আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কয়েক দিনের খেলার সাথী, কিন্তু ছোট বেলার স্মৃতির বড় একটা অংশ জুড়ে যে এখনও আছে

এতটুকু বুঝি জীবনের কাছে আবেগ নস্যি।
বাল্য কালে কতই না খেলার সাথী মিলে আবার সময়ের আবহে হারিয়ে যায়, কাউকে ভুলে যাই আবার কেউ মনের অজান্তেই স্মৃতির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে স্মৃতির কোঠরের সেই সাথী যার নামটি ছিল দু-অক্ষরের মনি অবশ্য এই ছোট নামটাই মনে পড়ে আসল নামটা মনেই করতে পারতেছি না যেভাবে ও আমার অথবা আমি ওর খেলার সাথী আমার সবে মাত্র ২ ক্লাশের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হল ৩ ক্লাশ শুরু হওয়ার জন্য তখনো অনেক সময় বাকি, তো ওই সময় টা নানা বাড়ী, খালা বাড়ীতে কাটানোর মজাই আলাদা আমি আমার মেজ খালা বাড়ী যা্ওয়ার বায়না ধরলাম, কিন্তু আমাকে খালা বাড়ী নিয়ে যাওয়ার মত কেউই নেই । এদিকে পরীক্ষার ২/৩ দিন পর মনির ছোট কাকা আমাদের বাড়ীতে আসল , মনির এই কাকাটা আমাদের উপজেলার কলেজে পড়ত এই জন্যে এই মামাটা প্রায় আমাদের বাড়ীতে আসত.. মামাটার কলেজ বন্ধ দেওয়ায় উনিও বাড়ীতে যাবে.....বলে রাখা ভালে আমার মেজ খালার বাড়ী থেকে মনিদের বাড়ী প্রায় ২ কি.মি. এদিক ওদিক। মামা আমার মন খারাপ দেখে আম্মার কাছে বলে উনি আমাকে মেজ খালার বাড়ী দিয়ে আসবে...কিন্তু একটা শর্ত সাপেক্ষে শর্ত হইল প্রথম ২দিন মামাদের বাড়ী থাকতে হবে কান্না-কাটি করতে পারব না পরে শর্ত মেনেই মামার সাথে চলে গেলোম এই মামাটা কে অনেক দেখছি কিন্তু ওনাদের বাড়িতে এই প্রথম আসলাম মামা আমাকে বাড়িতে এনেই প্রথম ওনার আম্মার সাথে তার পর তার ভাবী ও ভাইয়ার সাথে শেষ মুহুত্বে ওনার এক মাত্র ভাতিজি মনির সাথে পরিচয় করানোর জন্য নিয়ে এলেন কিন্তু ওর কাছে এনে যা বললেন তা শুনে আমিতো মনির সাথে পরিচয় হয়ে অতটা খুশি হই নাই কারন স্কাট পরা একটা মেয়ে কিভাবে আমার সাথে ফুটবল আর ক্রিকেট খেলবে? আমি আশার সময় আমর ফুটবল পর্যন্ত নিয়া এসেছিলাম আমি মন খারাপ করে মামার রুমে চলে এসেছি.....ওদিকে কিছুক্ষন পর মনি তার পুরো খেলার সরঞ্জাম নিয়ে চলে আসল মামার রুমে এর মধ্যে যেমন পুতুল ছিল তেমনি ব্যাটারি দিয়ে চালানোর মার্চেটিজ ও ছিল তখন থেকে একটু একটু করে ভাব হয়ে যায় তার পর থেকে ওর সাথে যেমন পুতুল খেলেছি তেমন ও আমার সাথে ক্রিকেট ফুটবল ও খেলেছে, মনি ফুটবল ভালো খেলতো প্রমানসরুপ ওদের শোকেস এর একটা গ্লাস ভেঙেছে বল ক্রিক করে পরের দিন মামা আমাদের একটা দোলনা বেঁধে দিয়েছেন আম গাছের ডালে..........দোল দোল দোলনী, রাঙা মাথার চিরুনী..... সেই দোলনী.....আহা কি শান্তি আকাশে বাতাশে.........! মনিও তখন আমার মতই ২ ক্লাশ শেষ করেছিল তখন স্কুল বন্ধ কিন্তু ও গানের টিচার আসত সন্ধ্যায় গান শিখানোর জন্য...মনি আমি যতদিন চিলাম একদিনও গান শিখতে বসে নাই কারন ও দুপরেই রেওয়াজ করে পেলত আমি হারমোনিয়াম বাজাইতাম ও গাইত কি যে, বাজাইতাম আর ও যে কি গাইত একনও মনে হলে খুব হাসি পায় তবে একজন শ্রোতা ছিল যে বরাবরই বলত অনেক ভাল হয়েছে সে, ছিল ওই মামাটা মামা যদিও আম্মার কাছে বলেছিল ২দিন পর আমাকে আমার মেজ খালার বাড়ী দিয়ে আসবেন...কিন্তু সেটা ২ থেকে ১২ দিনে গিয়ে দাড়িয়েছিল তাও যখন আমার খালু আমাকে নিতে এসেছেন। মামা দেখল আমি খুবেই আনন্দে আছি এদিকে আমি যেদিন চলে যাচ্ছি তখন মনি আমাকে যেতে দিবে না আমারও ওকে রেখে যেতে ইচ্ছে করে নাই....বলেই পেললাম মনিকে আমাদের সাথে দিয়ে দেওয়ার জন্য......মনিও এক লাফে রাজী আমার সাথে যাবে কিন্তু ওর আম্মু ওদের নানা বাড়ী যাবে এজন্যে দিতে চাইছেন না পরে মনি অনেক কান্না কাটি করেও আসতে পারে নাই ওকে চেড়ে আসতে কছিুটা কষ্ট পয়েছি কিন্তু খালা বাড়ী এসে আবার কাজিনদের সাথে মেতে উঠেছি... কিন্তু কখোনই ভাবতে পারি নাই মনির সাথে ওটাই শেষ দেখা
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।