আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একদা একদিন ইচ্ছে জাগিলো খেলিতে প্রেম খেলা, অচেনা বালিকার পেছনে ঘুরিয়া কাটাইলাম সারা বেলা

ধরনীতে কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের অন্যরকম ভাবে। আমি বলবো তারা নিতান্তই বোকার দলে অন্তর্ভূক্ত। আর আমি সেই বোকাদের দলেই থাকতে চাই। বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা। তখন এইচ.এস.সি প্রথম বর্ষের ছাত্র।

কলেজ জীবনের রঙ্গিন ভুবনে মাত্র প্রবেশ করেছি। বড় ভাইদের কাছে তাদের কলেজ জীবনের রোমান্টিক গল্পগুলো মুখ বড় বড় করে গিলতাম। আহ! কি মধু। নতুন কিছু বন্ধুও হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই প্রেম করে।

প্রেম করা যেনো ফ্যাশন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি আর আমার এক বন্ধু টেম্পু এই জিনিসটার ধারের কাছেও যেতে পারলাম না। টেম্পু প্রায়ই আমাকে বলতো, “দোস্ত আমরা কি জীবনে প্রেম করতে পারুম না?” আমি তার কষ্ট ভরা মুখখানির দিকে তাকাইয়া শান্তনা দিয়ে বলতাম, “পারমু! একটু অপেক্ষা কর। সবই হবে। ” তবুও যেনো আমার শান্তনায় কাজ হত না।

তখন ফেব্রুয়ারী মাস। আর কিছুদিন বাদেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তাই আমি আর টেম্পু ঠিক করলাম ভালোবাসা দিবসে আমরা যেমনেই হোক প্রেম করবো। দুইজন দুই মায়াবীনির হাত ধরবো এবং প্রেম খেলায় লিপ্ত হব। কিন্তু আমরা তো মেয়ে পটানোর ব্যাপারে পুরাই অনভিজ্ঞ।

তো যেই কথা সেই কাজ। আসিলো সেই মাহেন্দ্রক্ষন। আমি আর টেম্পু লাল পাঞ্জাবি আর সাদা পায়জামা পরে মাঞ্জা মাইরা বের হলাম। টার্গেট প্রেম করা। আমরা চলে এলাম টিএসসি’র দিকে।

কারন এই দিনে এইদিকটা প্রেমিক প্রেমিকায় রমরমা থাকে। টিএসসিতে এসে তো আমাদের পুরাই অস্থির অবস্থা। যারে দেখি তারেই পছন্দ হয়। কিন্তু বেশিরভাগই তার প্রেমিকের হাত ধরা। হঠাৎ করে চোখ পড়ে দুইজন উঠতি বয়সী বালিকার দিকে।

দেখে মনে হল তারা দুইজন বান্ধবী। দেখে তো আমাদের বয়সেরই মনে হল। পিছু নিলাম সেই সুন্দরী বালিকাদের। মনে করছিলাম তারা কাছাকাছি একটা না একটা যায়গায় বসবে। তারপর আমরা গিয়ে কথা বলবো।

কিন্তু তার কি উপায় আছে???? দুনিয়ার সকল হরলিক্স মনে হয় সেদিন সকালে তারা পান করে এসেছিল। হাটতে আছে তো হাটতেই আছে। হাটা আর থামেনা। আমরাও হাটছি তাদের পিছু পিছু। একটু পর পর বালিকা দুটো কার সাথে যেনো মোবাইলে কথা বলছে।

যাই হোক। বালিকা দুইটার পেছনে হাটতে হাটতে কখন যে ধানমন্ডির স্টারে চলে এলাম খেয়ালই করলাম না। সেই টিএসসি থেকে ধানমন্ডির স্টার। বুঝতে পারছেন তো ব্যাপারটা??? বালিকারা যে এত হাটতে পারে তা আমার জানা ছিল না। দুইজন বালিকা-ই স্টারে ঢুকলো।

অবশেষে বোধহয় প্রেম হয়েই গেলো এই ভেবে আমরাও ঢুকলাম। কিন্তু ঢুকার পর যা দেখলাম তা দেখে আমার পা ব্যাথা শুরু হয়ে গেলো। ঐ মাইয়া দুইটা তাদের বয় ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে স্টারে ঢুকছে। আমাদের লং মার্চ ব্যর্থ হল। কি আর করার।

