আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভাইয়ের বউ যখন চাচী ; চাচীর বর যখন ভাই

নিজেকে হয় নাই চেনা

বাল্যকালে যখন স্কুলে যেতাম তখন থেকেই এলাকার এক বড় ভাই কে চিনতাম। তার নাম গিয়াশ উদ্দীন মুজাহিদ। আমরা কমলাপুর মহাসড়ক জামে মসজিদের ঠিক পেছনের বিল্ডিঙ্গটা ছেড়ে যখন এই নতুন এলাকায় এলাম তখন যাদের সাথে প্রথম সখ্যতা গড়ে উঠে তাদের মাঝে তিনি একজন। এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন তিনি। রাস্তায় চলাচল করা কালিন সবার খোজখবর নিতেন।

সবাইও তার খোজ খবর নিতো। নিয়মিত মসজিদে নামাজে তাকে দেখতাম। সেখান থেকেই পরিচয়। তার ছাত্রজীবন ও পারিবারিক জীবন আমাদের সামনে দিয়েই কেটেছে। শুরু থেকেই তাকে ভাইয়া বলে ডাকতাম।

ধীরে ধীরে সম্পর্কটা এমন গাড় হলো যে নিয়মিত বাসায় যাতায়াত, একসাথে খাওয়া দাওয়াও হতো মাঝে মাঝে। রক্তের সম্পর্কের কোন আত্বীয় না হলেও তার সাথে আমাদের সম্পর্কটা কোন অংশেই কম ছিলো না। বরং কোন কোন দিক দিয়ে চিন্তা করলে সেটা তার চেয়েও বেশী ছিলো যা এখনও আছে। ছাত্রজীবন শেষে যখন তিনি বিয়ে করলেন তখন তার বউয়ের সাথেও আমাদের সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠলো। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটলো অন্য জায়গায়।

বিয়ের পর যখন মুজাহিদ ভাইয়ের সহধর্মিনী এলেন তখন থেকেই আম্মু ও প্রতিবেশী চাচী/কাকি রা ওনাকে ভাবী বলে ডাকতে শুরু করলো। শুধু আম্মুরাই নন, তিনি নিজেও আম্মু সহ সব চাচী/কাকি দেরকে ভাবী বলে ডাকতে শুরু করলেন। আমাদেরতো এখন মহা জ্বালা। তাহলে আমরা ভাইয়াকে কি বলে ডাকবো? সেই ছোটকাল থেকে যাকে ভাইয়া বলে অস্থির তাকে হঠাৎ করেই কি করে কাক্কু বলা শুরু করি? ব্যপারটা না আমাদের জন্য সুখকর না ভাইয়ার নিজের জন্য। বয়সে যেহেতু মুজাহীদ ভাই আম্মুদের চেয়ে অনেক ছোট তাই আম্মুরা তাকে প্রথম থেকেই নাম ধরেই ডাকতেন তাই তাদের সমস্যার কিছুই নাই।

কিন্তু আমরাতো আর তাকে নাম ধরে ডাকতে পারি না। বিষয়টা যখন সবার নজরে আনা হল তখন আম্মু নিয়ে এলেন আরেকটা সমস্যার কথা নিয়ে। তিনি বললেন, যেহেতু রাশেদা ( মুজাহিদ ভাইয়ের বউ) বিবাহিত সেহেতু সে তোমাদের বোনদের সাথে চলাফেরার চাইতে আমাদের সাথেই চলতে ফিরতে স্বচ্ছন্দ বোধ করবে। কারন মেয়েরা সবাই কলেজে বা ভার্সিটিতে দৌড় ঝাপ আর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, তাহলে আল্টিমেটলি তাকে আমাদের সাথেই চলতে হবে। এখন ও যদি আমাদের খালাম্মা বা চাচী বলে ডাকতে শুরু করে তাহলে সে আমাদের সাথে তেমন ফ্রী হতে নাও পারতে পারে।

সে ক্ষেত্রে আমাদের উচিৎ তাকে ভাবী বলে ডাকা। আম্মুর যুক্তিটা মোটেই ফেলনা নয়, আর আমাদের মতে আমাদেরটা তো আরও সম্ভব না। কারন আমরা চেষ্টা করে দেখেছি, চাচ্চু,চাচা,কাকা, আংকেল যা ই বলতে যাই না কেন মুখ ফসকে ভাইয়া চলে আসে। শেষ পর্যন্ত আমরা মুজাহিদ ভাইকে ভাইয়া বলে ডাকতে শুরু করলাম আর তার সহধর্মিনী কে রাশেদা কাকী কলে ডাকতে শুরু করলাম। অর্থাৎ ভাইয়ার বউকে চাচী ডাকছি, অন্যভাবে বললে চাচীর বরকে ভাইয়া ডাকছি।

এখন পর্যন্ত এভাবেই চলছে। আমার ছোট চাচার একেবারে বাল্যকালের বন্ধুর নাম মিজান। চাচা কে চাচা বলার পাশাপাশি তার বন্ধুকেও যুক্তি সঙ্গতভাবেই আমরা চাচা বলে আসছিলাম। ওদিকে আমার বড় বোনের ক্লাশ মেট ও অন্তরঙ্গ বান্ধবী সালমা আপুকে তো আমরা শুরু থেকেই আপু বলে ডাকতাম। এখানে এসে বিড়ম্বনা বাধালেন আপু আর ছোট চাচা।

ওনারা শলা পরামর্শ করে একজন আরেক জনের বন্ধুর সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। এখন কাকে কি ডাকবো তা নিয়ে তো মহা গন্ডগোল লেগে গেল। হয় সালমা আপু কে কাকী নয় মিজান চাচা কে ভাইয়া। কিন্তু এত দিনের অভ্যেশ কি করে বদলাই? তাই এবারও যা হবার তাই হলো। মিজান সাহেবকে মিজান চাচা আর সালমা আপুকে সালমা আপু।

মানে চাচার বউ কে আপু ডাকছি, অথবা আপুর বর কে চাচা ডাকছি।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ২৩ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.