আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

টুকু মিয়ার উপদেশমালা

লিখতে ভাল লাগে, লিখে আনন্দ পাই, তাই লিখি। নতুন কিছু তৈরির আনন্দ পাই। কল্পনার আনন্দ।

তাঁর নাম টুকু মিয়া। অতি সাধারণ একজন ভদ্রলোক।

অনেকেই তাঁকে চেনেন, অনেকেই চেনেন না। তাঁর একটা ডায়েরি আছে। ডায়েরি অনেকেই রাখে; তাতে মনের কথা, গোপন কথা, নানা ক্ষোভের কথা, কাউকে বলা যায় না এমন কথা, নিজস্ব চিন্তার কথা ইত্যাদি লিখে রাখে। একদিন টুকু মিয়ার ডায়েরি হাতে পেয়ে দেখলাম, কি আশ্চর্য, এ তো উপদেশ দিয়ে ভর্তি! হ্যাঁ, টুকু মিয়া নিজের সাথে নিজেই কথা বলতেন, নিজেকে “তুমি” সম্বোধনযোগ্য ভিন্ন একটি ব্যক্তি কল্পনা করে কথা বলতে বোধহয় তাঁর সুবিধে হতো। কখনো প্রশ্ন করেছেন, কখনো ধমক দিয়েছেন।

আমার কাছে কয়েকটি উপদেশ বেশ অদ্ভুত লেগেছে। অনেকগুলোই চেনা কিংবা আগে শোনা, তবে একটু ঘুরিয়ে লেখা, যেন তিনি প্রবাদ-প্রবচন তৈরির একটা ক্ষীণ চেষ্টা করেছেন। চুরি করে তুলে দিলাম। দেখা যাক তাঁর এই বাক্যগুলো কেমনঃ ১. জিহ্বা সামলাতে শিখলে আর কিছুই সামলাতে হবে না। ২. বাইরের জগৎ কখনো কখনো অসহ্য লাগে।

তখন নিরাপদ হচ্ছে নিজের জগতে ডুব দেয়া। ৩. অন্যকে যতটা সম্মান কর, নুয়ে পড়, ততটা নিজেকে কর কি? ৪. বাজারে আলুর কেজি কত সেটাই যখন জানো না, নিজেকে জ্ঞানী ভাবার কোন কারণ নেই। ৫. তোমার ভেতর শিক্ষক আচরণ প্রবল। কিন্তু কাউকে তো কিছুই শেখাতে পারলে না। তার চেয়ে কিছুদিন ছাত্রের মতো আচরণ কর, লাভ হলেও হতে পারে।

৬. কু-প্রবৃত্তি যেহেতু সময়ে সময়ে তোমাকে বিরক্ত করে, ধরে নাও তুমি ভাল মানুষ হয়ে থাকার চেষ্টা করছ। ফল ছাড়া যে গাছ, তাতে কেউ ঢিল মারে না। ৭. মানুষের কান দুটো, মুখ একটা। কাজেই ... ... ৮. যে কোন জিনিসই আরম্ভ করা যায় খুব সহজে। কন্টিনিউ করতে পারাতেই বাহাদুরি।

৯. প্রশংসা কর পেছনে, নিন্দা কর সামনে। পরচর্চার সভাগুলো খুব আনন্দময়, কিন্তু সেখান থেকে হাতে করে কী নিয়ে আসতে পারো? ১০. যেটা বোঝো না সেটাই খারাপ, ভুল, অশিষ্ট কিংবা নিষিদ্ধ - এমনটা ভেবো না। ১১. “জানি না” বলতে শেখো। খুব কম মানুষই এটা বলার সাহস রাখে। ১২. “না” বলতে শেখো।

অনুরোধে পড়ে কিছু করে ফেলে পরে আক্ষেপ করা ঠিক নয়। ১৩. আমরা নিজের গুণ আর অন্যের দোষ খুব সহজে দেখতে পাই। সেই অন্য মানুষটিও যে দেখতে পায় ভেবেছ নিশ্চয়ই। ১৪. যত আপনই হোক, কিছুটা দূরত্ব থাকেই। ১৫. যে লোক চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে না, সে খুব সুবিধের নয়।

