আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পিতার বিরুদ্ধে সাক্ষী একমাত্র মেয়ে- অভিযুক্ত মান্নান বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক পদে বহাল!

শিশু-কিশোর এবং য্কুদের চরিত্র গঠনের দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের সে প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ স্কাউটের নির্বাহী পরিচালক মজিবুর রহমান মান্নানের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার মেয়ে সারমিন মোনালিসা এবং সাবেক স্ত্রী শওকত আরা। তারা মামলা করেছেন মান্নানের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ যৌতুকলোভী এবং হীন চরিত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ার কারণে ১৯ বছর ধরে মেয়ে বঞ্চিত বাবার ভালবাসা থেকে। স্ত্রী বঞ্চিত সান্নিধ্য থেকে। এখনও তাদের প্রত্যাশা বাবা তার মেয়েকে কাছে টেনে নেবে।

স্বামী স্ত্রীকে আপন করে নেবে। এটা কেবলই তাদের আশা। বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের আপন করে নিতে মান্নানের কোন ইচ্ছা নেই। এদিকে যৌতুক নিরোধ আইনে শওকত আরার দায়ের করা ফৌজদারী মামলার আসামী মজিবুর রহমান মান্নান এখনও বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন।

আদালত থেকে ওই মামলায় তিনি জামিনও পেয়েছেন! অথচ যৌতুক নিরোধ অ্যাক্ট-১৯৮০ এর ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ মামলার আসামী জামিন পাবার যোগ্য নন। নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি ছিলেন আঞ্চলিক পরিচালক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে এন্তার অভিযোগ। ২জন যুগ্ম নির্বাহী পাচিলক কামরুল ইসলাম সেলিম ও মো. মহসীন এবং আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আকতার খানকে ডিঙ্গিয়ে ২০০৯ সালের প্রথমদিকে তিনি নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। নিজ কার্যালয়ের মহিলা কর্মীদের সঙ্গে রয়েছে তার বিশেষ সখ্যতা।

নিয়ম লংঘন না করে মহিলা কর্মীদের দিচ্ছেন বিশেষ সুবিধা- লম্বা ছুটি। এদেরই একজন সহকারী পরিচালক রুমানা আক্তার। নির্বাহী পরিচালক হিসেবে প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করা কোন বিধান নেই। তারপর স্কাউট প্রকল্পের পাজেরো (ন¤^র- ২৮৭৮) গাড়িটি তিনি সার্বক্ষনিকভাবে ব্যবহার করছেন। স্কাউট লটারী ২০১০-এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

কতগুলো টিকিট ফেরত এসেছে তার কোন হিসাব নেই। প্রায় ৩ কোটি টাকার বিষয় হলেও এ নিয়ে সরকারী কোন অডিট করা হয়নি। এখানে লাখ লাখ টাকার ঘাপলা রয়েছে বলে বাংলাদেশ স্কাউটের একাধিক কর্মকর্তা জানান। কর্মকর্তারা জানান, তিনি একদিনও সময় মতো অফিসে আসে না। এখানকার অধিকাংশ কর্মকর্তারা শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

তারা অফিসের কাজ বাদ দিয়ে ব্যস্ত থাকেন শেয়ার ব্যবসায়। নির্বাহী পরিচালক নিজেও শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তিনি অন্যদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন না বলে কর্মকর্তারা জানান। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা। ভালবেসে বিয়ের ৩১ বছর পরও স্বমী মান্নানের ঘরে যেতে ব্যাকুল স্ত্রী শওকত আরা।

২৮ বছর বয়সী মেয়ে মোনালিসার চাওয়া অতীত ভুলে বাবা-মা আবার শুরু করুক তাদের সুখের সংসার। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বরিশাল জেলার উজিরপুরের বান্না গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক মিয়ার পুত্র মজিবুর রহমান মান্নান বাল্যকাল থেকেই পিতার কর্মস্থল যশোরে বসবাস করেছেন। সেখানেই শওকত আরার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তার সঙ্গে গড়ে উঠে মান্নানের প্রেমের সম্পর্ক। ১৯৮০ সালের ২১ মার্চ তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৮৩ সালের ২৫ জুলাই তাদের একমাত্র সন্তান রোমান শারমিন মোনালিসার জন্ম হয়। মোনালিসা ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন। শওকত আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি মান্নানের স্থায়ী ঠিকানা জানতাম না। যখন তার সঙ্গে বিয়ে হয় তখন সে ছিল কলেজ পড়–য়া বেকার। মান্নান অতি দরিদ্র ঘরের সন্তান হওয়ায় শওকত আমার পিতা তার লেখা-পড়ার খরচ বহন করেছেন।

