আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একজন সাদ নাবীল এবং তার আমেরিকান হওয়ার খায়েশ

নিজেকে হয় নাই চেনা
ফ্রিস্কো লিবার্টি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সাদ নাবীল। বাংলাদেশে জন্ম গ্রহন কারি কথিত ১৮ বছর বয়সি একজন যুবক। এই সাদ নাবীল বাংলাদেশে জন্ম গ্রহনের তিন বছর পর সপরিবারে আমেরিকায় পাড়ি জমায়। আমেরিকায় গিয়ে তার পিতামাতা সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে তা পেতে ব্যর্থ হয়, তাদেরকে আমেরিকা ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করা হলে তারা তা না করে সপরিবারে Frisco, TX এর ডালাসে চলে আসে এবং সেখান থেকে সেদেশের ভিসা ও গ্রীন কার্ড পেতে আবেদন করে। এরি মধ্যে এই ছেলেটি ঐ স্কুল পাশ করে আর্লিংটনের ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে থাকে।

এর পর তারা ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে আসার আগে তারা কানাডায় রিফিউজি ষ্টাটাসের জন্য আবেদন করে কিন্তু এই আবেদনও প্রত্যাক্ষ্যাত হয়। অতঃপর সাদ নাবীল প্রায় ৪২ দিন জেল খাটার পর এই শর্তে ছাড়া পায় যে সে নিজ ইচ্ছায় ইউ এস ত্যাগ করছে এবং দশ বছরের আগে ইউ এস এ ফিরবে না এমন স্বিকৃতি সম্বলিত একটি বন্ডে সই করতে হবে তা না হইলে তাকে তার প্রাপ্ত সাজা ভোগ করতে হবে। কথায় আছে বাপ কা বেটা সিপাহি কা ঘোড়া। তার বাবা মা যেমন বাংলাদেশের মাটি তে থাকলে চুলকানি অনুভব করতেন ছেলেও সে রকমই অনুভব করতেন।

ইউএস থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি আঙ্গুল মুখে দিয়ে ঘরে বসে থাকেন নি। বাংলাদেশ তার কাছে একটি নির্বাসন ভুমির মতই মনে হয়েছিল। তাই স্বপনের ইউ এস এ ফিরে যেতে তার সংগ্রাম অব্যাহত থাকে। Facebook; YouTube; Twitter; এবং অন্যান্য social networking sites.Facebook Group এ "Official Group: Bring Saad Nabeel Back Home to America".নামে গ্রুপ খুলে একাকার করে দেয় সে। সুত্র Link: http://en.wikipedia.org/wiki/Saad_Nabeel যাহোক অনেক চেষ্টা তদবিরের পর মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বশ্ব বিখ্যাত ইসলামি বিশ্ব বিদ্যালয়ের সন্ধ্যান সে পায় তারই এক নিকটাত্বীয়ের মাধ্যমে যিনি ঐ ইউনিতে পি এইচ ডি করছেন।

অবশেষে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সেমিষ্টারে সে এই ইউনিতে ভর্তি হয়। এখানে এসে তার তো চক্ষুচকড়্গাছ!! হায় ইহা সে কি দেখিতে পাইতেসে!! এই অতি সার যুক্ত মস্তক বিশিষ্ট পতামাতার তাহারও শত গুন বেশি সার সমৃদ্ধ সন্তানের স্বপ্ন হইল যেভাবেই হোক সে আমেরিকাতে ফিরত যাইবে। সে জন্য সে সিনেমাষ্টাইলে কাজ আরম্ভ করতে লাগিল। ইংরেজি সিনেমাতে সচরাচরই দেখা যায় বহিষ্কৃত বা বঞ্চিত একজনের বিশাল অবদানের ফলে সে আবার পুনরায় স্বিকৃতি লাভ করে। এই অতিশয় আবাল সন্তান সে ভাবেই পথাবলম্বন করিল।

আই আই ইউ এমে আসিয়া সে তাহার চারিপাশে শুধুই আলকায়েদাদের আবিষ্কার করিতে লাগিল!!! সে ইন্টারনেটে ছড়াইতে লাগিল যে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া একটি আলকায়েদার আড্ডাখানা। এই সব কাজ করিয়া সে একদা তাহার হোষ্টেল ত্যাগ করিল। হোষ্টেল ত্যাগ করিবার সময় সে একখানা চিরকুট লিখিয়া গেল। উহাতে সে বলিল আম্রিকাতে সে যখন তখন সে দেশের মেয়েদের থেকে সে সেবা লইতে পারিত এখানে তাহা সম্ভব হইতেসে না। ঐখানে সবাই সেকুলারিজম নিয়া দিব্যি শুখনিন্দ্রায় আছে আর এখানে সবাই খালি ইসলাম ইসলাম করে।