১৬. কাউকে কাঁদানোর কাজটা কঠিন, হাসানো সহজ – এমনটাই অনেকে ভাবে। আসলে উল্টোটাই সত্যি। ১৭. বুদ্ধিমান মানুষ এক গর্তে দু’বার পড়ে না এবং ঘরজামাই থাকে না। তুমি একই গর্তে ষোলবার পড়েছ এবং ... ... ১৮. মানুষের বেশীরভাগ কথাই অপ্রয়োজনীয়। তোমার কথাগুলো আরও বেশী অপ্রয়োজনীয়।

১৯. অন্যভাবে দেখতে শেখো। সবকিছুরই কয়েকটা দিক আছে। ওপাশ থেকে দেখলে ভাল লাগতেও পারে। ২০. Association of idea কখনো কখনো খুব কাজের জিনিস। একটা বিষয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে অন্য বিষয়ে চলে যাওয়া প্র্যাকটিস কর।

২১. কাজের প্রায়োরিটি যদি বুঝতে শেখো, তাহলে তুমি একজন বিবেচক মানুষ। আমরা বেশীরভাগ সময়েই বুঝতে ভুল করি, কোনটা আগে আর কোনটা পরে বসাবো। ২২. তোমার নিজেরও দোষত্রুটি আছে, তোমারও ভুল হয় এবং তুমিও হেরে যেতে পারো! তুমিও বাজে বকে থাকো, তোমার যুক্তিও দুর্বল হতে পারে এবং তোমার চেয়েও বুদ্ধিমান মানুষ আছে যে তোমাকে গর্তে ফেলতে পারে। ২৩. একটা দড়ি ধরলে আরেকটা ছাড়তে হয় – এটা মেনে নাও। ২৪. সবসময় খেলোয়াড় হওয়ার দরকার নেই।

কখনো কখনো দর্শকের আনন্দই বেশী। ২৫. প্রয়োজন ছাড়া কেউ একটা কাশিও দেয় না। ২৬. টাকা অতি উত্তম বস্তু। এটা পৃথিবীর একমাত্র পরশপাথর। একমাত্র এর লেনদেনেই বোঝা যায় কে আসলে কেমন।

তুমি কেমন সেটাও নিশ্চয়ই এতদিনে অন্যরা বুঝে ফেলেছে! ২৭. কাউকে গোলাপ ফুল দেয়ার সময় মুখ হাঁড়ির মতো করে কোনমতে “ভালোবাসি” বললে লাভ হয় না। অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাই। Passionately বলতে হবে, যাতে সবাই বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। ২৮. পচা বিরিয়ানি খেয়ে পেট খারাপ হলেও জীবন সুন্দর। অনেকেই আজ সকালে কিছু খেতে পায় নি।

২৯. তুমি একটা সময়ে একটা কাজই করতে পারো। ৩০. খেয়ে-পরে তো সবাই বেঁচে আছে। তোমাকে কেউ মনে রাখবে তো? ৩১. একবেলা মন খারাপ করে থাকলে ঐ এক বেলাই “লস”। আনন্দে থাকাটাই বড় কথা। ৩২. কখনো কখনো নিজেকে গুটিয়ে নিতে হয়, একটু ভাবতে হয় এবং গোপন করতে হয়।

৩৩. স্বপ্ন দেখার যেমন দরকার আছে, জেগে ওঠারও দরকার আছে। দ্বিতীয়টির দরকার বেশী। ৩৪. নিজের সাথে মানানসই স্বপ্ন দেখো। সবাই এভারেস্টে উঠতে পারবে না কিংবা ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার হবে না। কাউকে না কাউকে সাধারণ চাকরি করতে হবে এবং বাড়ি ফিরে বউয়ের মুখঝামটা খেতে হবে।

৩৫. Sorry শব্দটির বাংলা অনুবাদ জানাই যথেষ্ট নয় এবং ক্ষমা কীভাবে চাইতে হয় তা সবারই শেখার দরকার আছে। ৩৬. আসল কথাটা প্রথমেই বলে ফেলা ভাল। ৩৭. প্লীজ, বিশ্বাস কর, তুমি সবার সেরা নও। এবং সেটা হবার দরকারও নেই। ৩৮. সে চাকরি পাবে না, যে বিশ ঘণ্টা খাটতে পারবে।

