I’m only an every-day sort of man পত্র-পত্রিকা, সোস্যাল নেটওয়ার্কিং এর কল্যানে শুধু চোখ বোলালেই অনেক কিছু সম্পর্কে জানা যায়। কোন ঘটনা যখন সমাজব্যবস্থাকে নাড়া দেয়, ওটা নিয়ে আলোচনা হয়, সমালোচনা হয়। ভারতে ঘটে গেলো পাশবিক একটা ঘটনা। মেডিকেলের এর এক শিক্ষার্থীকে গনধর্ষন এবং পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনের কয়েকদিন পর মারা গেলেন সেই তরুনী।
প্রশ্ন উঠে আমাদের আর পশুর মধ্যে তাহলে পার্থক্য কোথায়? কিন্তু আবার চিন্তা করি, সমাজের কয়েকটা ক্যান্সার সেলের জন্যে সবাইকে পশু ভাববো কেন? কিন্তু দুশ্চিন্তার শেষ নেই, ক্যান্সার সেলের সংখ্যা তো বেড়েই চলছে। আর শুধুই কি ক্যান্সার সেলগুলোই দায়ী? বৃহত্তরভাবে কি আমরাই দায়ী না?
মেডিকেল এর এক শিক্ষার্থীকে গনধর্ষন এর পর ব্লগ, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে অনেক আলোচনা, সমালোচনা হলো। অনেক কিছুকেই দোষারোপ করা হলো। দোষারোপ করা সমাধান আমার ভালো লাগেনা।
আমি একজন সাধারণ মানুষ।
সাধারণ চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা নিয়ে বড় হয়েছি। আমি যে যুক্তিতে বিশ্বাস করি তার অনেকগুলোই ভোঁতা। আমার মুক্ত চিন্তা করার ক্ষমতাও সসীম। নতুনকে যেমন আমি স্বাগত জানাই, তেমনি পুরনো কিছু বিশ্বাস আমি ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারিনা। চাইও না।
আমার এই অতি সাধারন ধ্যান-ধারনাই আমার ব্লগের ভিত্তি। আমার মতামতের সাথে যদি কারো মতামতের বিরোধ থাকে, আমি হাসিমুখে শুনবো (এখানে পড়বো আরকি), কিন্তু তর্ক উলটো যুক্তি দিতে পারবোনা। পাল্টা-যুক্তির উত্তর হয়তো দিতে পারবোনা কারন আমার জানার-বোঝার ক্ষমতা কম। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত বিশ্বাসই এই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছি। আমার মতামত সত্য এবং ধ্রুব না।
ধর্ষন কি তা নিয়ে বিশদ ব্যখ্যা এখানে নিষ্প্রয়োজন। বরং ধর্ষন-নারী নির্যাতন এর পেছনের কারন গুলো জানাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ধর্ষন নিয়ে এপক্ষ-ওপক্ষ হতে আমি চাইনা। চলন-বলন, শিষ্টাচার কার বেশী থাকা উচিত বা কার বেশী পালন করা উচিত, এ বিষয়টা নিয়ে বেশ কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হয়েছে। ব্লগে ফেইসবুকে নারীবাদী, রক্ষনশীল, সমাজবাদী, উদারশ্রেনী, প্রগতিশীল সবারই কিছু না কিছু বক্তব্য আছে যা কখনো এক দলের কাছে নন্দিত তো আরেক দলের কাছে নিন্দিত।
দেখুন, ধর্ষনের মত পাশবিক যে নির্যাতন ঘটে তা ধর্ষিতা এবং ধর্ষনকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারেনা। কোন যুক্তিতেই থাকতে পারেনা। ধর্ষন-নারী নির্যাতনের ব্যাপারটাকে সামগ্রিকভাবে দেখার চেষ্টা করুন। ধর্ষনের সাথে সমাজব্যবস্থার অনেকগুলো ফ্যাক্টের জড়িত। মনোভাব, মূল্যবোধ, লিঙ্গ-বৈষম্য, সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তন, শিক্ষা-সচেতনতা, ধর্মীয় অনুশাসন, আইনের প্রয়োগ সব কিছুই সমাজে অপরাধ প্রবনতাকে প্রভাবিত করে ( এই ফ্যাক্টরগুলো যে স্বাধীনভাবে অপরাধ প্রবনতাকেই শুধু প্রভাবিত করে তা কিন্তু না, এরা একে অপরকেও প্রভাবিত করে) ।
আমরা একটার পাশ কাটিয়ে আরেকটা নিয়ে তর্কে-বিতর্কে মেতে উঠলে সমস্যার সমাধান কখনোই সম্ভব হবেনা।
ধর্ষন, নারী নির্যাতন, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এর বড় একটা প্রভাবক ‘শালীনতা’। সমাজের কাছে শালীন আচার-ব্যবহার অনুযায়ী জীবন-যাপন করাই শালীনতা। তাহলে শালীনতা একটা ‘ধারণা’। শালীনতার ধারণা একেক গোষ্ঠীর কাছে একেক রকম হতে পারে।
হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমার কাছে মনে হয়, শালীনতা অনেকটা আত্ন-উপলব্ধির সাথে জড়িত যা কিনা অনেক সময়ই নির্ধারিত হয় মনোভাব থেকে। আর মানুষের মনোভাব সংস্কৃতি, তার বেড়ে উঠার পরিবেশ শিক্ষার ও তার বোঝার ক্ষমতা থেকে বিকশিত হয়। আর তাই শালীনতার ধারণা একজনের উপর আরেকজন বা একটা গোষ্ঠীর উপর আরেকটা গোষ্ঠী চাপিয়ে দিতে পারেনা। তবুও বিভিন্ন মতামতের মানুষের বা গোষ্ঠীর একই সমাজে বসবাসের জন্যেই ‘সমাজের কাছে শালীন’ ধারনার জন্ম হয়।
