আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নারী নির্যাতনের অভিনব পন্থা উদ্ভাবনের জন্য ইউনুসকে নোবেল দেওয়া হোক



ঋণ মানবাধিকার। দরিদ্রেরও ঋণ পাওয়ার অধিকার আছে, এবং ক্ষুদ্র ঋণ ও সহায়তা দরিদ্র মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে। নিত্য দিন পত্রিকায় এমন সব প্রচারণার পরে বাংলাদেশের অধিকাংশ এনজিওর প্রধানতম লাভজনক খাত কিংবা ব্যবসা হলো ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প। দারিদ্র শান্তিহন্তা- ইউনুসের নোবেল বক্তৃতার সূচনায় ছিলো এমন তথ্য। তবে সর্বশান্ত হয়ে যাওয়া ভিটেমাটি হারানো উদ্বাস্তু মানুষের শান্তি কি এসেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ছায়াতলে এসে? জোবারা গ্রামের সুফিয়া খাতুন, ইউনুসের ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের প্রথম গিনিপিগ, Click This Link তার নিজস্ব বসতবাড়ীর ছাদের ফুটো, জরাজীর্ণ এই বসতবাড়ীর পাশে অবস্থিত জনৈক প্রবাসীর দোতালা বাড়ী দেখিয়ে ইউনুস বলেছেন, সুফিয়া ক্ষুদ্র ঋণের পয়সায় নিজের জীবনে দারিদ্র অতিক্রম করে স্বচ্ছলতা পেয়েছেন।

হিলারী ক্লিনটন যখন এসেছিলেন, তখন বাংলাদেশে তার নামে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো। বড় বড় মানুষের কাছের বন্ধু ইউনুস, যিনি যুক্তরাষ্ট্রেও গ্রামীণের একটি প্রকল্প খুলেছেন, সে সময়ে ঋষিপল্লীতে ব্যপক অর্থ ঋণ দিয়েছিলেন, সে ঋণের অর্থে তাদের গ্রামে বসেছিলো চাপকল, বসেছিলো স্যানিটারি ল্যাট্রিন, Click This Link বাস্তবতা হলো সেই ঋণের অর্থ শুধতে পারেন নি তারা কেউই। গ্রামীণ যে শর্তসাপেক্ষে ঋণ প্রদান করে তার কোনোটাই সম্ভবত পুরণ করতে পারেন নি এই আদর্শ পল্লীর বাসিন্দারা। ইউনুস নোবেল পাওয়ার পরে প্রবাসী বাঙালীদের মতো আমিও কিছুটা গর্বিত হয়েছিলাম, কিন্তু আত্মবিস্মৃত হয়ে যাই নি। তখনও ঋণে কিস্তি উঠানোর জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের কর্মীদের জবরদস্তি এবং ঋণগ্রহীতার আত্মহত্যার সংবাদগুলো ভুলে যেতে পারি নি।

তবে অর্থনৈতিক একটি তত্ত্ব আবিস্কার করে সেটার সফল প্রয়োগ ঘটানোর পরও কেনো ইউনুস অর্থনীতিতে নোবেল না পেয়ে পেলেন শান্তিতে সেটা নিয়ে মনক্ষুন্ন ছিলাম। যেকোনো অর্থনৈতিক তত্ত্বের প্রায়োগ একটু কষ্টকর। এখানে ল্যাবের গিনিপিগ নেই, গিনিপিগ বলতে সামাজিক মানুষ, তাদের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রেখে আশাবাদী হওয়া সম্পূর্ন পৃথিবী এই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অপরিবর্তিত থাকবে, এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প এবং এর দ্বারা সমাজবদলের স্বপ্ন নামক পরীক্ষার ভয়ংকর দিক হলো, এখানে যারা গিনিপিগ তাদের পরীক্ষার ধকল সহ্য করবার ক্ষমতা কতটুকু? তারা উদ্বাস্তু হয়ে যেতে পারে, তারা আত্মহত্যা করতে পারে। এবং এইসব ঘটনা ঘটেছে।

