সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি...
আ তা উ র র হ মা ন মি লা দ
আমি জন্মেছি তোমার মৃত্যুর ভেতর
আমি জন্মেছি তোমার মৃত্যুর ভেতর
আমাকে কী করে ফেরাবে এই বেহুদা সময়
জীবন ঘনিষ্ঠ রাখি তোমার মহান মৃত্যুপাঠে
জেনেছি জীবন, মৃত্যুর আরেক ঠিকানা
পায়ের চিহ্ন ভুলে ঘাসের ডগা জেগে উঠে ফের
আমিও জেগেছি দেখো তোমার মৃত্যুর ভেতর
সমস্ত সঞ্চয় জমা রেখেছি রোদের উমে
শিশির হরণ করে পৌঁছে যাব আলোর আড়তে
জন্মের অপর পৃষ্ঠায় থাকে মৃত্যুর স্পষ্ট দাগ
মৃত্যু নিয়মে হলে মেনে নেয় ফুল পাখি পাতা
যতটা পতন চিহ্ন ইঁদুরের ধারালো দাঁতে
ঘরের দাওয়ায় পুঁতেছি তাই জন্মশত্র“তা
যতই কাটাই জীবন সংসারী মোহে
হত্যার প্রতিবাদে জ্বলে উঠবই দ্রোহে
আ বু ম ক সু দ
পিতৃঋণ
যে বুকে পিতার ছায়া, সে ছায়া জলে, অন্তরিক্ষে
সে ছায়া জেগে র'বে হাজার বছর
যে পাতিল ভেঙে পরে ঘরের আঙিনায়
সেই ঘর ছিল তাঁর বুক
সেই ঘর পারবে না মুছতে তাঁর ছায়া
যতই হোক খেলা পাতিল ভাঙার
যে বই ঘুণে পোকা খায়, পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যায় ধূর্ত শকুন
সেই বই ছিল তাঁর চোখ, যক্ষের ধন
সেই বই মহাকালে বলে যাবে তাঁর কালকথা
শকুনেরা মিশে যাবে ধুলায় ধুলায়
কালের কালিতে যে মূর্খ করে আস্ফালন
হাঁটুজলে চড়ট্টইয়ের বেসাতি করে, মূর্খতা
জানবে না কোনোদিন পড়ত্তÍ বেলাকে সে আনে ভোরের আলোয়
হাতের তালুতে করে সমুদ্র ধারণ
যে বুকে পিতার ছায়া, সে ছায়া জলে, অন্তরিক্ষে
সে ছায়া জেগে র'বে হাজার বছর
মনে পড়ে সে বিষণড়ব রাতের কথা
কাপুরুষ পশুদের সীমাহীন নির্লজ্জতা
হলুদ পাখিটির ঠোঁটে এক টুকরো খড়
ঠোঁট থেকে খসে পড়ে খড়, মাটিতে মাথা ঠুকে লজ্জায়, গ্লানিতে
কাপুরুষ পশুদের মৃত্যু হয়
মূর্খদের মৃত্যু হয়
ধূর্ত শকুনের মৃত্যু হয়
পাপীদের মৃত্যু হয়
তাদের সমাধি হয় কুকুরের বিষ্ঠায়
পিতার মৃত্যু নেই
পিতা বেঁচে থাকে সন্তানের বুকের ভিতর
আ হ ম দ ম য়ে জ
বৃক্ষের গুরু
মনোভৃঙ্গার চরণ ধুয়ে কী স্বাদ পেয়েছ তুমি
এ পথ আমার নয়
অচেনা।
অগাধ ভজন-স্তুতি কোন পাত্র ধরিবে বলো?
কখনো বৃন্দাবন কখনো রসুল
দুই হস্ত ধরেছে শরাব- দৃষ্টির অতল সাগর।
চাণক্য পথিক যে জন সেও জানে বাতিঘর কোনখানে
কার স্পর্শে বলো অযামিনী পেয়েছিল মানবজীবন?
সারল্র কিনেছে ঝুড়ি, ফলহীন বৃক্ষের খোলস।
নমঃশূদ্র আমি তোমার সন্তান
হে পিতা!
একবার শুধু কও- নদী কেন এত বাঁক নেয়?
