বিষন্নবিলাসী প্রিয় শোভন,
কেমন আছ? হঠাত তোমাকে মনে পড়ে গেল কেন যেন, অবশ্য তোমাকে মনে পরা নতুন কিছু না। ........................
.......................................................................
অনেক দিন হল পুরোনো চিঠি পরা হয়ে ওঠে না শোভন সাহেবের। ছেলে মেয়েদের নিয়ে কিছু ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে তাকে। আপাতত বারান্দার এই ইজি চেয়ারে বসে পুরোনো চিঠি নিয়ে তার প্রিয় অভ্যাসের প্রত্যাবর্তন করছে সে। তারপর কত কাঠ খোড় পুরিয়ে দুই জনের এক হওয়া, ছোট্ট সংসার, এক সাথে স্বপ্ন দেখা, ..... জীবনের অনেকটা দিন পার করে এসেছে সে...
বাবা, ও বাবা? ঘুমিয়ে গেছ? একমাত্র ছোট মেয়ের ডাকে ঘোর ভাঙ্গে তার।
জালাল চাচা এসেছেন,বসার ঘরে তোমার জন্য wait করছেন। চিঠিগুলো গুছিয়ে নিয়ে চশমাটা চোখে লাগিয়ে শোবার ঘরে গেলেন শোভন সাহেব। তারপর পরম যত্ন করে চিঠিগুলো শেলফে রেখে বসার ঘরে এলেন তিনি। জালাল সাহেব তার পুরোনো ড্রাইভার । সেই নতুন সংসারের শুরু থেকেই এই পরিবারের সাথে ছিলেন তিনি।
স্যার আপনার আজ যাওয়ার কথা ছিল। গাড়ি কি বের করব??
হুম, আমি আসছি।
গত বিশ বছর ধরে এই দৃশ্যের সাথে অভ্যস্ত জালাল। তাই যাওয়ার যায়গা নিয়ে আর বলতে হল না। প্রথমে টি.এস.সি, চারুকলা ঘুরে শোভন সাহেব গেলেন তার স্ত্রীর কাছে।
অঝোর ধারায় কাদলেন তিনি। তারপর বললেন তার চিরচেনা কথা যেটা তিনি প্রতিরাতে তার স্ত্রীর হাত ধরে বলতেন, আমি তোমাকে ভালোবাসি......
সনধ্যার আজান হল। ইফতার করলেন তিনি। পাশের মসজিদ থেকে নামায আদায় করলেন। এবার ফিরতে হয়।
আরেকবার এলেন তার প্রিও স্ত্রীর কাছে। তার কাছে এই শান্ত, স্নিগ্ধ কবর অজস্র স্মৃতির আলোড়ন করে।
রাত
শোভন সাহেব খাবার টেবিলে। মেয়ের দিকে তাকালেন তিনি। ঠিক যেন মায়ের প্রতিরূপ।
আজ তার জন্মদিন। শোভন সাহেব ভাবলেন প্রতি বছরের মত আজও তিনি তার মেয়ে কে wish করতে ভুলে গেছেন। কিছুক্ষন ভেবে মেয়েকে বুকের কাছে নিয়ে বললেন ,"মা,...... শুভ জন্মদিন। " চার চোখ দিয়েই নোনা পানি বেরোচ্ছিল। কিন্তু কোনো চোখ কাওকে দেখতে পেল না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।