সে-ই পাবে, যে দু’ঘণ্টা খেটে বিশ ঘণ্টার সমান লাভ এনে দিতে পারবে। Smartness matters. ৩৯. সবাই “দেখে”, কিন্তু “খেয়াল করে” খুব কম মানুষ। ৪০. কখনো কখনো নিজের সাথে কথা বলার দরকার হয়। ৪১. জ্ঞানী ব্যক্তিরা চিৎকার করেন না, কারণ প্রয়োজন হয় না। ৪২. যে পারে, সে করে।

যে পারে না, সে পরিকল্পনা এবং আলোচনা করে। ৪৩. তোমার দুটো হাত আর দুটো পা আছে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য আর কী কী লাগবে একটু ভাবো। ৪৪. তাকেই দেখবে চিন্তায় চিন্তায় আধখানা হয়ে যাচ্ছে, যার আসলে কোন কাজ নেই। এই যেমন তুমি।

৪৫. একমাত্র জড় বস্তুই কোন বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে না। ৪৬. তুমি অতীত নিয়ে এখনো কাঁদছ, যেটা চলে গেছে; আর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় অস্থির, যেটা এখনো আসে নি। যেটা বাকি রইলো সেটা হচ্ছে ... ... ৪৭. করে দেয়া অঙ্ক আবার মেলাতে পারায় কোন বাহাদুরি নেই। ৪৮. তুমি যখন অতি বৃদ্ধ এবং দুর্বল হয়ে যাবে, তখনও “আর মাত্র কিছুদিন” বাঁচতে চাইবে। ৪৯. তোমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যা-ই বলুক, তোমার বন্ধুর সংখ্যা আসলে খুবই কম।

আর “আসল বন্ধু”-র সংখ্যা অবশ্যই আঙুলে গুণতে পারবে। ৫০. যে যা-ই বলুক, বই পড়ার মতো বিনোদন আর নেই। শেষ বইটা কবে পড়েছ? ৫১. নিজেকে চিনতে হলে লোকে তোমার সম্পর্কে আড়ালে যা বলে, সেটুকু জানাই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে তোমার পরম শত্রুও সত্যবাদী হবে। ৫২. তোমার প্রশংসা সবাই করছে, ভাল বলছে - এটা আসল চিত্র নয়।

একটু নিচে নেমেই দেখো, সবাই কেমন আশ্চর্য দ্রুততায় বদলে যায়, এই মানুষগুলোই। ৫৩. “কী করবো ভেবে পাচ্ছি না” – এ কথা উচ্চারণ করে ফেললে মুখ ধুয়ে আসবে। ৫৪. কখনো কখনো বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না। নিজেকে জিজ্ঞেস কর, এখনো তুমি বেঁচে থাকার অধিকার রাখো কীনা। ৫৫. একমাত্র মৃত মানুষেরই কোন সমস্যা নেই।

যে জীবিত, তার অন্তত “কোন সমস্যা নেই” – এই সমস্যাটা আছে। ৫৬. যার একটি বিষাক্ত জিহ্বা আছে, তার আর কোন অস্ত্র না থাকলেও চলে। ৫৭. কখনো কখনো একা এবং অন্ধকারে চলতে হয়। ৫৮. তুমি যদি খুব দক্ষ সমালোচক হও, ধরে নাও যার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছ তার সামনে কিছু বলার সাহস তোমার নেই। ৫৯. কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে হলে তোমাকে জানতে হবে, একটা ছাগলের দাম পাঁচ হাজার টাকা হলে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের দূরত্ব কত।

৬০. কোন ব্রীজ তৈরিতে কত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে তা জানার চাইতে কোন দোকানে সস্তায় মোমবাতি পাওয়া যায় তা জানা বেশী জরুরী। দ্বিতীয় তথ্যটি কাজে লাগে। ৬১. কাউকে কাউকে বাধ্য হয়েই আঘাত করতে হয়, কথা কিংবা আচরণ দিয়ে। তার ভালোর জন্যই। ৬২. তোমার যদি সত্যিই কিছু পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকতো, কেউ না কেউ অনেক আগেই তোমাকে মেরে ফেলত।

৬৩. মতপার্থক্য মানেই শত্রুতা নয়, দুয়েকটি বিষয়ে মিল মানেই বন্ধুত্ব নয়। ৬৪. ভালোবাসার জন্ম মনে। ইন্টারনেটে কিংবা ফেসবুকে এটা খুঁজে পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ৬৫. একটা মশা মারতেও কিছু সময় লাগে। “অনেক বড়” হতে তোমার যদি কিছু বেশী সময় লাগে, অবাক হবার কিছু নেই।