সৃষ্টির অহং যার সে নয় বন্ধু আমার
প্রার্থনা শুধু জানিবার।
যে বালি নিজেই একা শুয়ে রয় উদাস করে শূন্য উদ্যান
কেন আর শঙ্কা দিয়ে করে যাও ভীতির সঞ্চার।
জগৎ পিতা সে যদি তোমারই হয়
তবে আর হাস্য করে কার লাগি তাম্বুল যোগাও!
দেহজ বন্দর ঘুরে পঞ্চঘোর খুলে দাও
স্তনের চাবি সে তো নাভিমূল-
বলেছিল বৃক্ষের গুরু।
আজও কলহ করে তোমার চরণ দু'টি-
নন্দেরসূত ভাগিনা তোমার শঠের চূড়ামণি
মথুরাতে বেচো দধি তাতেই মিশাও পানি।
ও য়া লি মা হ মু দ
জীবনের সঙ্গে যার স্বাধীনতার জমিন
এক.
রক্তমাখা দেহে পড়ে থাকা মানুষটিকে অতিক্রম করে কালের পরিক্রমা।
লালে লাল হয়ে ভিজে যায়, সাধের সিগার পাইপ, লুঙ্গি ও ফুলহাতা জামা।
যে পরিশ্রাত্তÍ হৃদয়ে বলেছিল, এবারের সংগ্রাম, আমাদের স্বাধীনতার
সংগ্রাম।
যার লাগি লক্ষ প্রাণ বিনিময়ে শুধেছিল দাম।
খণ্ডিত হোক কেবা চায় বলো? সাংবিধানিক অধিকার মানেনি বলে রুদ্ররোষ
থামাতে পারেনি শাসন, পারেনি বুলেট। নির্বিচার গণহত্যা জন্ম দেয়
প্রতিরোধের, প্রতিশোধের। জনক হয় প্রতিবাদের। বিদ্রোহী সাধারণ ক্ষুব্ধ
জনতা সংগ্রামী হয়ে ওঠে।
যুদ্ধ জয়ের উদ্যম লিপিতে একখানি মানচিত্রের
মাঝে মিশে গিয়ে বলে, আমি জনম-মাটির মুক্তির জন্য লড়াই করি।
দুই.
সাতাশে মার্চ, উনিশ শ' একাত্তর। ঢাকা যেন এক লাশের শহর। ভার্সিটিতে
লাশ, ড্রেনে, রাদ্গÍায় গলিতে লাশ, দরজার পাশে লাশ আর লাশ। স্টপ প্লিজ
স্টপ, টেলার।
সাত কোটি বাঙালির দেশে, খালে-বিলে-ঝিলে, টিলা-ঝোপ-
ঝাড়ে, ন' মাস গর্ভ ধরে পৃসূতি জননী- স্বাধীনতার মগ্নতায়। রক্তাক্ত মুজিব,
তোমার রক্তে গড়ায় বত্রিশ নম্বর বাড়ি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ সিঁড়ির
ছলাকলায়।
কালের আগুনে পুড়ে, স্মরণের ফাগুন তোড়ে জ্বলে স্বর্ণালি লালিমা।
রক্তমাখা দেহে পড়ে থাকা মানুষটিকে অতিক্রম করে, কালের পরিক্রমা...
