ফিদা হাসান রিসলু
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা শব্দগুলি একে অপরের পরিপূরক। আমরা নিত্য যার সাথে বসবাস করি, তার মধ্যে যেমন সুখ আছে, আনন্দ আছে, দুঃখ-বেদনাও আছে তদ্রুপ। আনন্দের ব্যক্তি প্রকাশ স্বতঃস্ফূর্ত। বেদনার ভারে ন্যুব্জ মানুষের অভিব্যক্তি তেমন নয়। হাসি আলোর মত ছড়িয়ে পড়ে, কান্না গুমড়ে মরে।
আনন্দ প্রকাশে কণ্ঠশিল্পী সুমন কবির গাইতে পারেন, ‘তুই হেসে উঠলে সূর্য লজ্জা পায়/ আলোর মুকুট খানি তোকেই পড়াতে চায়/ তুই হাত তালি দিলে জাকির হোসেন/ তবলা বাজানো ছেড়ে পায়রা পোষেণ’। কান্নার প্রকাশেও গান আছে তবে সেখানে ‘আমি নেইÑভাবতেই ব্যথায় ব্যথায় মন ভরে যায়’। অর্থাৎ বলতে পারি, হাসি মূর্ত, কান্না বিমূর্ত যদিও বিমূর্তের সর্বগ্রাসী মূর্তিমান প্রকাশ রয়েছে। আনন্দÑবেদনার এই দোলাচলে টানা এক মাসের রোজা বা সংযমের মধ্য দিয়ে আবারো ফিরে এসেছে ঈদ। বিশিষ্ট ধর্ম গবেষক মুহাম্মদ আব্দুল মুনিম খান লিখেছেন’ ‘ মানব জাতিকে পথভ্রষ্ট করার জন্য শয়তান মানুষের নফস্ বা প্রবৃত্তির উপর কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য- এই ষড়রিপু দ্বারা প্রভাব বিস্তার করে।
শয়তান যেমন মানুষের প্রকাশ্য শত্রু, তেমনি রিপুগুলোও মানুষের গুপ্ত শত্রু। যে মানুষ এগুলো নিয়ন্ত্রিত ও দমিত রাখতে পারে, সে রোজাদার মানুষই প্রকৃত বীরত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারে’। পবিত্র মাহে রমযানের এমনিতর উপলব্ধির আলোকে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের সকল বিত্তের মানুষের জীবনে দিনটি অন্য আলোয় আলোকিতÑঅনালোকিত।
ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই কেনাকাটায় সরব হয়ে উঠেছে সামর্থবান মানুষেরা। শপিংমল, বিপনী বিতান আর মার্কেট গুলিতে উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নেটকাপড় জমিনে নাক ফুলের রিয়েল স্টোন লাগানো শাড়ি, ক্রেপের উপর ধারকান কাজের শাড়ি, ধুপিয়ান কাতান, অপেরা জুট কাতান, গাদোয়ান কাতান বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। মাছের আকৃতি দিয়ে তৈরী ফিসকাট লেহেঙ্গা, ভারতের অর্চনা ব্রান্ডের পার্টি ফ্রক, কূর্তি, আনারকলি, জিপসি, মাসককলির সাথে ছেলেদের আইস বাইক সেট, এভার স্মার্ট টি-শার্ট, টাইটনিক ব্লেজার নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। নানা রকমের কারুকাজ নিয়ে ফিরে এসেছে লম্বা ঝুলের ধ্রুপদি পাঞ্জাবি। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে জনপ্রিয় ডোরেমন কার্টুনের ‘সিজুকা’ বা বার্বিডল পুতুলের গোলাপি ঝালরের পোশাক। অবিশ্বাস্য মূল্যে বিকিকিনির এই ‘পাগলু’ হাওযায় উচ্চবিত্তের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের।
তারপরেও প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা-মমতায় ঈদের বাহারি আয়োজনে অবগাহন করছেন তারা। উচ্চবিত্তের এই দৃশ্যমান সুখ আর মধ্যবিত্তের স্বস্তি খুঁজে ফেরার এই আয়োজনের পাশেই রয়েছে অধিকাংশ মানুষের গভীর অসুখ। ঈদের হাসি-খুশি থেকে এরা দুরে-বহুদুরে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউ এফ পি) ২০০৯ সালে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তার ভিত্তিতে বিশিষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিবেদক শওকত হোসেন লিখেছেন, ‘একজন মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে দুই হাজার ২২২ ক্যালরি গ্রহণ করতে হয়।
