২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এটিএন বাংলার বিশেষ অনুষ্ঠান 'মিট দ্য প্রেস' সরাসরি সম্প্রচারিত হয় চ্যানেলটির স্টুডিও থেকে। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান। তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন বার্তা সংস্থা এপির ঢাকা ব্যুরো চিফ ফরিদ হোসেন এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ প্রতিনিধি শফিকুল করিম সাবু। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মতিউর রহমান সেখানেও দেশে জরুরি অবস্থা জারির সাফাই গান, সশস্ত্র বাহিনীর সরাসরি ভূমিকা রাখার কথা বলেন, এমনকি বিদেশি রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে দাতা দেশগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
মতিউর রহমানের কাছে ফরিদ হোসেন প্রশ্ন করেছিলেন, জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পরে আমরা যেটা দেখলাম যে বেসরকারি টেলিভিশনগুলো খবর প্রচার বন্ধ করে দিল এবং আপনি জানেন যে পত্রিকাগুলোতে ফোন এল, 'আপনারা জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে বা এ ধরনের সমালোচনা করে কিছু লিখবেন না। ' তার পরও কেন আপনার পত্রিকাসহ, দেখলাম যে এ জরুরি অবস্থা এবং পরিবর্তনটাকে স্বাগত জানানো হলো?
জবাবে মতিউর রহমান বলেছিলেন, আপনি যদি বলেন, সরাসরি আমরা কোনো স্বাগত জানাইনি। বাস্তবতা এই ছিল, দেশ চলছিল না, দেশ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একটা যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হয়ে গিয়েছিল। তা থেকে একটা স্বস্তিকর অবস্থায় ফিরে এসেছে।
এ স্বস্তিকর অবস্থাকে অবশ্যই স্বাগত জানাই আমি। কারণ আমাদের স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজার, দোকানপাট সব খুলেছে। এগুলো তো মানুষ চায়। এগুলোকে জোর করে, বাধ্য করে, চাপ দিয়ে বন্ধ রাখার অবস্থা আমরা কখনোই গ্রহণ করব না।
এক-এগারোতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে মতিউর রহমান বলেন, আমাদের দাতা দেশগুলোর ব্যাপারে তাদের অবস্থান, তাদের ভূমিকা, বর্তমানে দেশের ভেতর নানা কথাবার্তা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আছে।
অনেকে পছন্দ করেন এবং অপছন্দ করেন। তবে আমি বলব, আমরা যে জায়গায় পেঁৗছে গিয়েছিলাম, সেখানে জাতিসংঘ বলুন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, এই দেশগুলোর প্রতিনিধি বা তাঁদের সরকারের অবস্থান আমাদের পরিস্থিতিকে কিছুটা সামলে উঠতে সহায়তা করেছে। এখন তারা কিভাবে সামলে দিয়েছে, বলা কঠিন। কিন্তু আমি বলব, নিশ্চয়ই তারা একটা কথায় পরিষ্কার ছিল যে দেশের সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেবে না, সামরিক শাসন জারি করা যাবে না, হত্যাকাণ্ড, রক্তপাত হবে না। শেষ পর্যন্ত এ রকম একটা সমাধানের কথা তারা বলে থাকতে পারে বা আপনারা শুনে থাকতে পারেন।
যা-ই হোক, একটা শান্তিপূর্ণ ভালো অবস্থার পরিবর্তন এবং দেশটা যাতে আবার ফিরে নির্বাচনমুখী একটা গণতান্ত্রিক ধারায় যেতে পারে; সেই ক্ষেত্রে যদি তারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কোনো ভূমিকা নিয়ে থাকে, আমি এতে কোনো আপত্তি দেখি না।
অনুষ্ঠানে মতিউর রহমানকে মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেছিলেন, আপনারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হোক_এ আন্দোলন করছেন। আপনারা প্রত্যাশা করছেন এবং বাইরে থেকে লোকজনও বলছে যে প্রচলিত ধারার রাজনীতির বাইরে রাজনীতি না করলেও আপনারা এক ধরনের রাজনীতি শুরু করেছেন। আপনার কি ধারণা এই সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আপনাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে?
জবাবে মতিউর রহমান বলেছিলেন, আসলে আমরা তো অনেকটাই উৎসাহের সঙ্গে নেমেছিলাম, সারা দেশে ঘুরেছিলাম এবং সৎ ও যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন, আলোচনা, মানুষের জমায়েত, মতবিনিময়_খুবই উৎসাহিত হয়েছিলাম। কিন্তু সবশেষে দেখা গেল এই দুই রাজনৈতিক জোট এবং দলের কর্মকাণ্ড ও মনোনয়ন ইত্যাদির মধ্য দিয়ে পুরো জিনিসটাই প্রায় মাঠে মারা গেছে।
অর্থাৎ এ বিষয়ে কারো কোনো আগ্রহ নেই। সে জন্য আমি বলব যে এ ধরনের আন্দোলন, নাগরিক উদ্যোগ, সুশীল সমাজের উদ্যোগ, মানুষকে রাজনৈতিক সচেতন করা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া_এ কাজগুলো আমাদের ভবিষ্যতে আরো বেশি করে করতে হবে। এ ছাড়া বোধ হয় আমাদের অন্য কোনো পথ নেই।
ফরিদ হোসেন বলেছিলেন এই যে পরিবর্তনটা হলো, নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো, সেখানে সশস্ত্র বাহিনী একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে। আমরা কিন্তু কোনো জায়গা থেকেই জানি না যে তাদের ভূমিকাটা কী? আপনি লিখেছেন, দাতা দেশগুলোও একটা ভূমিকা পালন করেছে।
আমি বিনীতভাবে আপনার কাছে জানতে চাই, আপনি কি বলবেন যে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাটা কী ছিল?
জবাবে মতিউর রহমান বলেছিলেন, দুটি দল, দুটি জোট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ রকম জায়গায় পেঁৗছেছিল যে আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম, রক্ত, সংঘাত, গৃহযুদ্ধের মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছিল এবং এটা শুরু হয়ে গিয়েছিল বলা যায়। এ অবস্থা পেছনে ফেলে দেশকে ফিরিয়ে আনার মতো শক্তি না আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের ছিল, না বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ছিল। এ জায়গাতে কিছুটা রেফারির ভূমিকায় যদি আপনি আমাকে বলতে বলেন, অথবা এই সংঘাত থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনা সম্পর্কে যদি আপনি আমাকে বলতে বলেন, এটার জন্য একমাত্র উপযুক্ত শক্তি দেশের মধ্যে ছিল, আছে_সশস্ত্র বাহিনী। আমার জানামতে, তারা সরাসরি ভূমিকা নিয়েছে। তারা এ অবস্থার পরিবর্তন করেছে।
তারা ইয়াজউদ্দিনকে পদত্যাগ করতে সহায়তা করেছে বা বাধ্য করেছে। দেশকে যে একটা স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসা হলো এবং মানুষ যে একটা স্বাভাবিকতার মধ্যে ফিরে এসেছে, এর পেছনে তাদের উদ্যোগ, চেষ্টা আছে বলে আমি মনে করি।
Click This Link
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।