ফ কি র ই লি য়া স
জন্মের অধিক যদি
জন্মের অধিক যদি থাকে কোনো অমর বিস্ময়
সবুজের পুষ্পকোষে আলোরেখা ঢেউ তুলে বলে
এ মাটির স্মৃতিভূমে তাঁর ছায়াদীপ হয়ে জ্বলে
এখনো আকাশ নুয়ে বলে জয়- বাংলার জয়।
লগ্ন রোদের মন পোড়ে, আর পোড়ায় আষাঢ়
পরিচয় খুঁজে খুঁজে নদী যায় দক্ষিণের বনে
ফিরে এলে দেখা হবে মানচিত্রে, গ্রহের মৈথুনে
বুকের উত্তাপে বাড়া উদ্ভাসিত প্রজন্মের হাড়।
ঋতুর বৈচিত্র্যে লেখা যে জীবন মানুষের গানে
ভরে ওঠে প্রতিদিন সুখে-দুঃখে খাল বিল মাঠে
ধানের রোপণে আর শিশুদের প্রিয় শব্দপাঠে
স্বপড়ব স্বাধীন হাওয়া বয় ধীরে, মেঘ- প্রাণে প্রাণে।
যে নাম থেকেই যাবে বাংলায়, গোটা বিশ্বলোকে
'মুজিব' 'মুজিব' বলে মুক্তিকামী মানুষের ডাকে।
ম ন জু রু ল আ জি ম প লা শ
পুরুষ
সিঁড়িতে তোমাকে পরিত্যক্ত রেখে যারা চলে গিয়েছিল দূরে
যাদের দেহ পড়েছে তোমার পোশাক
এখনো যারা হাত উঠিয়ে গলা চড়িয়ে অভিনয় করে চলেছে
তোমার সাহসে সড়বাত হোক তারা
স্বপ্নে হোক বিভোর।
পুরুষালি এরিনমোরের গাঢ় ধোঁয়ার ভিতর থেকে
স্পষ্ট তোমার ফিরে আসা, হাতে সেই পাইপ
সমর্পিত হবার মতো চওড়া বুক
দীর্ঘ দেহ নিয়ে বাংলায় আবার এসো
স্বপ্নে-সাহসে প্রজ্ঞায় এই অভাগা জনপদে
বারবার এসো।
মা জে দ বি শ্বা স
রূপকথার গহিন গভীরে
মানুষের মুখে মুখে সেই গল্প চিরকাল বাঁচে
রূপকথার ডালিম কুমার স্বপেড়ব ফুল নিয়ে আসে
রূপবান একদা বনে বনে ঠিকই দুঃখময় গান গায়।
একাত্তরের গল্প এখন ইতিহাসে লেখা
গান্ধীর সেই আকুল হাত জিরজিরে কটিপরা শরীর
মনের ভেতর ভেসে ভেসে ওঠে দিনরাত,
সাগর তীরে উদোম শরীরে লাঠি হাতে
গান্ধী জেগে রয় মানুষের গহিন গভীরে।
এখনো মুহুর্মুহু করতালি আর তেজি অশ্বের পিঠে
নাঙা তলোয়ার হাতে ভারতবর্ষ জয়ে ছুটে ছুটে আসে
বখতিয়ার খিলজি। অমিত সাহসী বীরযোদ্ধা আবার স্বপেড়বর
রাজকুমার রাদ্গÍায় ধূলি উড়িয়ে উড়িয়ে যায় তেপাত্তÍরে।
রাশি রাশি ধূলির দিকে তাকিয়ে প্রহর গোনে কেউ কেউ।
গল্পে জেগে ওঠে এখনো স্মৃতিময় রেসকোর্স ময়দান।
আমরা
কেউ সেই ময়দানে অশ্বদৌড় দেখিনি জীবনে। তবুও আমাদের কাছে
রূপকথার মতো জাগে স্মৃতিভাস্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
সেই 'এবারের সংগ্রাম- মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম' মহাকাব্যের পঙ্ক্তির মতো অমর বাঁচে।
এত বড়ো মহাকাব্য আর কেউ লিখতে পারেনি এই পৃথিবীতে।
উঠোনে রেডিওর সামনে অপেক্ষমাণ জনতা উত্তেজনায় থরথর।
সারা দেশে স্বাধীনতার বিপ্লবী বাণী ইথারে ইথারে। ধনুক হাতে
শৈশবে স্কুল মাঠে সেপাহি শিক্ষার্থী। লাঠি-সোটা হাতে
আমজনতা ঊর্ধ্বশ্বাসে আসে ছুটে ছুটে। মানুষের জীবনে
এক নিরবচ্ছিন্ন কাহিনী অমর স্মৃতি যুদ্ধজয় চিরভাস্বর।
জনতা ইতিহাসের অমর সন্তন বাঁচে ইতিহাসের স্বর্ণপাতায়।
টেমসের তীরে আকাশ বাতাস ভারী কুয়াশাময় বক্তৃতা,
বিতৃষ্ণা রসকষহীন এক ঘেয়েমি। একজন বুদ্ধিদীপ্ত প্রফেসরের
মুখে অমর বক্তৃতা স্মৃতিতে উজ্জ্বল উথাল-পাথাল পদ্মানদী দেশ।
মানুষের মন থেকে হারায়, হারায় না স্মৃতি অ্যালবাম। জীবন ঘটনা
মনব্যাংকে চিরজমা, ভুলতে চাইলেও ভোলা যায় না, ভোলা যায় না কখনো।
মা শু ক ই ব নে আ নি স
কসম, ইহ জন্মের কসম
মহা মানব এক-বটে,
বঙ্গবন্ধু মুজিবের লাগি হাহাকার ধ্বনি-রটে
অদূরে হাওয়ায়, ঘরের দাওয়ায়
-কিম্বা সন্নিকটে।
মুজিবের লাগি জননীর চোখে,- এখনো গড়ায় জল,
-ভেঙে যায় মনোবল!