৬৬. তুমি নিজে যদি চোর হও, তাহলে অন্য কাউকে চোর বলার সময় তুমি একজন আত্মীয় বাড়াচ্ছ। ৬৭. আছাড় খাওয়ার কাজটা সবাই পারে। উঠে দাঁড়ানোটা একটু মুশকিল। ৬৮. যারা তোমার ভুলগুলো নিয়ে তামাশা করে, তারা জানে না ভুলগুলো তোমার কত উপকার করেছে। ৬৯. যখন সবাই স্টেজের লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে, তুমি স্টেজের নিচের লোকগুলোর দিকে তাকাও।

যেটা সামনে থাকলেও কেউ দেখতে পায় না, সেটা দেখতে পাওয়া উচিৎ। এখানেই পর্যবেক্ষণশক্তির পরিচয়। ৭০. ভার্চুয়াল আর রিয়েলের পার্থক্য বোঝা জরুরী। আমরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বুঝি না। ৭১. মাথা নিচু আর মুখ বন্ধ লোক সাধারণত বিপদে পড়ে না।

৭২. শুধুমাত্র কিছু ধারণার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়াটা বোকামি। ৭৩. সে সুখী নয় যার একটি সুন্দরী মেয়েবন্ধু আছে। সে-ই সুখী, যার পরিপাকতন্ত্রে কোন গোলমাল নেই। ৭৪. মুখ বন্ধ না করলে দেখার চোখ খোলে না। ৭৫. মানুষ যতটুকু শোনে, যতটুকু বোঝে আর যতটুকু বলে তার মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে বলেই এত সমস্যা।

৭৬. কৃতজ্ঞতা আশা করা মানে সময় নষ্ট। ৭৭. তৃতীয় ব্যক্তি হও। বাকি দু’জন যা দেখছে না তুমি তা দেখতে পাবে। ৭৮. এক কৌতুকে দু’বার হাসানোর চেষ্টা কোরো না। ৭৯. নিজের শক্তি সে-ই জানে, যে নিজের সীমাবদ্ধতা জানে।

৮০. একটা কথা সুন্দর করে বলতে পারার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তুমি যদি খুব নির্ভরযোগ্যভাবে বলতে পারো, তবে ষাঁড়ের গোবরও বাহবা পাবে। কাজেই ভাষাজ্ঞান বাড়াও! ৮১. প্রথমেই নিজের দোষ স্বীকার করে নিলে অনেক চিৎকার-চেঁচামেচি এড়ানো যায়। ৮২. ভাল মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান মানুষের সুবিধে বেশী। ৮৩. যা কারো সামনে করতে পারো না, তা পেছনেও কোরো না।

৮৪. খিদে থাকলে ডালভাতই সই। ৮৫. অপমান হচ্ছে তুমি কতটা সহ্য করতে পারো তার পরীক্ষা। ৮৬. পৃথিবীর সবচেয়ে অর্থহীন বাক্য হচ্ছে “কিছু ভাল লাগছে না”। ৮৭. উত্তর দেয়ার আগে প্রশ্নটা পুরোপুরি পড়। ৮৮. তোমার অতি আদরের বেড়ালটাও একদিন মরে যাবে।

৮৯. অনধিকার চর্চা কোরো না। ভেবে দেখো তো, কেউ যদি তোমার গোপন কিছু তোমারই অগোচরে জেনে ফেলে, তোমার কেমন লাগবে? ৯০. সব কথা সবাইকে বলা যায় না। আর কিছু কথা আছে, যেগুলো কাউকেই বলা যায় না। ৯১. তোমার বেঁচে থাকার জন্য যা যা দরকার, তার সবই কিন্তু তোমার আছে। ৯২. সবাইকে চাইলেও খুশি রাখা যায় না।

মজার ব্যাপার হল, এটা করতেই আমরা বেশী সময় ব্যয় করি। ৯৩. তুমি যা বিশ্বাস কর আর যা চর্চা কর, দুটো যেন আলাদা না হয়। ৯৪. আজকের পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের জিনিসটি কিছুদিন বাদেই পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখবে। ৯৫. তুমি যা যা চেয়েছ, তার সবই পেয়ে গেলে বেঁচে থাকার কোন কারণ খুঁজে পেতে না। ৯৬. সবকিছুরই একটা “খোসা” থাকে, যেটা না ছাড়ালে পোকা ধরেছে কীনা বোঝা যায় না।

