আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা সংকলন "বাংলাদেশের আকাশ"

সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি...

যারা এখনো বুকে হাত রেখে সকল রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধে গভীর বিশ্বাস ও সং সাহসে উচ্চরণ করেন শেখ মুজিব বাংলার অবিসংবাদিত নেতা এবং স্বীকার করেন স্বদেশ জন্মের ঋণ । শুধু তাদের কবিতা নিয়ে প্রবাস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা সংকলন "বাংলাদেশের আকাশ"। কয়েকটি খন্ডে প্রকাশের ইচ্ছা রাখি। সম্পাদনা :- কাজল রশীদ প্রকাশনা:-প্রবাস প্রকাশনী ভূমিকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশের কবিরা এযাবৎ কত প্রশস্তি রচনা করেছেন তার কোনো হিসেব নেই। বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছেন আজ থেকে একত্রিশ বছর আগে।

যখন বেঁচে ছিলেন, বাংলার মানুষ তাঁকে বসিয়েছিল হৃদয়ের সিংহাসনে। এরপর এ দেশে অনেক বিপরীত স্রোত বয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুকে দেশের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার অনেক অপচেষ্টা হয়েছে। সবই ব্যর্থ হয়েছে। তাঁকে মানুষের হৃদয়ের সিংহাসন থেকে যে টেনে নামানো যায় নি, তারই এক অনবদ্য প্রমাণ ও প্রকাশ এই কবিতাগুচ্ছ। এই কবিতাগুচ্ছে সবকিছু ছাপিয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি- বাংলাদেশের ইতিহাসের এই ট্র্যাজেডির নায়কের প্রতি ব্যথিত মনের উচ্ছ্বাস।

আর সেই সঙ্গে একটি প্রত্যয়ের ঘোষণা, মুজিবের মৃত্যু নেই। আমার বিস্ময় এখানেই যে দেশের যে প্রজন্ম তাঁকে কখনো দেখেনি, তাঁর কণ্ঠস্বর শোনেনি, সেই প্রজন্মের কবিকুল কেমন সহজে তাঁকে চিনেছে, তাঁর উচ্চতা, তাঁর বিশালতা উপলব্ধি করেছে এবং কেমন মুগ্ধতায় তাঁর প্রতি তাদের আনুগত্যের প্রকাশ ঘটিয়েছে। এই হৃদয়বান পুরুষটি যে নিজেও দেশের হৃদয় জয় করেছেন, যেন এর চেয়ে সহজ সত্য আর হয় না। আমি এই কবিতাগুচ্ছকে বরণ করছি, আর কোনো কারণে নয়। বঙ্গবন্ধু মুজিব যে এখনো, স্বদেশে ও প্রবাসে, সকল বাঙালির প্রাণের সম্রাট, এই সত্যটির এক প্রবল ও আত্তÍরিক উচ্চারণ, এই বিবেচনায়।

১০০ জন কবির ব্যক্তিগত আবেগের স্বর এক সম্মিলিত সুর-মূর্ছনায় পরিণত হয়েছে। মুজিবের মৃত্যু নেই। কবিতার মৃত্যু নেই। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী লীলাকমল, বনানী ঢাকা। সম্পাদক কথন ক. বুকের ভেতর জমে আছে কষ্টের দায়ভার, ঘাতক কাঁটা! খ. জন্মের চোখ মেলে যে স্বপ্ন উড়াল দিত ভোরের কার্নিশে থেমে গেছে সে ভোর স্বপ্ন হয়েছে বিলীন।

