আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা, হরতাল-অবরোধ তো অনেক হলো, জনগনকে হাসানোর জন্যেও কিছু করুন? হাসি পেলেও হাসতে মানা (রিপোস্ট খিক খিক)

যা বিশ্বাস করি না, তা লিখতে-বলতে চাই না, পারবোও না। কিন্তু যা বিশ্বাস করি, তা মুখ চেপে ধরলেও বলবো, কলম কেড়ে নিলেও লিখবো, মারলেও বলবো, কাটলেও বলবো, রক্তাক্ত করলেও বলবো। আমার রক্ত বরং ঝরিয়েই দাও, ওদের প্রতিটি বিন্দুর চিৎকার আরও প্রবল শূনতে পাবে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যে এত এত হরতাল-ভাংচুর-অবরোধ করে দেশ ওলট পালট করে ফেলে, দেশের মানুষের আনন্দের জন্যেও তো ওনারা কিছু করতে পারেন, নাকি? কি কি করা সম্ভব সে বিষয়েই একটি "হাসতে মানা" পর্যালোচনা: ১) হরতাল দেন ঠিক আছে, বাঙালি হিসেবে সংস্কৃতি মনা হওয়াটাও কিন্তু বাঞ্চনীয়। তাই বিরোধী দল আয়োজন করতে পারে সকাল সন্ধ্যা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক হরতাল।

কমসূচির মধ্যে থাকতে পারে "রাস্তা আটকে" আক্রমনাত্নক ড্যান্স, সরকারের পদত্যাগের থিমে বানানো জ্বালাময়ী "রাগী" সঙ্গীত। ২) প্রতিকী সরকারী দলকে স্টেজে তুলে বেসুরো গাইতে বলা যেতে পারে আর পিকেটারদের সেই একই দায়িত্ব, পঁচা ডিম ও ছেড়া স্যান্ডেল দিয়ে প্রতিকী সরকারকে ঢিলানো। ৩) সরকার ভারতের পক্ষে কিছু বললেই পাকিস্তান থেকে "আতিফ আসলাম" কে ডেকে নিয়ে এসে পল্টনে উচ্চ আওয়াজে "আব তো আদত সি" গাইতে বলে সরকারের জীবন অতিষ্ট করত: ভারত বিরোধী কাজ করা সম্ভব। ৪) ঈদ এর দিনেও আমাদের নেতা নেত্রীরা বিরোধী দলের ছায়াও মারান না! একারণে ঈদ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অওয়াজন করা যেতে পারে। মহিলাদের সংখ্যা খারাপ না হওয়ার কারণে মহিলা ও পুরুষ আলাদা ম্যাচ আয়োজন করা মতেই বাহুল্য হবেনা।

(সরকারের প্রতি টিপস হবে, সাহারা খাতুনকে গোলকিপার রাখলে স্ট্রাইকার এমনিতেই দেখে ভয় পাবে আর উল্টাদিকে ছুটবে। ) ৫) সম-প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অওয়াজন করা যায়! একদল নৌকার লোগো আর দ্বিতীয় দল ধানের শিষের লোগো সম্বলিত পোশাক পড়ে নির্বাচনের একটা পোশাকি মহড়া বা যুদ্ধ সেরে নিতে পারবেন। গরিব দুখীদের জন্যে ফ্রিতে ম্যাচ দেখার আয়োজন করা হবে। আর হওয়া ভবনের সেই ম্যাচকে মনে রেখে বলছি, তারেক ভাই বিরোধী দলের অধিনায়ক মাস্ট! তবে জামায়াতকে আম্পায়ারিং করতে দিলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হবার সম্ভাবনাই বেশি। ৬) "আমরাই সেরা" এই টপিকে গালি প্রতিযোগিতা হতে পারে, যেখানে বিরোধী দল ও সরকারী দলের নেতা নেত্রীরা থাকবেন, যে দল বেশি গালি দিতে পারবেন তারাই জয়ী।

