মহা প্রেমিক দেবতা,
পত্রের প্রথমেই আমার আদাব গ্রহণ করবেন। আশা করি ভালাই আছেন। আমি মোটেও ভালা নাই।
এইখানে বেসামাল ঠাণ্ডা পরছে। লেপের নিচে একা থাকতে থাকতে পুরাই পেরেসান।
বিয়া করবার মুন চায়। নানা একদিন কইছিলো আমার বয়সে তিনি নাকি দুই বাচ্চার বাপ হইছিল। চিন্তা করেন একবার আমি এই বয়সে লেপের নিচে শুইয়া শুইয়া ...............। তাগোই কি সব আমাগো কি সখ আল্লাদ কিচ্ছু নাই। যাই হোক আমি আজকে আপনারে বিয়ার জন্য ডিস্টার্ব করবার আসি নাই।
আমি আসছি আমার গার্লফ্রেন্ডরে নিয়া কিছু আরজি পেশ করবার।
বিয়া যেহেতু করবারই পারলাম না তাই বউয়ের ঝাড়ি গার্লফ্রেন্ডরে দিয়া মিটাই। দুধের সাধ ঘোলে মিটানো টাইপ একটা ব্যাপার। বিজ্ঞান যতো আগাইছে বাঙ্গালীর প্রেমও ততো আগাইছে। এখন দুই বন্ধু আলাপ করে এমনে,
১ম বন্ধুঃ কিরে, তুই না কইছিলি এই মাইয়ার লগে মাসখানেক প্রেম কইরা আমারে দিবি।
এহন দুই মাস হইয়া গেলো দেস না ক্যান?
২য় বন্ধুঃ আর কইছ না মাইয়া বহুত চালু। আর কয়দিন লাগবো দিতাছি সবুর কর। সবুরে মেওয়া ফলে।
মাইয়ারা যে খুব একটা পিছাইয়া আছে তা কিন্তু না। দুই মাইয়ার কথোপকথন,
১ম জনঃ আর বলিস না, ওর সাথে না সেদিন সিনেপ্লেক্সে গেছি।
ওর এক কাজিন ছিলো যা হ্যান্ডসাম। আর ওর গার্লফ্রেন্ডটা না চরম খ্যাত। ছেলেটার ফেবুর আইডি আছে নে তুই পটা।
২য় জনঃ আরে আগে কইবি না। আইডি দে।
এখন ই মুলা ঝুলাইয়া দি।
আমার আর আমার হ্যাতের প্রেম এমন না। তার সাথে আমার দীর্ঘ সাত বছরের রিলেসন। প্রথম প্রথম অনেক সুখেই দিনানিপাত করছি। তাকে দেখলে মনে হতো আমি সপ্তম আকাশে আপনাগো লগে ( দেবতাগো লগে ) নান্নার বিরিয়ানি খাইতেছি।
ঘুমানোর আগে তার মুখের ভয়েস না শুনলে ঘুমবাবু আসার প্রশ্নই উঠেনা। তার ভয়েস শোনার পর মনে হইতো ১০ এম জি ট্রিপটিন ট্যাবলেট পানি দিয়া খাইয়া ফালাইছি। কিন্তু এখন যতই দিন যাচ্ছে আমার উপর তার অধিকারের মাত্রা ( নাকি নির্যাতনের মাত্রা) দিন দিন বেরেই যাচ্ছে। এখন অলটাইম টেনশনে থাকি কখন কি হয়, কখন কি শুনতে হয়। তার কিছু অধিকারের মাত্রা (নির্যাতনের মাত্রা) আমি আপনার লগে শেয়ার করতাছি আশায় আছি শুধরাইয়া দিবেন।
১) তারিখ মনে রাখাঃ তার জন্মদিন, আমাগো পোরথম দেখা, কে কবে আই লাভ ইউ কইছি, তার পোষা টিয়া কবে কথা কইছে আরো কতশত যে তারিখ এক আপনি ই জানেন। আপণেই কন কতো ঝামেলায় থাকি এতো কিছু কি মনে থাকে।
২) শপিং; কোন বান্ধবী নতুন কি কিনছে, কিসের সাথে কি ম্যাচ কইরা পরা লাগবে, কি যে ভয়াবহ অবস্থা। একদিন জুতা কিনতে যাইয়া ৪ ঘণ্টা ঘুইরা কানের দুল কিনছে। বাসায় ফেরার সময় কয়, "ওহো জুতা কিনতে না বের হইলাম।
ইস মনেই পরল না। কালকে একটু সময় কইরো তো। বের হব। আমি ..........
৩) ঝগড়াঃ আর ঝগড়া যদি একবার শুরু হয় তাইলে সে তো একজন পুরাই ইতিহাসবিদ হইয়া যায়। আমি কবে কি করছিলাম, কবে অন্য একটা মাইয়ার দিকে চাইছিলাম।
সব দেহি তারিখ, সময় সহ তার মুখস্থ। আমি চিন্তা করি কোন মাইয়ার দিকে চাইছি। সেই চিন্তায় থাকতে থাকতে এদিকে আমার সব শেষ............। পোরথম পোরথম জবাব দেয়ার চেষ্টা করতাম এখন ভাবি চুপচাপ থাকাই শ্রেও।
৪) অন্য মেয়ে দেখাঃ ভুলেও যদি তার সামনে বা ফোনে অন্য কোনও মেয়ের প্রশংসা করছি তাইলেই হইছে।
আর একটা ট্রয় নগরী ধ্বংস হইয়া যাইবো।
আর বেশি কইলাম না। আপনার তো অনেক ক্ষমতা আপনে চাইলেই অন্য কোনও মেয়ে দিতে পারেন। কিন্তু হাজার হোক আমার প্রথম প্রেমিকা যত কিছুই করুক তাকে ভোলা তো আমার কোনভাবেই সম্ভব না। কারণ তাকে তো আমি খুউব ভালবাসি।
আশা করি তাকে একটু ঠিকঠাক কইরা দিবেন।
ইতি
একজন হৃদয়ভাঙ্গা প্রেমিক
বি দ্রঃ সব চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবে কাহারো সাথে বা কাহারো গার্লফ্রেন্ডের সাথে মিলে গেলে কর্তিপক্ষ দায়ি নয়। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।