ami ek jajabor
শিরোনামটি একটি বাংলা চলচ্চিত্রের নামে। ব্লগটি সেই চলচ্চিত্র বা চিত্রা নদীর পাড়ের সামগ্রিক জীবনধারা নিয়ে নয়। চিত্রা নদীর পাড়ের একটা অংশ নিয়ে।
চিত্রা নদীর পাড়ে নড়াইল গিয়েছিলাম মঙ্গলবার। অবধারিতভাবে এস এম সুলতানের বাড়ি দেখার ইচ্ছা ছিল।
তাই সেখানে যাওয়া।
যাবার পথে বাধানো ঘাটে একটু থামা। এটা ছিল জমিদারের ঘাট। চিত্রা নদী এখানে সরু। তবে স্রোতশীলা।
শীতে শীর্ণ নদীতে স্রোত দেখে খুব ভালো লাগলো। কিছুক্ষণ পর সুলতানের বাড়ি....
এসএম সুলতানের বাড়িটি এখন সুলতান স্মৃতি কমপ্লেক্স। যেহেতু কমপ্লেক্স তাই বিষয়টি জটিল। ঢাউস আকারের দুইটি দালান। লালইটের বেদি উঠে গেছে সুলতানের কবরে (সরকারি ভাষায় এখনো মাজার হয়নি।
রক্ষা!)। মূল কবরে গ্রানাইট পাথরে বাধানো। বড় দালানে আছে সুলতানের ছবি ও তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র, বাদ্যযন্ত্র। আচকানগুলো দেখার মতো। গেরুয়া, সুতি, ভেলভেট, সিল্ক নানান পদের আচকান।
পুরো কমপ্লেক্সে সব্ই আছে, শুধু সুলতান অনুপস্থিত। সুলতানের সময় তাঁর বাড়িটি ছিল টিনের চালাঘর। তার পাশে লম্বা রাস্তায় শেড ছিল। যেখানে বাচ্চারা ছবি আঁকতো। সেই বাড়িটি একতলা দালানন করা হয়েছে।
একটু পুরান স্টাইলে। লাগানো হয়েছে এসি। সরকার ও এই কমপ্লেক্সের উদ্যোক্তা ছাগলগুলো সুলতানের রুটিফলের গাছটিও সরিয়ে নিয়েছে। সেটি এখন শোভা পাচ্ছে নড়াইলের জেলা প্রশাসকের বাসায়। সুলতানের পালক-কন্যার ঠাঁই হয়েছে কমপ্লেক্সের বাইরে।
বেজি বিড়াল কিছুই নেই কমপ্লেক্সে। শুধু সাজানো ফুল আর ইট পাথরের স্থাপনা।
যে নৌকায় সুলতান শিশুদের ছবি আঁকতে নিয়ে যেতেন সেই কাঠের নৌকা চিত্রা নদীর পাড়ে লোহার খাঁচায় আবদ্ধ।
মনটাই খারাপ হয়ে যায়। সুলতান কে? তা না বুঝে কোটি টাকা খরচ করে তথাকথিত স্মৃতি সংরক্ষণ কেন যে ছাগলগুলো করে তা বুঝি না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।