৯৭. কোন কোন ক্ষেত্রে প্রথমবারেই পারতে হয়। সমস্যা হল, তুমি জানো না কোনগুলোতে। ৯৮. আমরা জানার জন্য প্রশ্ন করি কম। হয়তো আমাদের কাছে প্রশ্নের চেয়ে উত্তর বেশী আছে। ৯৯. সাহায্য চাইলে পাবেই এমন কোন কথা নেই।

দুটো অপশন আছে। ১০০. জিততে চাওয়ার চেয়ে উপভোগ করতে চাওয়া ভাল। এতে হেরে গেলেও একেবারে খালি হাতে ফিরবে না। ১০১. যে কাজে ঘাপলা আছে, তাতে একটু হলেও খটকা লাগবেই। এটাই পাপ আর পুণ্য চেনার উপায়।

১০২. মানুষ দিনের শেষে স্কোরকার্ড দেখে, কে নিজেকে কত উজাড় করে খেলেছে তা দেখে না। ট্রফিটাও জয়ী দলটিই নেয়, লড়াই করে হারা দল নয়। ১০৩. উঁচুতে উঠতে অনেক সময় লাগলেও নেমে আসতে ততটা লাগে না। ১০৪. বিষ্ঠা বিষ্ঠাই। কোন বিখ্যাত ব্যক্তি যদি একে বুটের হালুয়া বলেন, তবুও এটা বিষ্ঠাই থাকে।

১০৫. মানুষ অবশ্যই তোমার একশো বারের সততা ভুলে যাবে এবং একবারের প্রতারণা মনে রাখবে। ১০৬. তুমি যখন বর্ম খুলে রাখবে, তখনই কেউ তীর মারবে। ১০৭. অতি কঠিন কাজটাও চেষ্টা করলে হয়তো পারতে। যতটা পারতে, ততটাই লাভ হতো। ১০৮. মানুষ ক্ষমা করলেও ভুলে যায় না।

১০৯. অতি দুঃখের বিষয়, যখন মানুষ বলবে যে তুমি খুব ভাল, সজ্জন এবং প্রতিভাবান একজন মানুষ ছিলে, তখন তুমি আর পৃথিবীতে নেই। ১১০. করবেই যখন, আনন্দের সাথে কর। ১১১. নষ্ট করার মতো সময় যার আছে, সে-ই কুচিন্তা করে। ১১২. দুঃসময়ে প্রিয়জনেরাও দু-চারটা লাথি দিতে ছাড়বে না। কাউকে সুযোগ দিতে নেই।

১১৩. তুমি কতটা ভাল মানুষ তার চেয়ে তোমার অর্থনৈতিক অবস্থা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের সময় পাত্র খুঁজতে গিয়ে কেউ জিজ্ঞেস করবে না পাত্রের চরিত্র কেমন, কিন্তু পাত্র কী করে তা ঠিকই জিজ্ঞেস করবে। ১১৪. একই প্রশ্নে একেকজন একেক কথা বলে বিভ্রান্ত করে দেবে। কাজেই নিজে বোঝার চেষ্টা কর। ১১৫. অন্যের প্রশংসা শুনলে গা জ্বলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

১১৬. গায়ের রঙের ওপর তোমার কোন হাত না থাকলেও মানুষ এটা বেশ গুরুত্ব নিয়ে দেখে। ১১৭. তুমি শুধরে গেলেও অতীত মুছে ফেলতে পারবে না। ১১৮. তোমাকে কেউ কখনো বলবে না, এবার থামো, বিশ্রাম নাও; অনেক কিছু করে ফেলেছ। ১১৯. মদের গেলাস সামনে রেখেও তুমি ভালোমানুষ হয়ে বসে থাকবে, মাঝে মাঝে এক-আধ চুমুক খেয়ে ফেলবে না, এটা আশা করা বোধহয় ঠিক নয়। ১২০. সবসময় মারফি’স ল’ মেনে চলা উচিৎ, যদিও কোন লাভ নেই! ১২১. আজকের পৃথিবীতে “কী” বলা হয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং “কে” বলেছে সেটাই সবাই শুনতে চায়।