এর চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করে এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দেশে ছয় কোটি এক লাখ। এক হাজার ৮০০ এর কম ক্যালরি গ্রহণ করে এমন জনগোষ্ঠীকে বলা হয় হত দরিদ্র বা ‘আলট্টা পুওর’। এদের সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ। ১ হাজার ৬০০ এর কম ক্যালরি গ্রহণ করে এমন মানুষ চরম দরিদ্র বা ‘হার্ডকোর পুওর’। এদের সংখ্যা তিন কোটি ১০ লাখ।
নিঃস্ব, রিক্ত, বঞ্চিত বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জীবনে ঈদ যেন প্রখ্যাত কার্টুনিষ্ট শিশির ভট্টাচার্যের আঁকা চিত্রকলা- ‘খেলা দেখে যান বাবুু’। এদের পেটে খাবার নেই, পড়নে কাপড় নেই, শোয়ার ঘর নেই, অসুখের চিকিৎসা নেই, কর্মের সংস্থান নেই, বিনোদনতো নেইই। শরীরের শ্রম বিকিয়ে কিংবা বিক্রি করতে না পেরে ভিজিএফ, টেষ্ট রিলিফ, কাবিখা, কাবিটা নির্ভর এই জীবনগুলো ঈদের আনন্দ খূঁজে ফেরে বাজারের সস্তা সেমাইয়ের মাঝে। এরা ঈদের সুগন্ধে ডুবে যাবে এক টুকরা মাংস ভাত পেলে। সমাজ-সভ্যতাকে ব্যঙ্গ করে টিকে থাকা এই অসহায় আদিমগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষা এসে যায়, ‘একি মনুষ্য জন্ম নাকি শেষ পুরোহিতের কংকাল পাশা খেলা’।
রাজনীতির পাশা খেলায় মত্ত মানুষদের কাছে এরা গুটির চাল। পাঁচ বছর অন্তর এদেরকে ব্যবহার করেই ‘রাজা যায়, রাজা আসে’। আগত রাজা ভূলে যায় তাদের, বিগত রাজা ফন্দি আঁটে, ফিকির খোঁজে। শক্তিমানদের চোখের আড়ালের এইসব দলিত মানুষদের জীবনের কাছাকাছি আরো অসংখ্য জীবনের দায়ভারে কান্ত, বিপন্ন-শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ী আর চাকুরের নিম্নমধ্য-মধ্যবিত্তের দল। এরা জিরাফের মত লম্বা হতে চায় কিন্তু আকাশের দিকে তাকাতে পারেনা।
স্বার্থ বান্ধব, সুবিধা আশ্রিত এইসব মানুষের জীবন মৌলিক চাহিদা পূরনে ব্যর্থ হয়ে উৎকন্ঠিত। আয়ের চেয়ে ব্যায়ের আধিক্য এদের জীবনকে করে তুলেছে দূর্বিসহ। কথা দিয়ে কথা না রাখবার রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন,ব্যবসায়িক অনৈতিকতা, আইন শৃঙ্খলার ক্রমাবনতি, প্রতিষ্ঠানসমূহে মূল্যবোধের অবক্ষয়ে নিমজ্জমান মানুষ নিষ্পেষিত, বিপর্যস্ত। ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের দুই বছরের ‘কবরের শান্তি’ শেষে বুকভরা আশা নিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। একাত্তরের মানবতা বিরোধী যুদ্ধপরাধীদের বিচার আর প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবার প্রত্যয়কে বিশ্বাস করতে পেরেছিল নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা।
আড়াই বছরের মাথায় এসে মানুষের সেই আশা, ছেলেমেয়েদের সেই বিশ্বাস কোথায় যেন তালগোল হারিয়ে ফেলছে।
আওয়ামী লীগের নির্বচনী ইশতেহারে আগ্রাধিকার ভূক্ত পাঁচটি বিষয়ের প্রথমটিই ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ। ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগনের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা হবে এবং সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য সৃষ্টি করা হবে’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের সময়কার একটি কথার প্রচলন আছে। সেই মেয়াদের সফল কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধূরীকে উনি বলতেন, মানুষের পেট শান্ত থাকলে দেশও ভালোভাবে চলবে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর আইনের শাসনের অধোগমন সেই সরকারের পতনের কারণ আলোচিত হলেও তখন দ্রব্যমূল্য ছিল অনেকটা স্থিতিশীল।