তারপর একটা রিকশা ঠিক করলাম। এইবার রিকশা করে পিছু নিবো। যেই ভাবা তো সেই কাজ। নিলাম রিকশা। ঘন্টায় ১০০টাকা।

হায়! হায়! হায়! প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে ঘুরে কোনো বালিকারে পছন্দ হইলো না। হঠাৎ একটা রিকশার দিকে চোখ পড়ে। দুইজন প্রানোচ্ছল বালিকা রিকশা করে যাচ্ছে। রিকশাওয়ালারে বললাম, “মামা রিকশা ঘুরাইয়া ঐ রিকশাটারে ফলো কর। ” রিকশাওয়ালাও দিল জোড়ছে টান।

আমরা হা করে তাকিয়ে আছি সামনে রিকশার দিকে। এমন একটা ভাব ধরছি মনে হইতাসিল যেন, মারসিটিজ ব্রান্ডের রিকশায় উঠছি। হঠাৎ আমাদের রিকশাটা রাস্তায় পরে থাকা ইটের সাথে ধাক্কা খেলো। দোস্ত টেম্পু পুরা ডিগবাজি খাইয়া পরে গেলো রিকশা থেকে। আমিও পরলাম তবে ভালোভাবেই।

পরে টেম্পুরে বুঝাইলাম দোস্ত আমাগো দিয়া প্রেম হবে না। ২০০টাকা রিকশাওয়ালারে ধরাইয়া দিয়ে হালকা পাতলা নাস্তা করে ছবির হাটের দিকে আসলাম। ছবির হাটের দিকে এসেও তো এক বালিকারে পছন্দ হয়ে গেলো। বালিকা একা একা বসে ছিল। আমি টেম্পুরে কইলাম দোস্ত চল ঐ বালিকারে ধরি।

টেম্পু কইলো না। ঐ মাইয়া ওর বয়ফ্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করতেসে। আমি কইলাম অসম্বভ। টেম্পু কইলো, কিছুক্ষন অপেক্ষা কর দেখবি ঐ মাইয়ার বয়ফ্রেন্ড আসবো। আমরা প্রায় আধা ঘন্টা অপেক্ষা করলাম কিন্তু কোনো পোলারে তার পাশে বসতে দেখলাম না।

আমি টেম্পুরে কইলাম তুই একটু বস আমি আইতাসি। সাহস কইরা মাইয়ার সামনে গিয়া দাড়াইলাম। বললাম, আপু একটু কথা বলতে পারি। বালিকা বলল, হ্যাঁ বলুন। আমি বললাম, আপু একটু বসে কথা বলতে পারি।

বালিকাটি বলল, ওকে বসে বলুন। আমি এই কথা ঐ কথা শুরু করে আজাইরা প্যাচাল পারতাসি। হঠাৎ আমাদের সামনে একটা ছেলে এসে দাঁড়ালো। আমি বললাম, কি চাই। ছেলেটি কিছু না বলে মেয়েটির নাম ধরে বলতে লাগলো, এই ছেলেটা কে? আমি ততক্ষনে বুঝে গেলাম ঘটনা কি!!! আমি কিছু না বলে নিরবে চলে এলাম।

ততক্ষনে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপর ফিরে এলাম টেম্পুর কাছে। দুই দোস্ত অনুধাবন করতে পারলাম সবাইকে দিয়ে সব কিছু হয় না। একটা রিকশা ঠিক করে দুই বন্ধু গলা ছেড়ে গান গাইতে গাইতে বাসার উদ্দ্যেশে রওনা হলাম। বাসায় এসে রচনা করলাম ৪ লাইনের বিশেষ কবিতা।

একদা একদিন ইচ্ছে জাগিলো খেলিতে প্রেম খেলা অচেনা বালিকার পেছনে ঘুরিয়া কাটাইলাম সারা বেলা। বালিকা তো কোনো সুযোগ দিলো না আমায় হায়! প্রেমবিহীন এই জীবন রাখা কি যায়? আমি আসলে তত ভালো লিখালিখি করতে পারে নাই। লেখায় মারাত্মক দুর্বলতা আছে। তা অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। [এই ঘটনার প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক।

কারো সাথে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই। ] ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।