১২২. অসম্ভব বলে কিছুই নেই কথাটা ঠিক নয়। অনেক কিছুই অসম্ভব। ১২৩. সুসংবাদ হল, অনেকের উপকারই পাবে। আর দুঃসংবাদ হল, সময়ে সময়ে তারা মনে করিয়ে দেবে। ১২৪. তুমি যদি সারাজীবন লেখালেখির নিয়ম শিখতে থাকো, তোমার প্রথম গল্পটা কোনদিনও লেখা হয়ে উঠবে না।

১২৫. সুযোগ অল্প কিছু আসে। অল্প কিছুকেই কাজে লাগাতে হয়। ১২৬. নিজের রান্না করা ভাত কখনো বিস্বাদ হয় না, এবং নিজের বানানো চায়ে লিকার কম হয় না। ১২৭. সবাই বড়জোর দেশ পর্যন্ত চিন্তা করে। তুমি যেন পুরো পৃথিবী নিয়ে ভাবার শক্তি রাখো।

১২৮. বড় বড় বিষয় নিয়ে সবাই একমত। ছোট ছোট বিষয় নিয়েই প্রলয়কাণ্ড ঘটে যায়। ১২৯. তর্কে জিততে হলে সবল যুক্তিই যথেষ্ট নয়, সবল চোয়ালও চাই। ১৩০. যার সাথে কাঁধে হাত রেখে চলার সম্পর্ক, তার কাছ থেকে কাজ আদায় করতে পারবে না। ১৩১. এক ঘণ্টা আরামের জন্য পাঁচ মিনিট কষ্ট করতে হলে তা-ই কর।

১৩২. এ যুগে কোন তথ্য খুঁজলে পাবে। কিন্তু বিশ্লেষণের ভারটা তোমার। ১৩৩. তোমার কিছুতেই যাদের কিছু যায় আসে না, তারাই দেখবে তোমার গতিবিধি খুব আগ্রহ নিয়ে লক্ষ করছে। ১৩৪. শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার সীমা রাখা উচিৎ। ১৩৫. এখন জ্ঞানীরা চুপ করে আছে আর মূর্খরা তর্ক করছে।

উল্টোটা হলে সমাধান এসে যেত। ১৩৬. সবাই, এমনকি তুমিও চাও যে সবাই তোমাকে এক নামে চিনুক। ১৩৭. যাদের যেখানে থাকার কথা, তারা সেখানেই আছে। ১৩৮. “সামান্য একটু মাত্রা ছাড়ানো” বলে কিছু নেই। মাত্রা ছাড়ানোর ব্যাপারটা বাড়তেই থাকে।

১৩৯. তুমি অনেক কিছুই পেয়েছ, যা তোমার পাবার কথা ছিল না। ১৪০. অনেক সমস্যার সমাধান হল ধৈর্য, কিছুই না করে চুপচাপ বসে থাকা। আজকের বিষিয়ে ওঠা ঘা কাল সকালের মধ্যেই শুকিয়ে যাবে, কিন্তু সকাল পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে বসে থাকতে হবে। ১৪১. কারো কাজের মূল্যায়ন করতে তোমার দ্বিধা হবার মানে হচ্ছে তুমি তাকে হিংসে করছ। ১৪২. যাকে খুবই ভালোবাসো, নিজেকে বাঁচাতে তাকে ফেলেই তুমি ছুট দেবে।

১৪৩. তোমার বেশীরভাগ বিপদ তুমি নিজ হাতে ডেকে এনেছ। ১৪৪. যে তোমাকে অসম্মান করছে, তার সাথে কলহ না করে কৌতুকের সাথে তার কর্মকাণ্ড খেয়াল কর। যদি পারো, তুমি একজন বুদ্ধিমান মানুষ। ১৪৫. যতদিনই বাঁচো, সব বই পড়া হবে না, সব গান শোনা হবে না, সব সিনেমা দেখা হবে না। ১৪৬. সে শিক্ষকেরা মূল্যবান, যাদেরকে আমরা দেখতে পাই না।

