আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার নৌকা ভ্রমণ ও পাঁচ টাকার মিলাদ

যারা অন্যের সাথে প্রতারণা করে তারা প্রথমে নীজের সাথে প্রতারণা করে,কিন্তু নির্বোধ বলে তারা তা বুঝে না। আর প্রতরণার মধ্য দিয়ে প্রতারক মানুষরুপী শয়তান ও প্রেতে পরিনত হয়। কিন্তু অজ্ঞনতার ধরুন বিবেক তাদের ধ্বংশন করে না। ফলস্বরুপ,তারা পাপাচারে সুখ ভোগ করে। বর্ষাকাল।

চারিধীক পানি থৈ-থৈ করছে। হালকা বাতাস শিশুর হাসির মত পানিতে ঢেউ তুলছে। এমনই মনো মুগ্ধকর দৃশ্য আমার বাড়ী ঘেষে রাস্তার পাশে বসে আমি উপভোগ করছিলাম। তখন নৌকা ভ্রমণের আক্রোশে আমার সমস্ত মনটা পানির ঢেউয়ের মত দোলতে থাকে। তখন আমার ইচ্ছা শক্তি এতই বেগ পেয়েছিল যে কোথাও তখনই নৌকা ভ্রমণ বেড়ায়।

হঠাৎ,আমার প্রিয়তমা আখির হাতের স্পর্শেবন্ধু আমার স্বপ্ন দেখা ভাঙ্গে। আখি আমার পাশে বসল। আমি ওর কাধে আমার বাম হাত রেখে দক্ষিন মুখ করে বসি। দক্ষিণা মৃদু হাওয়া আমাদের বুকে এসে লাগছিল। তখন আমি বোধ করছিলাম,যেন স্বর্গের হাওয়া নাসিকার ছিদ্রদ্বয় দিয়ে বয়ে নরকের আত্বাকে মুক্তি দিল,প্রশান্ত করিল।

সেখানে আমাদের দুজনার মাঝে কথা হলো নৌকা ভ্রমণ নিয়ে। কথাও পাকা হলো পরের দিনই যাব আটিয়ার মাঝার টাংগাইল। অরঘোমে রাত শেষে ভোর হলো। তখনো আকাশে হালকা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে,দিগন্ত বৃষ্টিতে ঝাপসা,বাদলার হাওয়া বদমেজাজী নারীর মতোই কিছুতেই শান্ত হতে চাচ্ছে না। তবে শান্ত হলো সকাল দশটায়।

দশটায় আমাদের গুনটিয়া গাঁয়ের ঋষী বাড়ীর খেয়াঘাট থেকে আনন্দে মুখরিত নৌকা যখন ছাড়ল,তখন ডাঙ্গার একদল মানুষ থেকে আমরা বিদায়ের অভিনন্দন পেলাম। নৌকা আমাদের ভেসে চলছে পানির বুকে,আর আমরা উপভোগ করছি চারিধারের প্রকৃতির দৃশ্য। দুর থেকে বাড়ীগুলো দেখতে মনে হচ্চছিল যেন বৃক্ষের পাহাড়। তবে তার নিটস্হ হতেই আরো মুগ্ধ হই। দেখি আম গাছের শাখা পানিকে স্পর্শ করে আছে,শাখায় আম ঝুলছে।

আমি দুটি আম ছিড়ে হাতে নেই,তা দেখে বৃক্ষের মালিক আমাকে বল্লেন,হে পথিক, আরও দুটি আম ছিড়ে লও। আমি লোকটির কথায় খুব অবাক হই। আমি লোকটিকে বলি,কাকা,আপনি সাধারন মানুষ নন,মহান মানুষ। তবে,কিছু-কিছু মানুষের আচার-আচরণ দেখে আমার মনে হয় তারা মানুষ নন,পশু,জন্তু,হিংস্র,ভূত,প্রেত। সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পরেছে তখন আমরা মাঝারে এসে পৌছলাম।

আমাদের দেখিয়া মাঝারের খাদেম তার আতিথ্যের হাত আমাদের মাঝে বাড়িয়ে দিলেন। তখন খাদেমকে দেখে আমার মনে হচ্চছিল,যেন আমি কোন দেবতাকেই দেখছি। মাঝারের সারা আঙ্গিনায় মানুষের ভীড়,নারী-পুরুষ সবাই ঘেঁষাঘেঁষী হাটা-চলা করছেন। এরই ফাঁকে আমরা মাঝারের ঘরটিতে ঢুকার অবকাশ পাই। ঢুকে দেখি সবাই মাঝারকে সিজদা করছেন,কেউ তার সন্তানকে মাঝারে গড়া-গড়ি দিচ্ছেন।

আমাকে সিজদা করতে বল্লেন,আমি সিজদা করিনি। কারণ?,এই পৃথিবীতে সিজদা করার মত আমার মা-বাবা ব্যাতী রেখে আমার কেউ নেই। পরে যিনি মিলাদ পড়ান তিনি আমাকে জিঙ্গেস করলেন,কত টাকার মিলাদ?। আমি আশ্চার্যান্নিত হই,মিলাদ আবার টাকার হয় নাকি?হয়। আমি পাঁচটাকার মিলাদ দিলাম।

পরে আমার ভূল ভাঙ্গে, যাকে আমি কিছুক্ষণ আগে দেবতা মানী,আসলেই সে দেবতা নন,মানুষ। আর মানুষ কখনোই দেবতা হতে পারে না,তবে শয়তান দেবতার অভিনেতা হন। মিলাদ শেষে আমাদের নৌকা বাড়ী মুখে ছাড়লাম। আসার পথে আমাদের অনেকেই শাপলা গাছ তুললেন। কিন্তু আমার মন সারাপথ শুধু পাঁচ টাকার মিলাদ নিয়েই ভাবেন।

যখনই আমাদের নৌকা গাঁয়ের সেই ঋষী বাড়ীর খেয়াঘাটে এসে পৌছলে সবাই হৈ-হৈ মুখে আওয়াজ তুলে লাফিয়ে-লাফিয়ে ডাঙ্গায় পা রেখে প্রত্যেকে বাড়ীর মুখী চলতে থাকেন। কিন্তু আমি বলি,ওগো নৌকার মাঝি,আমাকে জোড়ের সঙ্গে তুমার নৌকায় টেনে নিয়ে মাঝদরিয়ায় আমায় ফেলে দাও,আর যেন আমি পাঁচটাকার মিলাদ না দেই। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.