যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে হত্যার প্রতিশোধ চায়না আমি তাদের ঘৃণা করি
‘রইসুদ্দি বাড়িত আছ,বাইরাও’
ভাঙ্গা বেড়া,তোবড়ানো ঝাঁপ ঠেলে
বেরিয়ে এসেছিল রইসুদ্দি।
‘বাহের আছ ?সব ঠিক তো?’
কি সব ঠিকঠাক করে নেমে এসেছিল বাহের।
‘হারান খুড়ো ?’
কুচে মাছের মত কালো হারান,
মূর্তিমান অসূর। ল্যাজা,বল্লম আর সড়কি
হাতে মিশে গেছিল ভিড়ে।
জনা দশেক মানুষ,পাথর খোদাই করা
মুখ নিয়ে সোজা হলো।
জনা দশেক মানুষ আড়াই হাজার বছরের
ঘৃণা নিয়ে ঘাড় বাঁকাল।
জনা দশেক মানুষ,জনে জনে বাড়বে বলে
অগ্রসর হলো।
জনা দশেক মানুষ জনা দশেকে যোগ হলো।
তারা যাত্রা করল নিশ্চিত অনিশ্চিতে।
খালি-পা মানুষের হাঁটায় শব্দ হয় না,
শ্বাপদের মত হাঁটে,কখনো বেড়ালের মত,
রুগ্ন শীর্ণ মানুষের গম্ভির কলতানও হয় না,
নিঃশব্দ চরাচরে গুইসাপ হয়ে বুকহাঁটে।
জনা কুড়ি গুইসাপে যোগ হলো আরো।
রাত শেষের কুয়াশা,ছেঁড়া মেঘ,নিড়ছাড়া পাখি
চষাক্ষেত,বিরানভূঁই,ঘরের কোণের কুহক পাখি,
মাচায় তোলা চালকুমড়ো,ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা
মানকচু,লতানো লাউডগা,বটের ঝুরি আর তালের
শরীরে পরগাছা পেরিয়ে জনা চল্লিশ মানুষ
হাঁটা ধরেছিল.....পৌঁছুতে হবে ওই সূর্যটার কাছে,
যে এখনো ওঠেনি। তবে উঠবে,নিশ্চই।
ঝিমধরা শেষ রাতের কাহন
নেশা লাগানো আলো আঁধারীর খেলা
উল্টানো থালার মত বিলের শেষে
কালো কালো গ্রাম.....সবাই তখনো শীতনিদ্রায়.......
শুধু এরা বাদে। এরা আজ দল বেঁধেছে বহু সাধনায়,
এরা আজ শাবল,খোনতা,সড়কি-বল্লম-ল্যাজা সব এনেছে
এরা লুঙ্গীর গিঁটে,ধূতির খোঁটায়,শাড়ির আঁচলে আর হাতে
হাতে দেশলাই এনছে,মুখভরে কেরোসিন এনেছে,
সূর্য রক্তবর্ণ হওয়ার আগেই লেলিহানরাঙা হয়ে উঠবে এই জনপদ।
আগুন ছাড়া মানুষ বাঁচে না,ওরা বাঁচবে বলে
আগুন দিয়েছে অস্তাচলের দূর্গে.....চল্লিশ হাজার মানুষ
আগুন বুকে নিয়ে আগুন ছুঁয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে বাঁচবে বলে ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।