সমাজে জাতপাতের উৎপাত নিয়ে লালনের এ গান। আজকের সমাজে ধর্মীয় জাতের সমস্যা কম হলেও আমরা নানা জাতের বিচার দেখি, সবচেয়ে বেশী যেটা চোখে লাগে সেটা হল ধনী-গরীব আর শিক্ষিত-অশিক্ষিতের মধ্যে যে বৈষম্য। একেবারে যে নেই তাও বলা যায় না, নিম্ন বর্ণের হিন্দু, শিয়া, কাদিয়ানী, আদিবাসী এরা এখনও জাত বিচারের শিকার। লালন বলেন, এসব সমস্যা টিকে আছে কারণ সমাজে সঠিক কাজ করতে কেউ আর রাজি না, সবাই ফালতু জাতপাতের মত ননইস্যুকে ইস্যু করে 'তা না না না' করে সুপারফিসিয়ালি বেঁচে থাকতে চায়।
জাত গেলো জাত গেলো বলে
একী আজব কারখানা।
সত্যকাজে কেউ নয় রাজি
সব দেখি তা না না না । ।
যখন তুমি ভবে এলে
তখন তুমি কি জাত ছিলে
যাবার বেলায় কী জাত নিলে
একথা ভেবে বলো না। ।
ব্রাক্ষ্মণ চন্ডাল চামার মুচি
এক জলে সকলেই শুচি
দেখে শুনে হয় না রুচি
যমে তো কাউকে ছাড়বে না।
।
গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়
তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়
লালন বলে জাত কারে কয়
এই ভ্রম তো গেল না। ।
লালন প্রশ্ন করছেন, দুনিয়ায় আসার সময় আমাদের কোন জাত-গোত্র-বংশ-পরিচয় এসব কিছু থাকে না, থাকে শুধু মানুষ পরিচয়। আবার মরে যাবার সময়ও কোন পরিচয় থাকে না।
তাহলে মাঝে যে সময়টা আমরা বেঁচে থাকি তখন কেন ব্রাক্ষ্মণ-চন্ডাল, আশরাফ-আতরাফ এসব পরিচয় বড় হয়ে ওঠে?
জাতবিচারের অসারতা বুঝাতে লালন বলছেন, এক পানির দ্বারাই সকলের জীবনধারণ, একই পানিতেই সবাই শুচি-শুদ্ধ হয়, তারপরেও কিসের এত অহংকার? এছাড়া যমের হাত থেকে যেহেতু কেউই মুক্ত নয়, তাই জাতপাতের এসব বিচার লালনের কাছে বড্ড অরুচিকর।
সামাজিক এসব অনাচারের যে কোন ভিত্তি নাই সেটাও লালন উপমা দিয়ে বুঝাচ্ছেন। কেউ 'বেশ্যার বাড়িতে খাবার' খেয়ে আসলে সে সমাজে পতিত হয়, সমাজ তার নিন্দা করে কিন্তু গোপনে কেউ খেয়ে আসলে সমাজ কিভাবে তার প্রতিকার করে? অর্থাৎ সবকিছু চাপিয়ে দেয়া যায় না, ধর্মবিশ্বাস বা আচরণ মানুষের খুবই ব্যক্তিগত, এর মধ্যে জাতপাত এসব কিভাবে আসল সেটাই আশ্চর্যের।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।