যাই হোক আমার সার বিহীন ,মাথায় ইহা কিছুতেই খেলিতেসে না যে ইউনিভার্সিটির নামের মাঝে “ইসলামিক” শব্দ খানা দেখিয়াও কেন এই আজব কিসিমের আবাল সন্তান এই খানে আসিয়া জুটিল। এই আবাল সন্তান একটা কান্ড করিয়াছে বটে, তাহার কর্মকান্ড নিয়া আম্রিকাতে প্রচুর খবর রটিয়াছে। বিভিন্ন নামি দামি টিভি সংবাদে তাহার খবর প্রচারিত হইয়াছে। কিন্তু নিজেকে আমেরিকায় ফিরাইয়া নিবার জন্য এই আবাল সন্তান আই আই ইউ এম এ আমাদের বাংলাদেশিদের তথা বাংলাদেশের মান ইজ্জত ডুবাইয়াছে। শুধু তাই নয় এই ইউনিভার্সিটির রেপুটেশনও চরম ভাবে বিনষ্ট করিয়াছে।

এই চরম আজবীয় আবাল সন্তান দাবী করিয়াছে যে “I inadvertently revealed to them that I had Jewish friends back home," he said. "So, they automatically associated me as pro-Israel. They shoved me out of the group and told me to get out and get lost." আহা কি কষ্টের কথা! মনে হয় ঐ আবাল খানা এই ইউনিতে এক যুগের অধিক সময় অবস্থান করিয়াছে তাতেই তার সকল কিছু চেনা হইয়া গিয়াছে। অথচ সে এক মাসও এখানে থাকেনি। এই কদিনে তার অভিজ্ঞতার এরকম চরম বিস্তৃতি দেখিয়া আমার তো চক্ষু কপালে উঠিয়া গিয়াছে। সে আরও দাবি করে যে ““I was in a class where the professor was condoning terrorist activities," he said. "As soon as I heard that I got out of there." হায় হায় আম্রিকা এমন লোক কে থুইয়া কেন ওবামাকে প্রেসিডেন্ট বানাইল তাহা আমার মাথায় গমন করে না। আরও জানতে ব্রাউজ করুনঃ Click This Link এই পোষ্টে আই আই ইউ এম এর কজন ছাত্রের কমেন্ট লক্ষ করুনঃ Anonymous said... I am a student of this university and I utterly disagree with such a claim. IIUM certainly does not condone terrorism. IIUM has been in the forefront in promoting moderation and discourse among civilizations. Recently Secretary of States Hillary Clinton was in IIUM and she stands testimony of IIUM effort to promote world peace. You may read her letter of thanks at IIUM Website. http://www.iium.edu.my Ryan Habibullah, the Brown Baron said... Hey I go to IIUM and I'm born and raised American AND Bengali. I even met this kid once, didn't seem like much trouble. Anyway, as a patriotic American and a Law student here at IIUM I must say that this kid has no idea what he's talking about and probably has psychological problems. No teachers here support Al Qaida and no philosophy taught here supports killing innocent citizens. This kid needs to grow up. -Ryan Habibullah আমি এই ইউনিতে আছি আজ প্রায় চার বছর।

আমি কোথাও কোন ভায়োলেন্স দেখিনি বা কোন টেররিজমের ছিটেফোটাও দেখিনি এখানে। ইসলামি ইউনিভার্সিটি হলেও আমাদের সাথে অনেক ননমুসলিম ছাত্র ছাত্রীরাও পড়ে। আমরা যেমন তাদেরকে সম্মান করি তারাও আমাদেরকে সম্মান করে। টিচার রা ক্লাসে আমাদেরকে ও তাদেরকে একইভাবে ট্রিট করেন। কিন্তু এই আবাল জাতীয় প্রানীটা এক মাস থাকিয়া কেন এমন করিয়া সকল কিছু বুঝিল তা নিয়া গবেষনা দরকার।

নিজের নাক কাটিয়া অন্যের যাত্রা ভঙ্গের কথা বহুত শুনিয়াছি কিন্তু বাদ বাকী দশ জনের নাক কাটিয়া নিজের যাত্রা সুগম করার নজীর সে ভালই দেখাইল। নাবীলের আবালীয় বাবা মার কাছে আমার ছোট্ট করিয়া একটা আবেদন আপনারা জনসমুখে আকাডায় রুপ নিন, আর আপনাদের মুসলমান নাম খানা পালটে টম, ক্লিন্টন টাইপের নাম রাখুন। আর যাহারা ইসলাম নাম শুনিলে এলার্জি বোধ করেন তারা এই ইউনি থেকে হাজার মাইল দূরে থাকুন। কারন তাহারা তাহাদের আবালীয় সন্তানের পক্ষ লইয়া আই এস ডি তে (ইন্টারন্যশনাল স্টুডেন্ট ডিভিষন) গিয়া চরম উদ্ধত আচরন করিয়াছেন। ইউনি থেকে ভাগার পর থেকে তার হদিস কেউ জানে না, ইভেন মালয়েশিয়ান পুলিশও জানে না।

শোনা যাচ্ছে কোন এক বিদেশি সংস্থা তার মালয়েশিয়া অবস্থান কালীন সকল নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করছে।
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.