গত ৩৩ বছরে গ্রামীণের সাফল্য গাঁথায় কি আছে? নিজস্ব মনগড়া প্রতিবেদন এবং ছলনার বাইরে গ্রামীণের সাফল্য কতটুকু? সফল অর্থনৈতিক তত্ত্ব হিসেবে এর ব্যর্থতার চুড়ান্ত সাক্ষর হবে বাংলাদেশের ১ কোটি ঋণগ্রহীতার রক্তে। শান্তিতে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে বৈশ্বিক পরিবর্তন আনবার তত্ত্বের ব্যর্থতাও প্রকট হবে। ইউনুসের নোবেল পদক পাওয়ার অসার তত্ত্বটি এর পরেও হয়তো আরও ১০ থেকে ৫০ বছর বিভিন্ন পরিমার্জনা শেষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হবে। প্রত্যেক মানুষের ঋণ করে নিজের জীবনযাপনের মান উন্নয়ন করা সম্ভব, ইউনুসের ই তত্ত্ব বোধ হয় কোনো সময়েই সফল অর্থনৈতিক তত্ত্ব হিসেবে স্বীকৃত হবে না। আমার নিজের ধারণা এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প দরিদ্র মানুষের জীবনযাপনে খুব বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।

মূলত সংখ্যাতাত্ত্বিক দিকটা বিবেচনা করলেও এমন ভবিষ্যতবানী করা সম্ভব। অর্থনৈতিক চক্রে উৎপাদক এবং ভোক্তা থাকবেই। পণ্যের চাহিদা থাকতে হবে। একটা গ্রামের সবাই তাল পাখা বানানোর জন্য ঋণ নিলো। কিন্তু স্থানীয় বাজারে সে তালপাখার চাহিদা না থাকলে এই ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প ব্যর্থ হতে বাধ্য।

এত উৎপাদিত তালপাখার বাজর খুঁজতে আসবে মধ্যসত্বভোগীগন। তাদের নির্ধারিত মূল্যেই বাজারজাত করতে হবে এই পণ্য। সুতরাং লাভের অঙ্ক গুনবার বদলে হয়তো তাদের লোকসানার টালিখাতাই পূর্ণ করতে হবে। বৈচিত্র না থাকলে এবং যেহেতু উদ্যোক্তার পূঁজির জোর কম সুতরাং বৃহত পরিসরে বিপননের কোনো সুযোগ না থাকায় পারস্পরিক প্রতিযোগিতার পণ্যের বিক্রয়মূল্য কমতেই থাকবে। আদতে যখন চাহিদা সীমিত এবং যোগান প্রচুর তখন যেকোনো সরবরাহ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে এবং অধিকাংশ প্রতিযোগীই হারিয়ে যাবে।

এই প্রকল্প হয়তো সাফল্যের মুখ দেখতো, যদি একটি স্থানে অসীম চাহিদা আছে এবং উৎপাদক সীমিত, এমন বাস্তবতা বাংলাদেশে নেই। এই দেশে ক্ষুদ্র ঋণ পাওয়ার অন্যতম যোগ্যতা নারী হওয়া। এবং নারীকে যেসব বিষয়ে ঋণ দেওয়া হয় তার ব্যবসায়িক দিকটা খতিয়ে দেখবার মানসিকতাও নেই কারো। প্রতিটা স্থানেই ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদনশীলতা এবং পারস্পরিক বিপননের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আন্তরিকতা নেই এনজিওগুলোর। সুতরাং এটার ফলাফলে ঋণগ্রহীতা পুনরায় ঋণ করছে, এর ঋণ শুধছে আরেকজনের ঋণে।

ঋণ আদায়ের হার ৯৯ শতাংশ হলেও এর অধিকাংশই আদতে মাছের তেলে মাছ ভাজা, যে মানুষটা ৫০০০ টাকা ঋণ নিয়ে কয়েক কিস্তি শোধ করে ঋণ পরিশোধে অক্ষম তাকে ১০ হাজার টাকা ঋণ দিয়ে সেই ঋণের শর্তে পূর্বের ৫০০০ টাকার অবশিষ্ট শোধ করে নেওয়ায় মূলত মানুষটি উপকৃত হয় না, বরং তার ঋণের পরিমাণ বাড়ে। বাংলাদেশের গ্রামে বিয়ের যৌতুক হিসেবে স্ত্রীর সাথে প্রাপ্ত সুবিধাদির একটা হয়েছে ক্ষুদ্রঋণ। মূলত দরিদ্রের উপকারে না আসলেও এটা নারি নির্যাতনের হার বাড়াতে সহায়ক ভুমিকা রেখেছে। নারী নির্যাতনের নতুন পন্থা উদ্ভাবনের জন্য হয়তো ভবিষ্যতে ইউনুসকে পুনরায় শান্তিতে নোবেল দেওয়া হবে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.