১৪৭. মানুষ নিজেকে খুব কম সম্মান করে। বেশীরভাগ কাজই করে থাকে অন্যকে ইম্প্রেস করার জন্য। ১৪৮. তুমি কারো গুণ খুঁজলে পাবে, আবার দোষ খুঁজলেও পাবে; যত খারাপ কিংবা ভাল মানুষই হোক না কেন। ১৪৯. সবারই একটা না একটা দুর্বল জায়গা থাকে। সেখানে হাত দিলে অতি ঠাণ্ডা মাথার মানুষও ক্ষেপে যায়।

১৫০. যার কিছুই নেই, তারও অহংকার আছে। ১৫১. মানুষ রেগে যায় যদি দেখে তার প্ল্যানটি ঠিকঠাক কাজ করে নি। ভুলে যায়, যে পরের মুহূর্তটিতেই কী ঘটবে তা জানে না, প্ল্যান করার কোন অধিকার তার নেই। ১৫২. টয়লেট সে-ই খুঁজে পায়, যার ইমার্জেন্সি অবস্থা। ১৫৩. আমাদের কথাবার্তার বেশীরভাগই অংশই থাকে অন্যদেরকে নিয়ে।

এখন লেখকের চেয়ে সমালোচক বেশী। ১৫৪. আনন্দ শেয়ার কর, দুঃখ কারো সাথে শেয়ার করতে যেয়ো না। ১৫৫. কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না, তারপরও মনোযোগ দিয়ে শোনার প্রয়োজন আছে। ১৫৬. কিছু শিখতে হলে মাথা নিচু করতে জানতে হবে। দাম্ভিক কিছু শিখতে পারে না।

১৫৭. ফাঁকি দেয়া আসলে সম্ভব নয়। কিছুদিন লুকিয়ে থাকা গেলেও নিয়তি ঠিক খুঁজে বার করে ফেলে। ১৫৮. সৎ লোকগুলো যদি অপদার্থ আর অসৎ লোকগুলো করিৎকর্মা হয়, তাহলে আর আশা নেই। ১৫৯. তোমার আয়ু যতই হোক, তার একটা বড় অংশ কিন্তু চলে গেছে। ১৬০. মানুষ চায় গুণপনা আর বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ করতে।

কেউ দোষত্রুটি প্রকাশ করতে চায় না। ১৬১. ব্যাঙ মরা মাছি দেখতে পায় না। না পাওয়াই ভাল। ১৬২. মুখের কথায় কাজ না হলে তো জোর খাটাতে হবেই। ১৬৩. ভুল চাল দেয়াটা খুব স্বাভাবিক।

কিন্তু ভুল চাল দিয়েও পার পেয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। ১৬৪. নিজেই যদি সিস্টেমের অংশ হও, সিস্টেমকে বিশ্লেষণ করবে কী করে? ১৬৫. বার্তাবাহকের ওপরও খবরটা নির্ভর করে। কে খবরটা দিচ্ছে যাচাই করতে ভুলো না। ১৬৬. অন্যরা বলতে পারবে কে কী করেছে। তুমি কী কী করেছ বলতে পারবে তো? ১৬৭. আর এক ফুট খুঁড়লেই সোনা পাওয়া যাবে – এই মুলোটা তোমার নাকের সামনে সারাজীবন ঝুলিয়ে রাখা হবে।

১৬৮. মাত্র একবার হেরে ভাল খেলোয়াড় হওয়া যায় না। ১৬৯. কে কত ভাল বন্ধু তা অর্থব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে বোঝা যায় না। ১৭০. আজকাল আমরা আগেই ক্ষমা চেয়ে পাপ করা শুরু করি। ক্ষমা চাওয়ার ঝামেলাটা আগেই সেরে রাখি। ১৭১. হেরে যাবে জেনেও মানুষ তর্ক করতে পছন্দ করে।

১৭২. ছেলে-মেয়ে বাসায় ফিরতে চায় না, তার পেছনে কারণ আছে। তার বাসায় শান্তি আছে তো? ১৭২. বিপদে পড়লে মানুষের গতি এবং হিসেবের দক্ষতা আশ্চর্যরকম দ্রুত হয়ে যায়। ১৭৩. কম কষ্টে বেশী সাফল্য পাবার রাস্তা খুব কমই আছে। ১৭৪. সাধারণত প্রয়োজনীয় কাজের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজের উৎসাহই বেশী থাকে। ১৭৫. পৃথিবীতে কোন কালেই অজুহাতের অভাব হয় নি।

