ওর উপর রাগ উঠছে ঠিক এমন সময় নিশি দরজা ঠেলে কেবিনে ঢুকল । আমার দিকে খানিক ইতস্তত তাকিয়ে সামনের চেয়ারটাতে বসল । -এতোক্ষন আসো নি কেন ? আমার কথার জবাবে ও চুপ করে থাকল ।

-চুপ করে থাকবে না । কথার জবাব দাও । এতোক্ষন কেন আসো নি ? নিশি ক্ষীন গলায় বলল কাজ -করছিলাম । -¿¥§&%£€ ! তুমি কি কাজ করছো আমার জানা আছে !! হঠাৎ করে আমার রাগ বেড়ে গেল । -কালকে চড় খেয়ে তোমার শখ মেটে নি ? নিশি এবার কোন কথা বলল না ।

চুপ করেই থাকল । আমি আমার রাগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছি । অফিসে কিছু করে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে । নিশি বলল -আমার একটু কলাবাগান যাওয়া লাগবে । একা একা যেতে ইচ্ছা করছে না ।

যাবে আমার সাথে ? -মানে ? আমি যে এতোক্ষন ওর সাথে চিত্কার চেচামেচি করছি তার কোন ভ্যালুই নাই ওর কাছে । ও আছে ওর কলা বাগানে যাওয়া নি । ওর এই দোষটা খুব আছে । আমি একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছি ও সেটা নিয়ে কোন কথা না বলে অন্য একটা ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবে । কাল কেও ঠিক এই জন্য ওকে চড় মেরেছিলাম ।

কাল যখন কেবিনে ও আসলো তখন আমার মুখ খুব গম্ভীর ছিল । বাসা থেকে খুব চাপ দিচ্ছে বিয়ে জন্য । মা তো একে বারে বিয়ে করানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে । আমার মুখ গম্ভীর দেখে নিশি বলল -কি হয়েছে ? বিয়ের কথা বললাম ওকে । -তাই নাকি ? যেন খুব মজার কোন কথা বলেছি ।

-করে ফেল । আমি মেয়ে দেখবো । -নিশি ফাজলামো করবে না । -আচ্ছা করবো না । এখন আমার সাথে একটু নিউ মার্কেটে যেতে পারবে ? একটু দরকার ।

-নিশি আমি কিন্তু সিরিয়াস । -আরে আমিও তো সিরিয়াস । আমাকে নিউ মার্কেট যেতেই হবে । মেজাজটা সত্যি সত্যি গরম হয়ে গেল । কষে একটা চড় লাগালাম ওকে ।

-এক্ষনি বেড়িয়ে যাও । আমার সামনে থেকে । নিশি কিছুক্ষন অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল । তারপর মাথা নিচু করে চলে গেল । -যাবে না ? নিশির কন্ঠে কেমন একটা আকুতি ।

-কেন যাবো আমি তোমার সাথে ? তুমি কে আমার ? -চল না প্লিজ । -শোন ঢং করবা না , ঠিক আছে ? তোমার সাথে আমি যাবো না । যাকে বিয়ে করবা তার সাথে যাও গে । আমাকে যখন রিফিউজ করেছ তখন আমার সাথে যাওয়ার এতো শখ কেন ? নিশি একটু মন খারাপ করল । বলল -এমন কেন করছ আমার সাথে ? আমি .... ও বলতে গিয়ে থেমে গেল ।

-আচ্ছা ঠিক আছে যেতে চাও না যেতে হবে না । আমি যাই । ও যেন কি বলতে চেয়েছিল । কিন্তু থেমে গেল । আসলে ও আমাকে কেন বিয়ে করতে রাজি হল না আমি এখনও ঠিক বুঝতে পারি নি ।

গভীর কোন কারন আছে কি ? ওর চোখ দুটো চিৎকার করে বলছে যে ও আমাকে ভালবাসে । তাহলে বিয়েতে রাজি কেন হচ্ছে না ? -দাড়াও । নিশি দাড়াল । -কখন যেতে হবে ? নিশির মুখে হাসি ফুটে উঠল । কি মিষ্টি একটা হাসি ! তবে একটু যেন বিষন্ন ।