কৈশোরে খোলাপায়ে যে বিশাল মাঠে ছুঁয়েছি শিশিরের স্নিগ্ধতা ঘাসহীন মাঠ আজ পতিত জমিন...। পিতার কনিষ্ঠ আঙুল ধরে যে হাত বেড়ে উঠেছিল গভীর মায়ায় সে হাতে আজ রক্তের দাগ! বিপন্ন বসত। গ. মুজিব হত্যা একটি অমার্জিত অপরাধ, আমাদের ব্যথিত করে! সাহসী কবিতারা জোট বাঁধে অমানবিক হত্যার বিরুদ্ধে কষ্টের নিব বেয়ে নেমে আসে কবিতার শোকার্ত শব্দমালা চোখের অশ্র“ মুছে জিগিরে জিগিরে মুখরিত হয় বাংলাদেশ ব-তে বঙ্গবন্ধু ব-তে বাঙালি ব-তে বাংলাদেশ ঘ. রাজনীতির ক্ষুদ্র চাদরে আমরা ঢাকি না মুজিবের পরিচয়ের বিশালতা। মুজিব মুক্তিযুদ্ধ মাতৃভূমি এ যে আমাদের আত্মপরিচয়! জন্মের নিবিড়তায়! ঙ. আসুন, আমাদের সমস্ত প্রার্থনা জমা করি মুজিবের নামে। সম্পাদক. ৃৃ অ জ য় দা শ বঙ্গবন্ধু : আদিগন্ত যে সূর্য বাঙালি কি বাঙালি হয় শাড়ি, ধুতি, লুঙ্গিছাড়া? থাকে না তার বর্গ কিছুই না থাকলে টুঙ্গিপাড়া।

সুর অসুরে হয় ইতিহাস, নেই কিছু এ দু'জীব ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে দেবতা নেই মুজিব ছাড়া। তিনি ছাড়া আর কিছু নেই একনায়ক ও শোষক ছাড়া স্বাধীনতার শত্র“, দালাল, স্বঘোষিত ঘোষক ছাড়া। তিনি বিহীন তিরিশ বছর চলছে জাতি ভাগ্য ছাড়া তিনিই ছিলেন মুক্তিদাতা, বাংলা মায়ের ভাগ্য তারা। তিনি বিহীন রাজ্য খাঁ খাঁ, রাজনীতি ও নীতি ছাড়া স্বাধীন জাতি পায়নি কিছুই বুলেট, লাঠি, ভীতি ছাড়া। মানলে তাঁকে, অতীত যাকে হয় না কিছুই কীর্তি হারা অনাথ জাতি ভরসা পায় থাকে না আর পিতৃ হারা ধর্ম যেমন ধর্ম তো নয় মঠ মসজিদ চার্চকে ছাড়া বাঙালি কি বাঙালি হয় সতেরই মার্চ কে ছাড়া।

শাস্তি স্থিতি কিংবা লড়াই জয় নেই রণ তুর্য ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিও নেই মুজিব নামের সূর্য ছাড়া \ আ ন জী র লি ট ন তিনি আমাদের কখনো কখনো একটা মানুষ কোটি মানুষের ছায়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর তেমনই একটা মায়া। মায়ায় জড়ানো ছায়ায় মেশানো যেমন বটের ডালে ডানা মেলে বসে অচেনা পাখিরা ছন্দসুরের তালে- গেয়ে গেয়ে গান নিজেকে জুড়োয় পথিক জুড়োয় ঘাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর তেমনই বটের নাম। এ নামের সাথে মিশেছে সোনার বাংলাদেশের গান এ নামের সাথে যুক্ত হয়েছে লক্ষ বীরের প্রাণ। এ নামের সাথে স্বপ্ন মিশেছে সাহসী হয়েছে জাতি এ নামের মাঝে আশ্রয় খুঁজি তিনি আমাদের বাতি। আ শ রা ফ রো ক ন পিতা একজন রাখালের বল্লমের খোঁচায় পিতা হারালেন প্রাণ।

