আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভাঙছে নদী পুড়ছে কপাল

আমাদের বশুবাড়ীর ঘাটের ঐতিয্য আর রক্ষাকরা গেলনা সেখানে াখেন এখন বাজে লোকেরা আড্ডা মারে। কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রভাবে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ভাঙছে নদী, বাড়ছে মানুষের আহাজারি। প্রমত্ত পদ্মা যেন এখন গ্রামবাসীর মনে নতুন আতঙ্ক এই বুঝি গোগ্রাসে গিলে ফেলবে সব কিছু ! উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে শ্রীনগরের ভাগ্যকুল বাজারের বহু দোকানঘরসহ পাশের আট কিলোমিটার এলাকার শতাধিক বসতভিটা পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তীব্র হুমকির মুখে ১৪টি গ্রামসহ মাওয়া-ভাগ্যকুল সড়ক, ঢাকা-দোহার সড়কের কামারগাঁও বাজার।

সহায়-সম্বল হারিয়ে ভিটেমাটিটুকু রার প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় মরিয়া নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। কিন্তু প্রমত্ত পদ্মার কাছে তাদের এ প্রয়াস ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রাচীন জনপদ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ তীরবর্তী বহু এলাকা পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দুই দিন আগে যে বাড়িটি নিরাপদ ছিল, সেই বাড়ির লোকজন আজ মালসামান সরিয়ে নিতে ব্যস্ত। আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করছে তারা।

শেষ সম্বল গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি রাখারও জায়গা নেই। বেড়িবাঁধের বড় রাস্তাও ছুঁইছুঁই করছে পানিতে। সবার যেন একটাই দুশ্চিন্তা, পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবে তারা। সম্প্রতি পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন ও প্রবল ঢেউয়ে ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে তীব্র ভাঙনকবলিত শ্রীনগরের ভাগ্যকুল ইউনিয়নে এসব চিত্র দেখা গেছে। অসহায় আর উদ্বাস্তু শত শত পরিবারে শুধু আহাজারি।

স্থানীয় নুরুল ইসলামের ষাটোর্ধ্ব স্ত্রী মেহেরজান বেগম ধ্বংসস্তূপের ভাঙাচোরা ঘরবাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চারটা ঘর গেলগা এক রাইতে। গাঙ্গে আমাগো ফকির বানাইয়া হালাইলো, এহন কি সরকার আমাগো জায়গা দিব?’ পাশের মান্দ্রা গ্রামের রেণু বেগম বলেন, ‘গত বছর গাঙ্গে আমাগো বাড়িঘর, জমিজমা সব নিছে, অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিছিলাম, এখন এই বাড়িটাও নদী ভাইঙ্গা নিল, যাওয়ার আর জায়গা নাই। ’ ভাগ্যকুল বাজারের তেল ব্যবসায়ী খালেক বলেন, ‘রাতে পদ্মায় দোকান নিয়ে গেছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তেল বিক্রি করছি। এখন মনে হচ্ছে, রাস্তাও গিলে খাবে।

’ ভাগ্যকুল গ্রামের জলিল বেপারী আফসোস করে বলেন, ‘বাপ-দাদার আমলের জমিজমা ঘরবাড়ি সবই খাইল পদ্মায়, এখন থাকার জায়গা নেই। নদীর পাড়ে একটা ঘর ভাইঙ্গা থুইছি, বাকিডাও ভাঙতে অইব। ’স্থানীয় মতি সারেং, রহিম শেখসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, চার বছর ধরে পদ্মায় অব্যাহত ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হলেও ভাঙনরোধে সরকারিভাবে তেমন কোনো পদপে নেওয়া হয়নি। ভাঙন দেখতে মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসে নানা প্রতিশ্র“তি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, পদ্মার ভাঙন পরিদর্শন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানানো হয়েছে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.