-অফিসের পর । ও আবায় হাসল । রিক্সায় চড়ার সময় নিশির হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিলাম । বহুদিন ওর হাতটা ভাল করে ধরা হয় না । -খুব ব্যাথা পেয়েছিলে ? -ব্যাথা ? কেন ? -ঐ যে কালকে চড় মারলাম তোমার গালে ।

ওর গালটা আলতো করে স্পর্শ করল । ও ওর মুখটা একটু সরিয়ে আরো একটু ভাল করে আমার হাতের উষ্ণতা নিল । -রাগ করেছ আমার উপর ? - আমি কখনও তোমার উপর রাগ করেছি কখনও ? ও ওর হাতটা দিয়ে আমার হাত আর একটু ভাল করে ওর গালের সাথে চেপে ধরল -তুমি ছাড়া আর কে আছে আমার এখানে ? আমি নিশির দিকে তাকিয়ে থাকি । আমার জন্য মেয়েটার ভালবাসার কোন কমতি নেই । আমাকে ছাড়া ও আর কিছু ভাবেও না ।

তাহলে ও আমাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না কেন ? আমি বলল -জানো নিশি আমি এখনও সেই স্বপ্নটা দেখি । নিশি আমার দিকে বিষন্ন চোখে তাকিয়ে রইল । -মনে আছে আমরা ঠিক করেছিলাম আমরা প্রতিদিন রাতে ছাদে যাবো । তোমার কোলে মাথা রেখে শোবো । তুমি আমার বিলি কেটে দিবে ।

রাত বেশি হয়ে গেলে বাসায় যাবো । কোন কোন দিন সারা রাত গল্প করবো । তুমি ঘুমাতে চাইলেও তোমাকে ঘুমাতে দেবো না । নিশি এক ভাবে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে । ওর চোখে পানি জমতে শুরু করেছে ।

আমি আবার বললাম -বিয়ের দুবছর পর আমরা একটা বাবু নেব । তোমার মনে আছে সব সময় একটা মেয়ে বাবু চাইতে । এমন কি তার নামও ঠিক করে রেখেছিলে । নাম টা মনে আছে তোমার ? -অপু চুপ কর । নিশির চোখ দিয়ে ততক্ষনে পানি পরতে শুরু করেছে ।

আমি আবার বললাম -মনে আছে তোমার ? নিশি কাঁদতে কাঁদতেই বলল -মনে আছে আমার ! -তাহলে অন্য কিছু কেন তোমার মনে নেই ? তুমি কেন আমাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছ না ? আমরা পারফেক্ট কাপল । একে অপরকে এতো ভালবাসি তাহলে তুমি কেন রাজি হচ্ছ না ? নিশি কোন কথা বলল না । মাথা নিচু করে কাঁদতে লাগল । -আচ্ছা ঠিক আছে ! আমি বললাম -তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও না , ঠিক আছে । মেনে নিলাম ।

আমাকে তুমি একটা যুক্তি সঙ্গত কারন কারন দেখাও । আমি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললাম -হ্যা এমন হতে পারে যে এখন তুমি আর আমাকে ভালবাসো না । নিশি জট করে আমার দিকে তাকাল । -কি ভালবাসো না আর ? নিশি নিরব চোখে তাকিয়ে থাকল আমার দিকে । ওর চোখ দিয়ে এখনও পানি পড়ছে ।

কেমন যেন একটা অভিমান দেখলাম ওর চোখে । -কি ভালবাসো ? ওর চোখে দিকে তাকালাম । আবার বললাম -বাসো না ? অনেকক্ষন পর বলল -বোঝ না? অপু আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি । অনেক বেশি । তাইতো তোমার ভাল চাই ।

আমার কারনে তোমার কোন ক্ষতি হবে এটা আমি কোন দিন মেনে নিতে পারবো না । -মানে কি ? তোমার দ্বারা আমার কিভাবে ক্ষতি হবে ? ও কোন কথা বলল না । (চলবে) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.