লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির
মানুষ যে কেন গল্ফ খেলে বুঝে উঠি না আমার কাছে এ খেলাটাকে টোটাল ওয়েস্টেজ অব টাইম মনে হয়। পৃথিবীর সব আনন্দ বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলে, সব খেলাধুলা স্থগিত করা হলে, পিসি, টিভি-সিনেমা বিকল হয়ে গেলে, এন্ড দেন মেনি মোর, আই মিন, ইফ দেয়ার ইজ নো ব্লগিং, অনলি দেন সামওয়ান শুড ট্রাই এন্ড ওয়েস্ট হিস টাইম ইন/বাই প্লেয়িং গল্ফ।
আমার কথা শুনে জনৈক সিনিয়র সহকর্মী যুগপৎ হেসে উঠলেন, এবং কড়া ভাষায় বকুনি দিলেন। আরে মিয়া, তুমি হইলা গিয়া অলস প্রকৃতির লোক। সকালবেলা ঘুম থাইকা উঠতে পারো না ছুটির দিনে; অফিসের পর বাসায় যাইয়া ঘুমাও।
এমন হইলে তো জীবনে উন্নতি করতে পারবা না
আমি দাঁত বের না করে হাসি। বলি, জীবনে তো উন্নতি কম করি নাই। বয়স ৪০-এর উপর, ৪৫-এর গোড়ায়। কিছুদিন পর শ্বশুর হবো, তারপর দাদা বা নানা বংশক্রম রক্ষা করতেছি, কম কথা না
তুমি এতো ঘুমাও কেন, বলো তো?
আপনারে কে কইলো যে আমি খালি ঘুমাই?
তাইলে ঘর থাইকা বাইর হও না ক্যান? অফিস টু বাসা, বাসা টু অফিস! ব্যাপার কী?
ব্যাপার আর কিছুই না। আমি খুব ব্যস্ত মানুষ।
অফিসে বসলে অফিশিয়াল কাজের হিড়িক, ফাঁক পেলে ইন্টারনেটে ব্লগিং। অফিস থেকে বাসায় আসি, খাবার খাওয়ার আগে ব্লগিংয়ের প্রাথমিক কাজটুকু সেরে ফেলি। তারপর খাই। খাওয়ার পর আল্লাহ্র ওয়াস্তে বসি পিসির সামনে, রাত ৩টা হলো আমার ঘুমাবার টার্গেট, কিন্তু অনেক সময় ব্লগিং আর মুভি দেখা একসাথে চলে, তখন বেজে যায় ৫টা বা সাড়ে ৫টা। রিসেন্টলি জেম্স বন্ড সিরিজ শুরু করেছি, পারি তো এক রাতে ২টাই দেখে ফেলি।
২টা দেখার পর আবার পরেরটারও কিছু থ্রিলার দেখি!! এরপর উত্তমসুচিত্রা ধরবো ভাবছি, যদিও তাঁদের সব ছবি দেখা। লিস্টে আরও আছে- মনপুরা, রাণীকুঠির বাকি ইতিহাস, স্বপ্নপূরণ, গঙ্গাযাত্রা, হাজার বছর ধরে, আহা, পা, থ্রি ইডিয়ট্স, শ্রাবণ মেঘের দিন, আমার আছে জল। এগুলো কবে দেখে শেষ করবো? অনেকগুলোই একাধিকবার দেখা, তবু আবার দেখবো। কিছু ছবি সপরিবারে দেখবো পিসির সামনে বসে, যেগুলো অলরেডি আমি একবার দেখে সপরিবারে দেখার মতো বলে ভেবেছি। কিন্তু হাতে সময় কোথায়? একদম সময় নেই।
এ অবস্থায় কোন্ বেয়াক্কেলে গল্ফ খেলতে যাবে? টাইগার উডের অন্য কোনো কাজ নেই, বেচারা কী আর করবে, গল্ফ খেলে সময় কাটায়, সাথে টু-পাইস কামাইও করে। আমার অবস্থা তো অমন দুর্দশাগ্রস্থ না
কিছু সহকর্মীর পীড়াপিড়িতে গল্ফ খেললাম কিছুদিন। নাইন হোল। আমার স্কোর বলবো না, আপনারা লজ্জা পাবেন গল্ফ ইজ এ গেইম অব প্যাশন্স এন্ড কনসেন্ট্রেশন্স। আমার একটুও নেই।
স্ট্রোক করতে গেলেই ব্লগিংয়ের কথা মনে পড়ে। খুব সময় নিয়ে স্ট্রোক নিতে হয়, কিন্তু আমার কাজ হলো যতো তাড়াতাড়ি কোর্স শেষ করে ব্লগিংয়ে ডুব দেয়া যায়।
আজকের ছুটির সকালটা আমার মাটি হয়ে গেলো। রাতে ঘুমিয়েছিলাম টি-টুয়েন্টি দেখে। উঠলাম সাড়ে ৫টায়।
তখন আয়ারল্যান্ডের জয়ের জন্য বোধ হয় ৭০ বলে ১০৯ রান দরকার, হাতে ৫ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজই মনে হয় জিতেছে। যাই হোক, ৬টায় গল্ফ ক্লাবে গিয়ে হাজির হলাম। কোনো পার্টনারই আমার ম্যাচ নয় কারণ, সবাই সিনসিয়ার। আমি শুধু সামাজিকতা রক্ষার জন্য গেছি।
তবু খেললাম। আমার স্কোর দয়া করে জানতে চেয়ে নিজেরা বিব্রত হবেন না। আমার গ্রুপের এক সহকর্মীর ছেলে নাইন হোলে ৪৮ খেললো, এক সিনিয়র সহকর্মী জীবনের ২য় কোর্স খেলে স্কোর করলো ৬১। আমি এদের খেলার স্ট্যান্ডার্ড দেখে অবাক হয়ে গেলাম, এরা তো সত্যিই জীবনে উন্নতি করে ফেলছে!
একবার ছেলের সাথে একই গ্রুপে খেলবো বলে ছেলেকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ছেলে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে ছিল, এতে তার খেলার মান নষ্ট হয়ে যাবে
২০০৫ সনের মাঝামাঝি সময়ে গল্ফ খেলতে শুরু করি।
১ম কোর্স খেলার সময় এক সহকর্মী বলেছিলেন, ১ম বার নাইন হোলে ৮১ করতে পারলেই তুমি জীবনে শাইন করবে। আমি কাটায় কাটায় ৮১ই করেছিলাম। কিন্তু এরপর ৮১-র নিচে কবে আসতে পেরেছিলাম জানি না আনাড়ি হিসাবে আমার গ্রুপে খেলতে নেমে মাস খানেকের মধ্যেই টুর্নামেন্টে ট্রফি পেয়েছে অনেকে; স্কোর হয়েছে বিলো ফরটি ফাইভ। আর আমার? তা তো বুঝতেই পারছেন আমার দ্বারা গল্ফ খেলা হবে না। গল্ফ খেলে সময় নষ্ট করার পক্ষপাতী আমি একদম নই।
তবে বলে রাখি, অফিশিয়ালি আমি একজন গল্ফার; আমি একটা গল্ফ ক্লাবের মেম্বার
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।