সরকারের অর্ধেক সময়ে এসেই বলা যাচ্ছে, এবার তা নেই। লাফিয়ে লাফিয়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। সাধারন মানুষের নাগলের বাইরে চলে গেছে। তাছাড়া বাজারের উপরে কোন নিয়ন্ত্রনই রাখতে পারেনি সরকার।
বানিজ্য মন্ত্রীর বাগাড়ম্বর নিস্ফল প্রমানিত হয়েছে। মন্ত্রীর কম খাওয়ার উপদেশ বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘হিরক রাজার দেশে’ সিনেমার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে-’ বেশি খেলে বাড়ে মেদ, অনাহারে নাহি খেদ’। সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ মন্ত্রী আর নৌ পরিবহন মন্ত্রীর কর্ম-বচনে খোদ সরকার এবং দলের লোকজন বিব্রত হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিশিষ্ট জনদের আকাংখাকে ধারন করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান অদক্ষ মন্ত্রীদের অপসারনের মাধ্যমে জনগনকে ঈদ শুভেচ্ছা দেয়ার অনুরোধ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে ভিন্নভাবে নিয়েছেন।
তিনি গণপ্রত্যাশাকে শত্রুর লাভ-ক্ষতির পাল্লায় মাপতে চাইছেন। কৃষকের মুখের হাসি মিলিয়ে যাচ্ছে। কৃষিখাতে ভর্তুকি কমিয়ে সারের দাম বাড়িয়ে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের লাভ খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। ভূমি দশ্যুদের ললুপোতায় জমিজমা ধরে রাখায় দায় হয়ে পড়েছে তাদের। শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা আগের মতই বিরাজমান।
সরকার-মালিক-শ্রমিক চুক্তি ভংগ করে প্রতিবছর ঈদের আগে গার্মেন্টস কর্মিদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে উৎকণ্ঠার মধ্যে। অতীতের সব রেকর্ড ভংগ করে ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার (দুই হাজার ২৯২ কোটি ৪৪ লাখ) রপ্তানি আয় থেকে এসেছে, যার ৮০ শতাংশ এসেছে বিকাশমান এই পোশাক শিল্পের খাত থেকে। বেশী রপ্তানি করলে রপ্তানিকারকেরা সরকারের কাছ থেকে পান রপ্তানি ট্রফি। পান সিআইপির মর্যাদা। কিন্তু বেশী উৎপাদন করে বেশী মুনাফা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিদানে শ্রমিকেরা কি পান?
সবচেয়ে শংকার কথা, আইনের শাসন ভূলুন্ঠিত হচ্ছে।
আইনের রক্ষকেরা ভক্ষকের ভূমিকায় শিরোনাম হচ্ছে সংবাদপত্রের পাতায়। রাজশাহীতে চিকিৎসক দম্পতিকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগসহ অনেক অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। তাদের উপস্থিতিতে, তাদের প্ররোচনায় ‘আশরাফুল মখলুকাত’ মানুষেরা পিটিয়ে হত্যা করছে আরেক মানুষকে। বঞ্ছিত মানুষ, ব্যর্থ মানুষ নিজস্ব বঞ্ছনা-ব্যর্থতার জ্বালা মেটাতে একধরনের মর্ষকামি সুখ (স্যাডিষ্টিক প্লেজার) এর খোঁজে ব্যগ্র হয়ে উঠছে দানবিক ক্রোধে। পুলিশ এর উপশমের চেষ্টা না করে মানুষকে বিপদগামী করছে।
সামাজিকায়নে পড়ছে এর বিরূপ ছায়া। মানুষ ভীত বিহবল হয়ে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে।
গনতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানে যাদের ভূমিকা হওয়ার কথা ছায়াসংগির, সেই বিরোধীদলের সীমাহীন ব্যর্থতা মানুষের মনকে বিষিয়ে তুলছে। জনগনের ভোট নিয়ে বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদে শপথ নিয়েছেন অথচ পণ করে বসে আসেন, অধিবেশনে যাবেন না। ‘নানা মুনির নানা মত’ সম্ভবত তার পছন্দ নয়।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের বিভিন্ন অপকর্মের বোঝা নিয়ে জাতীয়তাবাদী দল তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অভিযোগ নিয়ে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়ার গাবতলিতে অবাঞ্চিত হচ্ছেন আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঘোষিত বাংলাদেশ সফরের সময়ে হরতাল ডাকার কথা বলে গয়েশ্বর রায় বেগম জিয়ার ভৎর্সনা শুনছেন। উপর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলটি এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ হতে পারেনি। এর বাইরে বামপন্থি যারা অল্প-স্বল্প আছেন, তাদের কেউ কেউ সুবিধাবাদের চোরাগলিতে ঘুরপাক খাচ্ছেন আর বাকি কিছু গভীর শীতনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে আছেন। রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতির এই দীনতার আলোচনা মহাত্মা গান্ধির ছয়টি পাপের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আদর্শ ছাড়া রাজনীতি, নীতি ছাড়া বানিজ্য, বিবেক ছাড়া উপভোগ, চরিত্র ছাড়া জ্ঞানচর্চা, মানবতা ছাড়া বিজ্ঞান আর ত্যাগ ছাড়া ধর্মসাধনা। আমরা বোধহয় সবকিছু ছেড়ে-ছুড়ে গভীর থেকে গভীরতর পাপের দিকে এগিয়ে চলছি। বিরাজমান এই পরিস্থিতিতে উৎকন্ঠিত হয়ে উঠছেন আগামী দেখা বিশিষ্ঠ জনেরা। তারা বলছেন ,‘ধিক্ এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি’! এখানেই এসে মিশেছে শিকড়ের পঁচন। বিদ্যমান রাজনীতির চলন-ধরন-বলনে পরিবর্তন আনতে হবে।
আইনের শাসনের সঠিক প্রয়োগে গনতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা আর মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে হবে। ধনী-গরীবের প্রকট বৈষম্যকে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। অর্ধেক বা তারও কম মানুষ খেয়ে-পড়ে, দেশে-বিদেশে ঘুরে ফিরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে আর বাকি অর্ধেক কিংবা তারও বেশী মানুষ ঈদের নিজস্ব গন্ধই খুঁজে পাবেনা-এটা সমাজের বিভাজনকে বাড়িয়ে তুলবে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার প্রভাব পড়বে। অর্থনৈতিক সূচকে উঠার চেয়ে নেমে আসার প্রক্রিয়া বাড়তে থাকবে।
মূল্যবোধ, নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়ে অল্প কিছু মানুষ বুদ্ধির নেগেটিভ প্রনোদনায় সংস্কৃতিহীন বিত্তবান হবেন। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত হবে আর নিম্ন মধ্যবিত্ত হতে থাকবে বিত্তহীন। বঞ্চনার এই চলমান বন্ধন মানুষকে একত্রিত করবে। সমবেত মানুষ বেঁচে থাকবার নতুন স্বপ্নে বিভোর হবে। সামনে ছুটে যাওয়ার আগে তীরের কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার মত অনতি অতীত উঠে আসবে মানুষের চেতনায়।
আসবে মুক্তিযুদ্ধ। ফিরে আসবে বিশুদ্ধ গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর জাতীয়তাবাদ। লাখো শহীদের রক্তে মুক্ত সেই বাংলার অর্জিত মূল্যবোধের সুগন্ধ নিতে মানুষ বারবার সংগঠিত হবে, সংঘবদ্ধ হবে। শুনবে পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা- সব যখন তলিয়ে যায়, বিপন্নতা মানুষকে ফিরিয়ে দেয় স্মৃতি/সব যখন তলিয়ে যায়, স্মৃতি মানুষকে ফিরিয়ে দেয় দ্বিতীয়বারের আগুন/ একবুক বিপন্নতার ভিতরে মানুষের আর্তনাদ শুনে খলখল করে হাসছে জল/ জল মানুষের জল কল্লোল শোনেনি?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।