১৭৬. মানুষ সৎ নেতার চেয়ে উত্তেজনা এবং বিনোদন বেশী চায়। ১৭৭. আমরা সবসময়ই প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকি, কারণ আমরা প্রচুর সময় নষ্ট করি। ১৭৮. সময় মানুষকে একেবারে উল্টো স্বভাবের করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। ১৭৯. আমরা টেনশন করতে পছন্দ করি। ১৮০. কেউ কেউ অনুপস্থিত থেকেও ঝামেলা তৈরি করতে পারে।

১৮১. সবাই তোমার মতো চিন্তা করবে না এবং এক কথায় সব মেনে নেবে না। ১৮২. এক-দেড়শো রানে হারার চাইতে দু’রানে হারা বেশী দুঃখের। ১৮৩. কেউ কিছু বললে শোন। তাকে একটা হাসি উপহার দাও। তারপর যা করছিলে করে যাও।

১৮৪. দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা খুব খারাপ। সমস্যা হল, আমাদেরকে বেশীরভাগ সময়েই দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতে হয়। ১৮৫. অনেকেই তোমার দিকে আঙুল তুলে কথা বলে। তুমি সুযোগ দিয়েছ বলেই। ১৮৬. হুজুগ একটা বড় জিনিস।

মিথ্যাকেও সত্য বানিয়ে দিতে পারে। ১৮৭. আগামীকাল থেকে তুমি ভাল হয়ে চলবে বলেছ। সমস্যা হল, গত পাঁচ বছর ধরে আগামীকাল আসছে না। ১৮৮. কারো লাথি ভুলে যাওয়া কঠিন। কিন্তু মাথায় হাত বুলোনোটা সহজেই ভুলে যাওয়া যায়।

১৮৯. আয়ু, ক্ষমতা এবং খ্যাতি চায় না – কেউ এমন বললে সে মিথ্যে বলছে। ১৯০. যদি দেখতে যে বইটি কোন বিখ্যাত লেখকের নয়, তাহলে হয়তো বইটা পড়তে না। ১৯১. চমকপ্রদ মানেই সত্য নয়। ১৯২. অনেক প্রশ্নই করা চলে না। করা গেলে ভাল হত।

তুমি অনেক সন্দেহ থেকে মুক্ত হতে পারতে। ১৯৩. আমরা সৃষ্টিকর্তাকে সবসময় “লাস্ট অপশন” হিসেবে রাখি। একদম সব রাস্তা বন্ধ হওয়ার আগে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ না করাটা ঠিক “ফেয়ার” নয়। তিনিও চাইলে আমাদের সাথে “আনফেয়ার গেম” খেলতে পারতেন। ১৯৪. তুমি ভালোবাসার মানুষটির জন্য জীবন দিতে পারবে না।

বড়জোর তোমার মোবাইল ফোনটা দিয়ে দিতে পারবে। এবং সেটাই যথেষ্ট। ১৯৫. এইমাত্র যেটা নিয়ে দু’ঘণ্টা সময় নষ্ট কিংবা ঝগড়া করলে, সেটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না। ১৯৬. প্রাইভেট টিউটর যাতে পাত্র হিসেবেও ভাল হয়, নিয়োগের সময় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ। ১৯৭. তোমার কাজের নিন্দা তারাই করছে, যারা নিজেরা কিছু করছে না।

শেষ উপদেশঃ কাউকে উপদেশ দেয়ার মতো অনর্থক কাজ আর নেই! তবে এটার মতো আনন্দময় কাজও খুব কম আছে। যে লোকটার পেট চিমসে, তার উদরও ভর্তি থাকে কুড়িখানেক উপদেশে। এই লাইনটি পর্যন্ত কোন পাঠক যদি “অতি কষ্টে” এসে থাকেন (সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ!), তাহলে বলে রাখি, এত উপদেশ এবং প্রবচনে জর্জরিত করার দায়টা টুকু মিয়ার, আমার নয়। গল্পের মানুষের গল্প নিয়েই হয়তো থাকা উচিৎ। এগুলোকে আইডিয়াল মনে করার কোন কারণ নেই, মেনে চললে তা নিজ দায়িত্বে।

কয়েকটি উপদেশ পরস্পরবিরোধী বলে মনে হতে পারে, অযৌক্তিক মনে হতে পারে এবং একই উপদেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে থাকতে পারে। (১৯-২০ আগস্ট, ২০১৩)

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.