আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যুদ্ধে আমরা জতিবই, ইতহিাসরে আঁস্তাকুড়ে যাবে পশ্চমিারা : গাদ্দাফি



লিবীয় স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, 'যুদ্ধে আমরাই বিজয়ী হব। কোনভাবে নতি স্বীকার করা হবে না যুদ্ধের জন্য আমরা প্রস্তুত। স্বল্প কিংবা দীর্ঘমেয়াদি যাই হোক। পশ্চিমা শক্তি নিক্ষিপ্ত হবে ইতিহাসের অাঁস্তাকুড়ে। ' গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে উলি্লখিত কথাগুলো বলতে দেখা যায়।

পশ্চিমা যৌথ বাহিনীর একের পর এক বোমা বর্ষণ ও আঘাতেও তার বাহিনীতে কোন রকম ভাঙন ধরেনি বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে গাদ্দাফি বিরোধী পশ্চিমা জোটে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। জার্মান সরে এসেছে তাদের অবস্থান থেকে। এ বিভক্তি আরও খারাপের দিকে যায় যখন জার্মানি ভূমধ্যসাগর থেকে দুটি যুদ্ধ জাহাজ এবং যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিচ্ছে। যদি ন্যাটোকে ক্ষমতা দিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র তাহলে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় রয়েছে।

জার্মান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এ কথা বলেছেন। লিবিয়া অভিযানের নেতৃত্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ালে এর দায়িত্ব নিতে দ্বিধাগ্রস্ত ন্যাটো। সোমবার ন্যাটোর বৈঠকে এ ব্যাপারে কোন মতৈক্য হয়নি। ব্রাসেলসে ন্যাটোর কয়েক সপ্তাহের বৈঠকের পরও লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরন বলেছেন, প্রথমে মনে হয়েছে যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে কিন্তু এখন এটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বিদ্রোহীরা লিবিয়ার বিভাজন চাচ্ছেন। তাদের সর্বোত্তম আশা লিবিয়ার বিভক্তি। তবে পশ্চিমারা লিবিয়ায় গাদ্দাফি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে আশঙ্কা করছেন। এমনকি দেশটির শাসন ব্যবস্থা বিভক্ত হতে পারে। বিবিসি, রয়টার্স, মেইল অনলাইন।

লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সামরিক অভিযানের মধ্যেই দেশটির শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, হামলাকারী পশ্চিমা শক্তিগুলো ইতিহাসের অাঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। বুধবার ভোরে ত্রিপোলিতে নিজের দুর্গে সমর্থকদের উদ্দেশে গাদ্দাফি বলেন, 'আমরা কোনভাবেই নতি স্বীকার করব না'। বরং হামলাকারীদের হারাব, যেকোন মূল্যে। একদল ফ্যাসিবাদী আজ আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিমা বিমান হামলা থেকে রক্ষায় সমর্থকরা গাদ্দাফির দুর্গের চারপাশে মানবপ্রাচীর তৈরি করেছে।

সসব সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া গাদ্দাফির এ ভাষণ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সমপ্রচারিত হয়। লিবিয়া সরকার দাবি করছে, শুধু হামলার শিকার হলে আত্মরক্ষা করছে তাদের সেনাবাহিনী, তবে কোন ধরনের অবৈধ বা অন্যায় হামলা চালাচ্ছে না তারা। তবে বিদ্রোহী ও অন্য বেসামরিক লিবীয়রা জানায়, গাদ্দাফি বাহিনী মিসরাটা শহরে বোমাবর্ষণ করেই চলেছে। সোমবার হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে বলে জানায় তারা। তিউনিশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত ছোট শহর জিনতানেও গাদ্দাফি বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কেবলমাত্র জাতিসংঘ প্রস্তাবে লিবিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে তা কার্যকর করতে সাহায্য করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন ন্যাটো রাষ্ট্রদূতরা। সোমবারের বৈঠকে তারা উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকার (নো ফ্লাই জোন) ব্যাপারে ন্যাটোজোটের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেয়ারও চেষ্টা চালান। কিন্তু বৈঠক থেকে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসেনি বলে জানিয়েছেন ন্যাটোর এক কূটনীতিক। তবে ন্যাটো বলছেন, আলোচনা চলবে। জোটের সদস্য তুরস্ক লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং ফ্রান্স ন্যাটোর নেতৃস্থানীয় ভূমিকার বিরোধী।