যেদিন শস্যের পাহাড় মাথায় করে পিতা ফিরলেন গৃহে সেদিন হতেই ষড়যন্ত্রের শুরু বাকিটুকু সবাই জানেন- অনেক কাল পেরুল রোদে মরা তৃণের মতো শুকিয়ে গেল সময়- আমার পিতার হত্তÍারকের তবু শাদ্গিÍ হলো না। আ স লা ম সা নী আমি প্রাচীন আর্য-দ্রাবিড় আমি বাঙালি আমাকে এখানেই রেখে দিয়ো- আমি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালিদের পরম পদ্যপাঠে পরিশীলিত হব- প্রতিদিন প্রতিরাত প্রতিনিয়ত। আমাকে বর্ণমালার এক একটি 'অ-আ', 'ক'-খ বর্ণে 'ভুলিয়ে রাখতে পারো খুব সহজেই; এই মেঘপুঞ্জ-বৃষ্টিরাশি দিয়ে অবলীলায় তৃপ্ত করতে পারো, এই আমাকে রেখে দিয়ো এই বেহুলা বাংলায়। এই একুশে ফেব্র“য়ারি- শহীদ মিনারে, সাত মার্চের উভপ্ত রেসকোর্স ময়দানে, একাত্তরের ত্রিশ লক্ষ শহীদানের সমাধি সৌধে, ধানমন্ডির স্নিগ্ধ লেকের ধারে বত্রিশ নম্বর বাড়িটির লনে আর ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সবুজ-শ্যামল চিরচেনা পবিত্র টুঙ্গিপাড়া গ্রামে আমাকে নিশ্চিত্তেÍ- -রেখে দিতে পারো আমি সূর্য সেনের মতো, তিতুমীরের মতো, -শেখ মুজিবের মতো এই নদীমাতৃক দেশে- পলিমাটি গায়ে মেখে নির্বিঘেœ ঘুমিয়ে পড়ব নরম ঘাসের কোলে। কা জী আ বু জা ফ র সি দ্দি কী মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু বাঙালির প্রাণ শব্দ 'বঙ্গবন্ধু' উচ্চারিত হলে আকাশ সুনীল হয়, সূর্য পায় জীবন উদ্ভাস বাঙালি ভুবন জুড়ে রক্তিম প্রভাতি রঙ বুকে বৃক্ষরা উন্নত শির লাল-সবুজ পতাকা হয়, তেরশত নদী স্রোত 'আমার সোনার বাংলা' গেয়ে জাগায় সাগর প্রাণ, 'জয় বাংলা' বিক্রম ধ্বনিতে জোয়ারে প্রফুল- হয় বাঙালির বঙ্গোপসাগর- বাতাসে বাতাসে গান 'শোন একটি মুজিবরের থেকে' বাঙালির ইচ্ছাগুলো সাত মার্চের উদ্যান হয় মেহনতি মানুষের হৃদস্পন্দে মুখর 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম' মন্ত্রে, শিশু কিশোর তরুণ মন গেয়ে ওঠে ঐকসুর 'আমরা আনিব রাঙা প্রভাত' সমদ্গÍ নৌকার পালে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক জাগে দোয়েলের কণ্ঠে জাগে গান 'আ-মরি বাঙলা ভাষা' শাপলার পাপড়িতে আলোময় সংবিধান পৃষ্ঠা বাঙালির মন কণ্ঠে কথা প্রাণ মুখরতা পায় সঞ্চয়িতা-সঞ্চিতা রূপসী বাংলার স্নিগ্ধ স্পর্শে স্মৃতি পাঠে চর্যাপদ দিব্য চোখে লালন হাসন অসীমকে দীর্ঘ করে বাংলার প্রদীপ্ত বর্ণমালা ফুলেরা নমিত মন 'আমি কি ভুলিতে পারি'- সুরে গ্রামে গঞ্জে জাগে সাড়া 'পদ্মা-মেঘনা-যমুনা' ঠিকানা সেই নামে ছয় ঋতু সাজায় গৌরব উপহার।

'বঙ্গবন্ধু' নাম শব্দে বাঙালি আবার জেগে ওঠে শপথের উন্নত শির পঁচাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে আসে রাজপথে মিছিলে মিছিলে বিপুল উত্তাল হয় একাত্তরের সাহস নিয়ে 'বঙ্গবন্ধু' প্রিয় নাম বাঙালির জীবন বাসনা সৃষ্টির বিশ্বাসী চোখে স্বপ্ন দেখে সোনার বাংলার আকাশ বনানী নদী পাহাড় সাগর জনপদ 'বঙ্গবন্ধু' নাম স্পর্শে সহসাই আলোকিত সুখ বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী চির প্রেরণার মহানাম এই নামে বাঙালির শুরু হোক মুক্তির সংগ্রাম \ কা জী রো জী ভিন্ন আকাশ খুঁজছি সেই থেকে একটি ভিন্ন আকাশ খুঁজছি যেখানে সূর্যের দাগ ছুঁয়ে রক্ত রঙ খেলবে- সোনা রঙ হাসবে। যেখানে মেঘ বিদ্যুৎ ঝড় ঝঞ্ঝা থাকলেও স্পষ্ট প্রতিভাত হবে স্বচ্ছ আরশিতে রাখা আমাদের চিরচেনা প্রিয় মুখ। সেই থেকে একটি ভিন্ন আকাশ খুঁজছি যেখানে রোদের পাখির গানে থেমে যাবে বর্ষা নূপুর... কুয়াশা দুপুর। যেখানে ঝলসে যাওয়া তীব্র দাহ থাকলেও স্পষ্ট প্রতিভাত হবে স্বচ্ছ আরশিতে রাখা নিবিষ্ট ভালোবাসা মুখ। সেই থেকে একটি ভিন্ন আকাশ খুঁজছি যেখানে চাঁদের জ্জ্যোৎস্না ঢালা সমুদ্দুরে মেঘের আড়ালে মেঘ গুঁড়ো গুঁড়ো ভাঙে।

