সক্রেটিস
নভেম্বর ২০০৩ - প্রচন্ড শীতে কাঁপছি আমি, ঠান্ডা পানিতে শরীরের প্রায় পুরোটাই ডোবা। সকাল থেকে এ পর্যন্ত হাফ লিটার ক্লোরিনেটেড পানি খেয়ে রোজা ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে। ক্লান্ত মনে ভাবছিলাম এ যাত্রায় আর হবে না,আমার শেষ রক্ষা হবেনা। এক দিকে বুড়ো ট্রেইনারের চেচামেচি আর অন্য দিকে ক্লান্তি আমাকে ডুবিয়ে দিচ্ছিল আমি যেন আর ভেসে থাকতে পারছি না,ডুবে যাচ্ছি আমি,প্রচন্ড হেলুসিনেশন হচ্ছে, অভিজ্ঞ ট্রেইনার বুঝতে পেরেছে কি হতে যাচ্ছে সে তার হাতে থাকা উদ্ধার যন্ত্র বাঁশ এগিয়ে দিল আমার দিকে কিন্তু সেটাকে আঁকড়ে ধরে রাখার মত শক্তি তখন আমার নেই, আমি পানি খেতে খেতে ডুবে যাচ্ছি ঠিক তখনই টের পেলাম কেও একজন আমাকে তার শীর্ণ হাত দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে,তখন থেকে কিছুক্ষন আমি আর কিছু যানি না। চোখ মেলে দেখি খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আছি আমাকে ঘিরে আছে এক গাদা মহিলা।
তারপর পরিচিত কন্ঠে কে যেন বলে উঠল “কি ভয় পাইছিলা? অনেক পানি খাইছ” স্বর অনুসরণ করে তাকিয়ে দেখি মহাগুরু আযম খান। বিশ্বাস হচ্ছিল না কিন্তু যখন সে আমাকে টেনে তুলল তখন মনে হল আমি বাস্তবেই আছি। সেই ছিল আমার উদ্ধারকারী এবং ঘটনা ঘটার কিছুক্ষন আগেই উনি পুল এ ঢুকেছিলেন। তারপর প্রতিদিন দেখা হত তার সাথে। এক সাথে “pre swimming stretching” করতাম ।
আফসোস মহাগুরুর কাছ থেকে তখন মিউজিকের কিছু শিখতে পারিনি তবে সাঁতার টা ঠিকই শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ক্লান্ত হয়ে পরলে পুলের পাশে মাঝে মাঝে একসাথে গান করতাম কিন্তু গুরুকে একা কোন গান গাইতে বললে গুরু একটা কথা প্রায়ই বলতেন “মরা মানুষের গান ভাল লাগেনা” , মাঝে মাঝে দু এক লাইন গাইলেই পরক্ষনে বলতেন “মরা মানুষ গাইয়া দিল”
যখন শুনলাম গুরু আর নেই তখন থেকে আমার শুধু সেই দিনগুলোর কথা মনে হতে থাকল। কান্না পেয়ে গেল। মনে হচ্ছিল এই সেদিন তার সাথে কথা বললাম। অতীতে বহুবার তার গান পারফর্ম করেছি কিন্তু তার একটাও তখন মনে পরছিল না,শুধু তার হাসিমাখা মুখখানা ভেসে উঠছিল।
আমার দুচোখ যখন জলে ভেজা তখন কে যেন বলে উঠল “কি ভয় পাইছিলা?”……
মহাগুরু মুক্তিযোদ্ধা আযম খান তোমাকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। তোমার রূহের মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসীব করুন।
যতদিন এ কন্ঠে জোর থাকবে ততদিন গেয়ে যাব তোমার বলা কথা,তোমার চাওয়া,তোমার স্বপ্ন, কথা দিলাম।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।