যখন দেখেন, সারা বাংলায়
দাপটে সীমার হেলে-দুলে যায়
রাজাসনে বসা সীমারের দল,
-ভেঙে যায় মনোবল...
সীমারের কাজ সীমার করেছে, লঙ্ঘন করে সীমা
আমরা ভুলিনি-মা!!
অপারগতায় চেয়ে নিই- শুধু, শত-সহস্র ক্ষমা
অশ্র“-সজল নয়নে তোমার, ফোটাব হাসির ফুল
-ক্ষমা করে দিয়ো, জননী-মানস
-আমাদের যত ভুল।
শপথ করেছি- মায়ের কসম
এই চূড়ান্ত,- এই শেষ বলা...
আমরা ঝুলাব ফাঁসির রশিতে
মুজিবের খুনি, খুনিদের গলা
মু জি ব ই র ম
শেখ মুজিব
তার নাম এই নামে সতত বিরাজে...
আমারও কি তবে একবার মৃত্যু হয়েছিল আগস্টের রাতে?
এ দেহের কেন আজ জানাজা হলো না!
পিতামহ জানে-
জন্মভোরে তোমার নামের ধ্বনি কান্ন হয়ে বাজে নালিহুরী গ্রামে...
আমারও কি তবে বাস ছিল টুঙ্গিপাড়ায়?
এ নামের কলঙ্ক রবে- ধানমন্ডি বত্রিশের নামে যদি না রচি আজ কান্নর জিকির...
মু জি বু ল হ ক ম নি
আমরা সাহসী হলে
আমরা সাহসী হলে-
দ্রোহের তুফান ওঠে মানচিত্র জুড়ে,
সহসাই জ্বলে ওঠে উলঙ্গ সড়ক,
পলাশির বুক জুড়ে মুজিবনগর।
আমরা সাহসী হলে-
নীলের বদলে হয় ধানের আবাদ,
চাবুক গুটিয়ে নেয় বর্গি-মোগল,
সহসাই বদলে যায় পতাকার রং।
আমরা সাহসী হলে-
প্রচণ্ড ফেটে পড়ে চেতনার রন্ধ্রে গ্রেনেড,
শ্যামার খড়গ হাতে শহীদ- শোকাতুর মা
এঁকে দেয় বিগ্রহের বিজয়টিকা।
আমরা সাহসী হলে-
ধমনির তরঙ্গে খুঁজি আগস্টের সেই কালো রাত,
সিঁড়ির শরীর বেয়ে লেলিহান রক্ত প্লাবন,
দুষ্ট রাহুর মুখে নক্ষত্রের কৃষ্ণ-গ্রহণ।
আমরা সাহসী হলে-
বুকে নেই হায়নার কালো চিৎকার
শেয়ালের মুখ ভরা মুক্তির আজান,
সফেদ আকাশ জুড়ে গৃধিনীর কালো মহরত।
আমরা সাহসী হলে-
ভরসার গহিন বুকে খুঁজে পাই
নিশ্চিত আরো এক বিজয়ের
নির্মল সোনালী প্রভাত।
রে জ ও য়া ন মা রু ফ
তিনি
যে চলে গিয়েও চলে যায় না
থেকে যায় বার বার
যার জন্যে গন্ধরাজ সাজে চোখে আদর দেয়া সফেদ রঙে
স্নিগ্ধ ভোরে প্রজাপতি স্নন করে সুবাসিত শিশিরের জলে।
তারই জন্যে তো খঞ্জনা গায়
সম্মোহনী সুরের সমবেত গীত
পায়ে ঘুঙুর বেঁধে বাতাস নাচে
ঢেউয়ের খাঁজকাটা পথে পথে
মেঘেরা নির্মাণ করে আকাশের ঢালে শান্তির বাড়ি।
কিন্তু যখন বুকের আড়ৎ পরিপূর্ণ হয় দীর্ঘশ্বাসের তেজারতে
গৌরবের প্রান্তিক স্নান করে দেয় রক্তের তেলচিত্র
সারেঙির কান্না দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে তখন।
আর আলোরা মরে যেতে যেতে বলে যায়
এই অচেনা আঁধার তাড়াতে তার বড় প্রয়োজন আজ।
শা মী ম আ জা দ
ভগ্নাংশ
এনে দিয়েছিলে এক
সোনার দোয়েল
খোঁয়াবের খুশবু মাখা ঋতুর গৌরব
উদ্গত ঊষার দীর্ঘ সম্ভাবনা
আর প্রপিতামহের স্বপ্ন প্রদাহসমেত
রক্ত বীজে অঙ্কুরিত জলজ শালুক।
তারপর পলির জাহাজ ভিড়েছিল
প্লাবনে ও পৈঠায় শঙ্কাহীন
বেঁচেছিল সব্জির সকাল আর
দেহবীণে বানানো ভেলায় উঠেছিল
তুমুল তারুণ্য নিয়ে এক রজবের চাঁদ
কিন্তু তারই সাথে পিছলে পরা
ওমে অগোচরে
মৃত পাপ ও বিষাক্ত পুঁটি মাছ
বীভৎস লট্কেছিল
দু'-একটা স্খলিত কীটও সেই অবসরে...