আমি স্কুলে শিক্ষকতা করে তার উচ্চ শিক্ষার খরচ বহন করি। মান্নান বাংলাদেশ স্কাউটসে সহকারী ফিল্ড কমিশনার হিসেবে চাকরি পেয়ে পটুয়াখালিতে যোগদান করেন। এর পর থেকেই দাম্পত্য জীবন জিরো হয়ে যায়। প্রথক কয়েক বছর সে আমাকে চিঠি লিখেছে। খোঁজ-খবর নিয়েছে।

টাকা-পয়সাও পাঠিয়েছে। এর পর সে আস্তে আস্তে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে মান্নান আমার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। টাকা দিতে না পারায় সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ওই সময় মান্নান বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় সদর দপ্তরে পোস্টিং পান।

ঢাকায় চাকুরীরত অবস্থায় তারই অধীনস্ত একজন প্রকল্প ম্যানেজার (সিলেটের মেয়ে মাশহুদা আক্তার রীনা)-র সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আপত্তিকর অবস্থায় কুমিল্লা বার্ড-এ ধরা খাওয়ার পর তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। পরে ঢাকায় এসে কাবিন নামা সম্পন্ন করেন। আমার অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে মান্নান আমার এবং কন্যার প্রতি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা দেখানো শুরু করে। মোনালিসাকে নিয়ে তার সঙ্গে ঢাকায় একত্রে বসবাসের প্রস্তাব দিলে মান্নান দুর্ব্যবহার শুরু করে।

আমাদের ঢাকায় আনতে চরম অনীহা দেখায়। এতে আমার মনে সন্দেহ দেখা দেয়। আমি গোপনে সংবাদ নেয়ার চেষ্টা করি। জানতে পারি মান্নান ঢাকায় রীনা নামের একটি মেয়ে বিয়ে করে সংসার করছেন। পরে আমি যৌতুক ও খোরপোশের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস (ব্লাস্ট) নামে একটি সংস্থার কাছে অভিযোগ দিই।

সংস্থাটি আপোস-মিমাংসার উদ্যোগ নিলেও ব্যর্থ হয় ব্যর্থ হয় তাদের প্রচেষ্টা। এরপরও আমি নিজের স্বমীকে কাছে পেতে চেষ্টা চালাই। মোনালিসা তার বাবাকে ফিরে পেতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালায়। এরই এক পর্যায়ে গত বছরের ২২শে মে শওকত আরার যশোরস্থ বাড়িতে বৈঠক বসে। সেদিন বিকেলে কন্যা মোনালিসাসহ অন্যান্য মানুষের উপস্থিতিতে মান্নান জানান, ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক পেলেই কেবল স্ত্রী কণ্যাকে ঘরে তুলে নেব।

অন্যথ্যায় নয়। এরপর মান্নান যশোর ত্যাগ করেন। তারপরও আমরা মান্নানের সঙ্গে আপোস মীমাংসার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। দাবি করি ভরণ-পোষনের টাকা। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আমি গত ৬ই এপ্রিল যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-এর আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ন¤^র ধারায় মামলা করি।

আদালতে মান্নান শওকত আরার সঙ্গে আপোস করার কথা জানালে আদালত তাকে জামিন দেয়। যৌতুক নিরোধ আইনে মান্নান জামিন পাওয়ার অযোগ্য হলেও সরকারের দু’জন সিনিয়র ও প্রভাবশালী সচিব এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের এক সাবেক সভাপতির লবিংয়ের কারণে তিনি জামিন পেয়ে গেছে। আপোস-মীমাংসার কথা বলে আদালত থেকে জামিন নিলেও মান্নান এ পর্যন্ত এ জাতীয় কোন উদ্যোগ নেয়নি। উপরন্তু আমাকে এবং আমার মেয়ে মোনালিসাকে রেখেছে হুমকির মুখে। চাপ দিচ্ছেন মামলা তুলে নিতে।