যেখানে ঘন অমাবস্যার অপ্রতিরোধ্য নীল নকশা থাকলেও স্পষ্ট প্রতিভাত হবে স্বচ্ছ আরশিতে রাখা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানের মুখ। সেই থেকে একটি ভিন্ন আকাশ খুঁজছি যেখানে পঁচাত্তরের পরে সিঁড়িভাঙা অঙ্কের মতো বারবার সেই সিঁড়িতেই থমকে দাঁড়ায় সব। যেখানে সিঁড়ির দাগে জাতির পিতার নাম মুছে দিতে চাইলেও স্পষ্ট পৃতিভাত হবে স্বচ্ছ আরশিতে রাখা বঙ্গবন্ধুর মুখ। সেই থেকে একটি ভিন্ন আকাশ খুঁজছি যেখানে হাজার নয়নতারা পাহারা দেবে দুর্বিনীতকাল উপেক্ষা করে বাতাসে সবুজের বিশ্বাস আনার জন্যে। যেখানে স্পষ্ট প্রতিভাত হবে স্বচ্ছ আরশিতে রাখা একটি মুখের পরে লক্ষ জনতার মুখ।

সেই থেকে একটি ভিন্ন আকাশ খুঁজছি সেই স্বাধীনতা খুঁজছি খুঁজছি সেই ইচ্ছের তুলি রঙ যেখানে সেই ইচ্ছে প্রিয় মানুষটাকে এঁকে যাব আমি তারপর নতুন আর এক তারপর আরও নতুন আর এক তারপর শেষ পৃথিবীর আর এক নতুন। খা লে দ হো সা ই ন ঘুম ভাঙে, স্বপ্ন ভেঙে যায় ভাঁটফুল ফুটে আছে পায়ে চলা পথের পাশেই অদূরে নক্ষত্র-নীল আকাশের অরণ্য এনেছে পুরনো টিনের চালে ছায়া ফেলে কদম্ব হরিৎ তবু বুক খাঁ খাঁ করে এ বসন্তে তুমি পাশে নেই। চিল ওড়ে, এই বুক যন্ত্রণায় দীর্ণ হয়ে যায় পুকুর শুকিয়ে কাঠতৃষ্ণা নিয়ে তবু জেগে থাকি পাতিহাঁস দল-বেঁধে ছায়া খোঁজে কিন্তু তুমি নেই জরুরি আগুনে পুড়ে চোখের কোটর ভস্মাধার হয়ে যায়, কারা যেন অতিশয় নৈপুণ্যের জোরে সম্মোহিত করে রাখে গ্রীষ্ম থেকে বসন্ত অবধি। রোদের বাতাসে তবু ঘ্রাণ আনে তোমার সত্তার যেন কুসুমের রেণু, রেণুপোনা, এক থেকে দুই, দুই থেকে চার, আট- এভাবেই অজস্র অপার আমাদের ঘুম ভাঙে, স্বপ্ন থাকে, দিনান্তে পার... খো ন্দ কা র আ শ রা ফ হো সে ন স্বাপ্নিকের মৃত্যু পায়ের পাতায় বিঁধেছে তোমার কাঁটা তুমি যাবে দূরে যাবে দূরে যাবে দূরে তোমার জন্যে মাঠে বিনষ্ট ধানেরা বিছায় বুক তোমার জন্যে শামলী নদীর হৃদয় ফেটেছে রোদে চোখের সামনে ধু ধু বালুকার মৃত্যুতে ভরা চাঁদ তোমার দু'চোখে স্বপ্নেরা ছিল ভরা যুবতীর ক্রোধ যেহেতু পৃথিবী খাবলে খেয়েছে ক্ষুধিত বাঘের নোখ তুমি যাবে দূরে যাবে দূরে যাবে দূরে তোমার জন্যে গোহালে বাছুর দুধের তৃষ্ণা ভোলে তোমার জন্যে মেঠো ইঁদুরের দাঁতেরা শানায় ছুরি কৃষকের চোখে নষ্ট ধানের শীষের বানানো ফাঁদ পায়ের পাতায় বিঁধেছে তোমার কাঁটা তুমি যাবে দূরে যাবে দূরে যাবে দূরে তোমাকে খেয়েছে তোমার স্বপ্ন-পথিকের উদ্যম নমিত গমের পূর্ণ খোয়াব বুকের পাঁজরে নিয়ে ঘুমহীন চোখে হেঁটে যাও তুমি কালের হালট ধু ধু হৃদয়ে রক্ত, জামায় ঘামের চন্দন-কর্দম তুমি যাবে দূরে যাবে দূরে যাবে দূরে কতটা দূরের স্মৃতির গোহালে ঝরে দুধ যেন আঠা যেখানে বাঘেরা ভুলে যায় প্রিয় নরমাংসের স্বাদ শিশুর চোয়ালে চুমু খেয়ে যায় পুষ্ট স্তনের বোঁটা সিংহ-পাড়ার নীল বুনোঘাসে হরিণেরা খেলা করে তোমার মৃত্যু দিয়ে যাবে শুধু স্বপ্নের চোরাবালি তোমার পায়ের পাতায় বিঁধেছে গোলাপের ভুল কাঁটা তোমার জন্যে শূন্য বাটিত জমা হবে লাল ক্রোধ খঞ্জ পথিক উধাও চরের ভ্রান্তিতে দিশাহারা তোমার কাফনে কর্দমমাখা পায়ের স্বপ্ন মোছে তুমি যাবে দূরে যাবে দূরে যাবে দূরে গো লা ম কি ব রি য়া পি নু হৃদয়ের রজনীগন্ধা এসো, আমরা মাটির সাথে মিশে যাই লজ্জায়! লজ্জায়! তাঁর মৃত্যুদিনে কীভাবে দাঁড়াই রঙিন সজ্জায়! আমরা কি এত দীনহীন। যে দিল বুকের রক্ত, যে দিল পরিচয়ের ভিতমাখা মাটি যে দিল মন্ত্রী, নেতা ও জেনারেলদের পতাকাশোভিত দিন তাঁকে কেন করতে চেয়েছি বারবার অমাবস্যায় বিলীন।