আরব দেশগুলোও ন্যাটো নেতৃত্বের বিরোধিতা করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ালে বহুজাতিক বাহিনীর অভিযানের সমন্বয় সাধনের জন্য ন্যাটোর কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়বে। সেক্ষেত্রে ন্যাটো অভিযান পরিচালনা এবং পরিকল্পনার অংশ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাঁেল জুপে। তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে লিবিয়া অভিযান পরিচালনা করছে। ক'দিন পর যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব ছেড়ে দিলে এ সহায়তায় এগিয়ে আসতে প্রস্তুত ন্যাটো।

কিন্তু ন্যাটোর এ ভূমিকার জন্য জোটের ২৮টি দেশের রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন পড়বে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তায়েপ এরদোগান বলেছেন, তুরস্ক কয়েকটি শর্তে ন্যাটোর এ ভূমিকা মানবে। লিবিয়ার বেসামরিকদের রক্ষায় জাতিসংঘ সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেয়ার পরে এ পর্যন্ত পশ্চিমা যুদ্ধবিমানগুলো লিবিয়ার ওপর প্রায় ৩০০ বোমা, ১৬২টি টমাহক ক্রুজ মিসাইল হামলা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, লিবিয়ায় (নো ফ্লাই জোন) কার্যকর করার লক্ষ্য শীঘ্রই অর্জন করবে তারা। তবে লিবিয়ার জনগণের জন্য গাদ্দাফি এখনো বিপজ্জনক।

লিবিয়া সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার কাজে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিয়ে যাবে জানিয়ে ওবামা বলেন, তবে আমরা এ অভিযানের নেতৃত্বে থাকব না। লিবিয়া অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সময় যুক্তরাষ্ট্র ব্যয় করবে কি-না, এ প্রশ্ন ওঠায় নো ফ্লাই জোন কার্যকর করার এ অভিযানের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে তারা। নো ফ্লাই জোন কার্যকর করার ক্ষেত্রে ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়ার বিষয়ে একমত হন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। কূটনীতিকরা জানান, এ অভিযানে ন্যাটোর নেতৃত্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি পরিচালক পর্ষদের নেতৃত্বে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো যৌথভাবে এ অভিযান চালানোর কথা। লিবিয়ার বিরুদ্ধে এটাই প্রথম সম্মিলিত কোন সামরিক পদক্ষেপ।

এদিকে কাতার থেকে আরও চারটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান ক্রিট দ্বীপ থেকে সিসিলিতে অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। অন্য আরব দেশগুলোও নো ফ্লাই জোন কার্যকর করার জন্য এগিয়ে আসবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে সংবাদ সংস্থা গেটি জানিয়েছে, গেটির আলোকচিত্রীসহ লিবিয়ায় নিখেঁাঁজ হওয়া তিন সাংবাদিকের মুক্তির আদেশ দিয়েছে লিবিয়া। এর আগে মঙ্গলবার লিবীয় বাহিনীর হাতে আটক হওয়া নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিককে মুক্তি দেয়া হয়। অন্যদিকে জানা যায় বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

মিসরাটা শহরে পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খাবারের মজুদও শেষ হয়ে আসছে। স্থানীয় হাসপাতালে হতাহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সেখানকার অবস্থা বিপর্যস্ত। হতাহতদের চিকিৎসার কাজ চালিয়ে নিতে মানুষের শারিরীক ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছেছেন চিকিৎসকর্মীরা।

হতাহতদের অনেকে গোলাগুলি ও চোরাগোপ্তা হামলার কারণে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছতেও পারেনি। পূর্ব লিবিয়ায় আজদাবিয়াহর কাছে বিদ্রোহীদের দমিয়ে রেখেছে সরকারি বাহিনী। তবে এ শহর থেকে আর কোন গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। সরকারি বাহিনীর ট্যাঙ্ক ও বোমা হামলা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে আছে বিদ্রোহীরা। মূলত সেসব জায়গায় ভারি অস্ত্রশস্ত্র, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, এমনকি পরিকল্পনাবিহীনভাবে আটকা পড়েছে তারা।

দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্রোহী বাহিনী খুব একটি সক্রিয় নয়। তবে বিদ্রোহী বাহিনীর জন্য রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে নেয়াটা বেশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।