অজামিনযোগ্য মামলায় জামিন পাওয়ায় ঘটনায় এখন আমাদের দিন কাটছে নানা শংকার মধ্যে দিয়ে। আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর মামলার শুনানীর দিন ধার্য্য আছে। জানি না ওইদিন কি হবে। মোনালিসা জানান, আমার বাবা আমাদের ওপর অনেক অন্যায় অবিচার করেছে। তার প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে আমরা কিছু করতে পারেনি।

তিনি টাকা দিয়ে অনেককে কিনে ফেলেছেন। সর্বশেষ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অমরা ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে ভরসা হারিয়ে ফেলেছি। বাবার সাহস আরও বেড়ে গেছে। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি জানান, আমি উচ্চ শিক্ষিত মেয়ে। মা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

আমাদেরকে সম্মান নিয়ে চলতে হয়। এ কারণে অনেক কিছু করতে পারছি না। তারপর তাকে ছেড়ে দেব না। হয় আমরা তাকে পাব। না হয় তাকে শাস্তি পেতে হবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- মেয়ে হিসেব আমার প্রতি তা কি কোন দায়িত্ব নেই? আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওযার পর বাবার অফিসে গিয়ে পড়া-শুনার খরচ চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন- আমি এক বিলাশী পড়ার খরচ দিতে পারব না। এরপর থেকে আর তার কাছে যাই না। তিনি বলেন, বাবা তার কেকড়কে ভুলে গেছেন। মা যদি তার লেখা-পড়ার খরচ না চালাত তাহলে তিনি আর এ পজিশনে আসতে পারতেন না। তিনি দুঃখ করে বলেন, আজ মেয়ে হিসেবে আমার সামাজিক পরিচয় নেই।

খাতা-কলমে কেবল সাইনবোর্ড হিসেবে বাবার নাম ব্যবহার করছি। মা কিছুতেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। ইতোমধ্যেই মা ব্রেইন স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গেছে। মা মারা গেলে আমি কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব? মজিবুর রহমান মান্নান জানান, আজ থেকে ১৮ বছর আগে শওকত আরার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। সামাজিক ও আইগতভাবেই আমি তাকে তালাক দিয়েছি।

ডিভের্সের পর মেয়েকে আমি ঢাকায় আমার কাছে নিয়ে এসেছিলাম। ২-৩ বছর পর অনেক ঝামেলা করে শওকত আরা মেয়েকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যায়। মেয়েক আমি আমার আদর্শে মানুষ করতে চেয়েছিলাম। সে মায়ের কাছে থাকার কারণে মায়ের আদর্শে আদর্শিত হয়ে গেছে। হয়েছে উচ্ছৃক্সখল।

মা-মেয়ে এক হয়ে আমাকে হেনস্থা ও ইমেজ নষ্ট করতে আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। মামলাটি কোয়াশমেন্ট করতে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছি। নিয়মিত হাজিরা দিতে যশোরে আইনজীবি নিয়োগ করেছি। তিনি জানান, নেপথ্যে অনেক ঘটনা রয়েছে। এর আগে ১৯৯৭ সালেও মেয়ে মেনালিসা আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করেছিল।

আমাকে না জানিয়ে মেয়ে বিয়ে করেছিল। ডিভোর্সও হয়ে গেছে। আমি যখন বিয়ে করি তখন ছিলাম স্কুল টিচার। ছিলাম মাস্টর্স-এর ছাত্রও। চাকরি এবং টিউশনির টাকা দিয়ে আমি পড়া-লেখা করেছি।

কেউ আমার পড়া-লেখার খরচ যোগায়নি। তিনি জানান, আমি বাংলাদেশ স্কাউটকে সুন্দরভাবে চালাচ্ছি। এটা অনেকের পছন্দ হয়নি। এ কারণে এখানকার অনেকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি জানান, ইজ্জাতের মালিক আল্লাহ।

আপনি একজন স্কাউটের সদস্য ছিলেন। আমি আশা করব বিষয়টি নিয়ে আপনার কলম বন্ধ থাকবে। মান্নানের আইজীবি এডভোকেট মো. ইছহাক জানান, মান্নান যে নানাভাবে তার মেয়ে মেনালিসাকে বঞ্চিত করেছেন তা সত্য। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.