শালীনতা রক্ষা করার ব্যাপারটা আমি অনেকাংশেই ব্যক্তির উপর ছেড়ে দিতে চাই। আগে ব্যক্তি মানুষ বিচার করুক শালীনতাটা কি তা নিয়ে। শালীনতা নিয়ে কথা বললে, পোষাকের শালীনতাটাই সবচেয়ে বেশী হাইলাইটেড হয়। (যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় এই কথাগুলোঃ stop wearing provoking clothes, ছেড়ী তোর গলায় না বুকে ওড়না দে)। পোষাক নির্বাচনের বিষয়টাও আমি ব্যক্তি মানুষের কাছে ছেড়ে দিলাম।
একজন মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধি বিবেচনার মাধ্যমে তার শালীনতার ধারনা দাঁড় করায় (যা পরবর্তিতে আমরা নিজেদের বা সমাজের ধারনার সাথে তুলনা করে শালীনতার বদলে উগ্রতা নামকরন করি)যার সাথে তার স্বাচ্ছন্দ্যবোধও জড়িত। ধরে নেই, কোন ব্যক্তির গায়ে একসুতা কাপড়ও না থাকলে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাহলে তা তার বিবেচনায় শালীনতা। এখন সেই সাথে যদি তার নগ্নতাও যদি সমাজ গ্রহন করে তাহলে ওই সমাজের কাছেও নগ্নতাও শালীনতা। কিন্তু আমরা যখন আমাদের সমাজের কথা চিন্তা করবো, নগ্নতা আমাদের সমাজের শালীনতার ধারনার পরিপন্থী। এইটা আমি, আপনি বা অন্য কেউই অস্বীকার করতে পারবোনা।
তাহলে প্রশ্ন কোন ধরনের পোষাক শালীন? এটা তো বলা কওয়া নেই। ধরে নিলাম, আমাদের দেশে মেয়েদের জন্যে একমাত্র শাড়ীই শালীন পোষাক। তাহলে চিন্তা করুন, কোন এক নারী কারো শেষ-কৃত্য অনুষ্ঠানে জমকালো শাড়ী পড়ে গেলেন । আপনি কি এখনো এটাকে শালীন পোষাক বলবেন? কিন্তু একই অনুষ্ঠানে যদি অন্য কোন নারী হাল্কা রঙের সালোয়ার কামিজ পড়ে যান, তাহলে এখানে এটাই শালীন। যেকোনা পোষাক provoking way তে যেমন পড়া যায়, ঠিক তেমনি গুছিয়ে সুন্দর করে পড়া যায়।
পোষাকে শালীনতা নয়, শালীনতা আপনার বিবেচনায়।
তবে আপনার বিবেচনায় যাতে সমাজের কাছে কি গ্রহনযোগ্য তারও যেন প্রভাব থাকে। আপনি স্বাধীন মানুষ, ব্যক্তি স্বাধীনতা আপনার আছে। কিন্তু তারপরও আপনি আমি অন্য সবাই শতপদীর মত সমাজটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছি। সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আমারাই।
প্যারেড গ্রাউন্ড এ একজন সৈন্যের মার্চ করার সময় যদি হাত-পা না মেলে, বা পানা-পুকুরে একটা একটা ঢিল ছুড়লে যেমন তা স্পষ্ট বোঝা যায়, ঠিক তেমনি সমাজের কাছে যা অশালীন তাও ঠিক সেইরক্ম ভাবেই দৃষ্টিগ্রাহ্য হবে। শালীনতার কথা বলতে গিয়ে ইকোনমিক্স ক্লাসের চাহিদা-যোগান গ্রাফের কথা মনে পড়ে গেলো। চাহিদা আর যোগান রেখা যেখানে মিলিত হয় সেটা একুইলিবিরিয়াম পয়েন্ট। এই পয়েন্টেই ক্রেতা-বিক্রেতারা বিনিময়ে রাজী হয়। আমাদেরকেও সমাজে এরকম একুইলিবিরিয়াম পয়েন্ট খুজের বের করতে হবে।
“your clothes provokes me to rape you. Your stupidity provokes me to slap you”। এই ধরনের কথা-বার্তা সম্বলিত ছবিতো এখন অহরহ। নিজের বিবেচনায় অটল থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতারা যেমন কখনোই বিনিময় ধাপ এ আস্তে পারতোনা, ঠিক তেমনি নিজের মনোভাবে অটল থাকলে, অন্যরাও কেন সড়ে আসবে? আপনি নিজেই অনেক সমাধান এর সূচনা হতে পারেন।
শালীনতার কথা বলতে গিয়েই বলা হয়ে গেছে অনেকাংশে দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাবের পরিবর্তনের কথা বলা হয়ে গেছে। আপনি যখন অন্যের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবেন, বিবেচনা করবেন আপনার দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন আসবে।
আমার বিশ্বাস দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অনেকাংশে নারী-নির্যাতন কমিয়ে আনবে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।