তাই আমি এখন মৃত পিতা ও পাখি কোলে
বসে আছি বেদনার্ত বেফানা
কীটগুলো কৃমি আর
অশ্বডিম্ব সোনার দোয়েল
ঠোঁটের ঠাহরে আর চলা যায় না...
শা হ শা মী ম আ হ ম দ
শোকাহত পদাবলী
শোক :
চারদিকে শুধুই দীর্ঘশ্বাস
বাতাসে ভর করে আছে পনেরই আগস্টের শোক
শোকের পাথরে টুকে টুকে পিতা- ভেঙে যায় বুক
খুনি :
শোকের নদীতে আছে ভালোবাসা- বুকের নদীতে বিদ্যুৎ
আমি খুনি হতে চাই পিতা- একবার বলে দাও
বলে দাও হে দেবদূত।
দ্রোহ :
চিত্তলোকে আনন্দ নেই- সৃষ্টিশূন্য
অন্তরে দ্রোহ অন্তরে বিষ!
মুজিব নামেই যেন জ্বলে অহর্নিশ।
শি হা ব শা হ রি য়া র
বাংলাদেশের আকাশ
১.
হ্যাঁ, ঢেউয়ের নদী মধুমতীর বুকের ভেতর
বসন্তের কুহুকুহু কোকিলের স্বরের ভেতর
আমাদের ষড়ঋতুর মূর্ছিত সুরের ভেতর
বলো, কার নাম? তাঁর নাম বার বার বেজে ওঠে
২.
বলো, তিনি এখন কোথায় আছেন? কোন আকাশে?
আকাশ কোথায়? কোথায় আকাশ? তিনিই আকাশ।
৩.
বাহাত্তরে বাবার ঘাড়ে বসে থেকে ছোট্ট কিশোর
বাংলাদেশের আকাশ- তাঁকে, দেখেছিলাম আমি
আর দেখিনি সেই- দীর্ঘ দেহী মহানপুরুষকে
৪.
খোকা'র ঘরের ছায়ায়- ঘুমিয়ে আছেন মুজিব
সা ই ফু ল্লা হ মা হ মু দ দু লা ল
স্থলাভিষিক্ত
পিতা নয়; পুত্র হিসেবে তোমাকে চাই-
যেন পুত্র হিসেবে পাই।
আমাদের বিষণড়ব ব্যর্থতাগুলো, ঘৃণিত গ্লানিগুলো
শোকার্ত শূন্যতাগুলো মুছে দিয়ে-
অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো
আলোকিত করবে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল।
কৃষ্ণকালো অন্ধ-অন্ধকারগুলো অতিক্রম করে
সূর্য-সকাল চাই
যেন সন্তান হিসেবে পিতৃনীতির পুত্রসূত্রে পাই।
অনাদি আর অর্জিতার মাঝে দাঁড়িয়ে
আমাদের দীর্ঘশ্বাসগুলো, দ্রবীভূত দুর্দিনগুলো
কালিমা, কষ্ট-ক্লান্তিগুলো মুছে দিয়ে
বঙ্গে বিকশিত করবে মুক্তির পবিত্রতা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।