আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একজন বিখ্যাত লেখকের অভিনব প্রতারণা প্রসঙ্গে



আমি একজন শিক্ষার্থী। একজন পাঠকও বটে। বাংলা বিভাগে লেখাপড়া করার কারণে সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের প্রায় সব বইয়েরই খোঁজখবর রাখি। আর বিশেষ করে যাদের লেখা আমার ভালো লাগে তাদের বইগুলো সংগ্রহের আপ্রাণ চেষ্টা করি। প্রতি বছরই অমর একুশে গ্রন্থমেলা আসলে প্রচুর বই কেনা হয়।

সারা বছর নানাভাবে খরচ কমিয়ে এই সময়ে বই কেনার জন্য টাকা জমানো অনেকের মতোই আমারও কাজ। সেই নিয়মেই সারা বছর জমানো টাকাগুলো দিয়ে এবারের বইমেলায় বই কিনছি, কিছু কিনেছি, আরো কিছু কিনবো। কিন্তু পছন্দের লেখকের বই কিনতে গিয়ে এবার একটা ধাক্কাই খেলাম। মনে হলো, লেখক-কবিদের মধ্যেও শঠতা আছে, নোংরামি আছে। সমকালের কবিদের মধ্যে টোকন ঠাকুরের কবিতা আমার পছন্দ।

পছন্দ বললেও কম বলা হয়ে যাবে; তার কবিতা আমি একটু বেশিই ভালোবাসি। ব্যক্তি টোকন ঠাকুরকে চিনি না, কখনো কথা বা পরিচয় হয়নি। যতটুকু চেনা তার কবিতা আর লেখা পড়েই। এবারের বইমেলায় (২০১১) তার অনেকগুলো বই বের হয়েছে, হচ্ছে। প্রথমবারের মতো কয়েকটি গল্প-উপন্যাসের বইও তার বেরিয়েছে এবার।

কবিতার বই তো আছেই। মেলায় গিয়ে লোকমুখে শুনলাম, তার এবারের মোট বইয়ের সংখ্যা কুড়ি’র ওপর, যার বেশিরভাগই কবিতার বই। এরকমই দু’টো কবিতার বই ‘কুরঙ্গগুঞ্জন’ এবং ‘ভার্মিলিয়ন রেড’। ‘কুরঙ্গগুঞ্জন’ বেরিয়েছে আল-আমিন প্রকাশনী থেকে, মূল্য ৮০ টাকা। আর ‘ভার্মিলিয়ন রেড’ বেরিয়েছে অগ্রদূত প্রকাশনী থেকে, মূল্য ২০০ টাকা।

আমি এ দুটোই কিনেছি। সঙ্গে তার আরো কয়েকটি বই ‘রাক্ষস@জিমেইল.কম’, ‘টোকন ঠাকুরের কবিতা’, ‘দুপুর আর দুপুর রইল না’ Ñএগুলোও কিনেছি। কিন্তু বাসায় এসে যখন বইগুলো হাতড়ানো শুর” করলাম, তখন বিপদ হলো ‘কুরঙ্গগুঞ্জন’ এবং ‘ভার্মিলিয়ন রেড’ Ñএ বইদুটো নিয়ে। প্রথমটি সাধারন বই আকারের গ্রন্থ, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৮ এবং মূল্য ৮০ টাকা। আর দ্বিতীয়টি বড় আকারের এলবাম সাইজের বই, ভেতরের পৃষ্ঠাগুলোও অন্যরকম, পৃষ্ঠাসংখ্যা ৮০, মূল্য ২০০ টাকা।

কিন্তু সমস্যা হলো, দু’টো বইয়েই সবগুলো কবিতা হুবুহু এক। একই কবিতা দুটো পৃথক বইয়ে দিয়ে কেবল নাম, আকার আর মূল্য পাল্টে পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার অর্থ কিÑ তা আমার বোধগম্য হল না। বরং প্রচণ্ড হতাশ হলাম এই দেখে যে, একজন কবি এভাবে আমাকে ঠকালেন! আমি তো এই টাকা দিয়ে অন্য কোনো কবি বা লেখকের আরো দু’টো নতুন বই কিনতে পারতাম। বিষয়টি আমার কাছে খুব দু:খজনক মনে হয়েছে। ঢাকায় থাকি।

ঢাকার অনেক তর”ণ কবি লেখকের সাথে আমার কমবেশী সখ্য তো আছেই। তাদের একজনকে টেলিফোন করে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, এই টোকন ঠাকুরই নাকি কয়েকদিন আগে স্বনামধণ্য প্রকাশনী ‘ঐতিহ্য’-এর বির”দ্ধে বাংলা একাডেমীতে প্রতারণার অভিযোগ দিয়েছিলেন। আর তিনিই কিনা পাঠকের সাথে এমন প্রতারণা করলেন? একই বইমেলায় একটি পান্ডুলিপি দুই নামে, দুই দামে, দুই আকারে, দুটি আলাদা প্রকাশনী থেকে বের করার মাধ্যমে টোকন ঠাকুর শুধু পাঠকদেরই নন, এই দুই প্রকাশকের সাথেও প্রতারণা করলেন বলে আমার মনে হয়। আমি একজন পাঠক এবং একই সঙ্গে একজন ক্রেতা হিসেবে টোকন ঠাকুরের এই প্রতারনামূলক আচরনের তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং অবিলম্বে ক্রেতা-স্বার্থ সংরক্ষণের স্বার্থে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নিলুফার চৌধুরী বাংলা বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.