তোমারে বন্দনা করি স্বপ্ন-সহচরী লো আমার অনাগত প্রিয়া, আমার পাওয়ার বুকে না-পাওয়ারতৃষ্ণা-জাগানিয়া! তোমারে বন্দনা করি…. হে আমার মানস-রঙ্গিণী, অনন্ত-যৌবনা বালা, চিরন্তনবাসনা-সঙ্গিনী! গত সোম বার (৩/০৬/২০১৩) আমাদের এলাকার(বরিশালের উজিরপুর থানা) ৫০-৫৫ বছর (আনুমানিক) বয়স্ক একজন লোক যিনি অত্যন্ত গরমে নিজের ঘরের ফ্যান সারাতে জৈনক মেকারের কাছে যান। সেখান থেকে একা একাই ফিরছিলেন ফেরার পথে পাকৃতিক ডাকে (প্রসাব) সারা দিতে রাস্তার পাশে বসেন আর ওই বসাই তার জন্য কাল হয়। কারন তিনি যেখানে বসছিলেন সেখানেই বসে ছিল এক বিষধর সাপ। তিনি প্রসাব করার সাথে সাথেই ঐ সাপ তার পায়ে কামড় বসায়। কামড় দেয়ার পর ঐ ব্যক্তি তার কোমরের কৈতন (বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায়) খুলে সেখানে বাধেন।
এবং গ্রামের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ওঝা ডেকে বিষ নামানোর জন্য ডোর দেয়া হয়। এর এক পর্যায়ে সে হয়ত ভেবে ছিলেন যে বিষ নেমে গেছে আর কোন সমস্যা হবেনা। এরপর তিনি চাল ভাজা খেয়ে টয়লেট করতে যান আর এর পরেই ঘটতে শুরু করে আসল বিপত্তি। আস্তে আস্তে তার কথা বলার শক্তি কমতে শুরু করে। তার কথা অস্পষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে।
এর এক পর্যায়ে তিনি তার ছেলেকে খাতা আর কলম দিতে বলেন এবং লিখেন যে তাকে যেন খুব দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে সাপে কাটা রগীর জন্য যে ভ্যাকসিন দরকার তা ছিল না। আমি ভেবেই পাই না যে সারা বরিশাল শহরেও কি একটা ভ্যাকসিন ছিল না? এর পরে ডাক্তার রোগীকে অক্সিজেন লাগিয়ে এম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। এম্বুলেন্সে অন্যান্যদের সাথে ছিল একজন ওঝা। এম্বলেন্স কিছুদুর যাওয়ার পর ঐ ওঝা রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন খুলে ফেলেন।
এর অল্প সময় পরেই রোগী মারা যায় ( ডাক্তারের মতে) কিন্তু ঐ ওঝার মমে তখনো রোগী বেচে আছে। এর পর রোগীকে ঢাকা না নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এবং শুরু হয় বিভিন্ন যায়গা থেকে আসা ওঝাদের কেরামতি। তবে এর মধ্যে যিনি প্রধান তার কেরামতিই ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বিভিন্ন উপায়ে ঝার ফুক দিচ্ছিলেন তার মধ্যে আছে ৫/৬ বছর বয়স্ক দুটি শিশুর বুকের উপরে দাড়িয়ে তার কেরামতিওয়ালা শব্দ উচ্চারণ করে ঝারতে থাকেন।
এর পর ৫/৬ মাস বয়সের একটি শিশুকে ১২/১৫ ফুট দূরে অন্য আরেক জরনর হাতে ছুরে মারতে মারতে কেরামতির মন্ত্র পরে ঝারতে থাকেন। এতেও যখন ব্যর্থ হলেন তখন লাশের সমস্ত শরীরে ২ কেজি সরিসার তৈল মেখে মর্দন করতে থাকেন। আরেকটা কথা বলে রাখি এসব ঘটনা গতকাল রাতের। আর সব চেষ্টা যখন শেষ তখন একটা কবর থিরতে বল্লেন অবশ্য মৃতের জন্য নয় তার নিজের জন্য। ওঝা এরপর ঐ কবরের মধ্যে নিজেই প্রবেশ করলেন এবং সেখান থেকেই মন্ত্র পাঠ করতে লাগলেন।
এবং সব শেষে উঠে এসে বললেন যে তার কাছে মা ননসা ( হিন্দুদের একজন দেবী) বলেছেন যে “ঐ ব্যক্তি অনেক পাপ করছে আর তার বড় অপরাধ হল সে সাপের গায়ে প্রসাব করছে। একে বকান ভাবেই ক্ষমা করা যাবে না। ” সুতরাং আমার পক্ষে একে বাচান সম্ভব না। এই কথা বলে আজ সকাল হতে যখন এক ঘন্টা বাকী তখন ওঝা সাহেব ঐ বাড়ি ত্যাগ করেন। আর এখন লাস সমাধিস্ত করার প্রকৃয়া চলছে।
খুবই খারাপ লাগে জখন ঐ সব ভন্ড ওঝাদের কেরামতির (অত্যাচারের) কথা শুনি। আর খারাপ লাগে এই ভেবে যে গ্রামের সরল সহজ মানুষগুলোকে নিয়ে এরা প্রকাশ্যে এই নির্মম ও রমরমা ব্যবসা দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে। কবে এর থেকে আমাদের পরিত্রান হবে? কবে এরা (ওঝারা) বুঝবে যে মানুষের জীবন নিয়ে এ খেলা তাদের উচিৎ নয়। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।