শরীরী ভাষা ও বিভিন্ন মানদন্ডে জনগণ নির্বাচন করবেন "পিপলস চয়েস অব বেস্ট গালিবাজ!" ৭)হরতাল অবরোধে ব্যবহৃত অস্ত্রাদির কিছুটা পরিবর্তন আনলেই বিষয়টি অনেক আনন্দময় করা সম্ভব!! যেমন ইটের ঢিল না ছুড়ে ফুলের(কমদামিটা, চাইকি, রাজনৈতিক ক্ষমতা ইউজ করে ফ্রি ও পাওয়া সম্ভব) ঢিল ছোড়া, আগুন গাড়িতে না জ্বালিয়ে গাড়িতে পানি ঢেলে চালকের মান সম্মান কেড়ে নেয়া, নিদৃষ্ট জায়গায় সঠিক পদ্ধতিতে আগুন জ্বালিয়ে শীতকালে হাত-পা সেঁকার ব্যবস্থা করে দেয়া, পুলিশ দেখলেই হাসতে হাসতে দুরে গিয়ে জড়িয়ে ধরা(মহিলা নেত্রীরা মহিলা পুলিশদের দিকে এগিয়ে গেলে কেলেংকারী হওয়ার সম্ভবনা কম) ইত্যাদি। ৮) হরতাল ফ্যাশন শো কিন্তু অনঅফিসিয়ালি অনেক আগে থেকেই হচ্ছে, অফিসিয়াল রূপ দিলে সেটি হত জাস্ট দারুন! যেমন আওয়ামী পন্থীরা মুজিব কোট ও সাদা পাঞ্জাবি পড়ে বেশ "পাট" নিত!! ওদিকে বিএনপির নেত্রীরা এই ফ্যাশন শোএর প্রাণ, গোলাপী সারি আর বাহারি লিপস্টিক দিয়ে পাবলিকের নজর কেড়ে নেয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে তাদের মাঝে। ৯) হরতালের ঘোষণা দিলেই সরকার দল বলবে, খেলবনা! আগে টস কর দেখি? জিতলে হরতাল মানবো!! ১০)সবাই বিরোধী দিলের দুর্নাম করে যে হরতালের কারণে গরিবের মুখের অন্ন বন্ধ হয়ে যায়! তাই খন্ডকালীন চাকুরী হিসেবে হরতালের দিন তারা বিরোধী দলকে সমর্থন দিয়ে টু-থ্রি পাইস কামিয়ে নিতে পারে। কাজের অংশ হিসেবে অমুক অপর চরিত্র ফুলের চাইতে পবিত্র স্লোগান দিতে দিতে বাড়ি যাওয়া বাদ্ধ্তামূলক। ১১) কারাতে-মার্শাল আর্ট তো কত হলো, এবার শুরু করা যায় হর্তালার্ট! এখানে হরতালে কি করে "ঘরে থাকা যায়" আর বাই চান্স বেরিয়ে পড়ে বিপদে পড়লে কি করে খিঁচে দৌড় দেয়া যায় তা সহ আরো বিভিন্ন কলা কৌশল শিখানো হবে(স্পন্সরড বাই শিবির )।

আউটকাম হিসেবে আমাদের দেশেই দেখা যাবে কত উসাইন বোল্ট বেরিয়ে গেছে!!! ১২) হরতালের সমর্থকরা সামুতে ভয়াবহ পোস্ট দিতে পারে, আর জবাবে বিরোধী দলের ব্লগাররা মন্তব্যে তুলোধুনো করতে লেগে পড়ত। ১৩) জনগণ মনে হয় সবথেকে বেশি খুশি সেদিনই হত যেদিন এই সব হরতাল অবরোধের রাজনীতি থেকে আমাদের প্রধান দুই দল সরে এসে দেশের কথা ভাবত আর তার কল্যানে কাজ করত(এই অসম্ভব কাজটির কথা ভেবে সবথেকে বেশি হাসি পাচ্ছে, কারণ ইহা সম্ভব নয়)। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.