আমরা এতটা কেন কাঙাল-ভিখিরি নিজের ঝোলায় সব টেনে নিতে নিতে নিজের ও ইতিহাসের কী করেছি ছিরি! আমরা মাথাটা শুধু রাখি- বিবেক রাখি না নিজের মাথায় ক্ষমতা ও স্বার্থের হিসেব শুধু নিজের খাতায়, যে দিল গোলাটা ভরিয়ে সোনালি ধানে সে তো নেয়নি কিছুই নিজেকে ছাড়া তাঁর অস্তর্ধানে প্রিয় দেশ ও জনতা শুধু ছিল তাঁর বুকভরা অভিধানে। কোথায় রেখেছি বলো তাঁকে? ইতিহাস একা একা তাঁর ছবি আঁকে অন্ধকারে জ্বালিয়ে মোমবাতি, নিভাতে পারে না সেই আলো কোনো মাতাল হাতি। ভালোবাসার বিপরীতে হিংসুটে বিষকালো ডেঁয়োপিঁপড়েরা লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোন মরণদেবীর গীতে, যতই হোক না সময় ও কাল বন্ধ্যা মুজিবের জন্য নষ্ট হবে না হৃদয়ের রজনীগন্ধা। ত প ন বা গ চী পিতা, জেগো ওঠো পিতা, জেগে ওঠো দেশ আজ ছেয়ে গেছে রঙিন লেবাসে পিতা, জেগে ওঠো সীমারের হাতে দেখি নতুন খঞ্জর পিতা, জেগে ওঠো বন্ধ হোক বুক জুড়ে কালো রক্তধারা পিতা, জেগে ওঠো জেগে আছি চৌদ্দ কোটি তোমার সন্তান পিতা, জেগে ওঠো তোমার নামের পুণ্যে ধন্য পোড়া দেশ পিতা, জেগে ওঠো আমরা ঘুমুতে চাই নিঃসীম স্বস্তিতে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.