আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ব্লগে, এই মধ্যরাতে, অনেকটা নিরবেই ভাসিয়ে দিলাম আমার ৩০০তম পোস্ট



আমাদের এলাকায় একটা লোকাল পত্রিকার সাংবাদিক ছিল, নাম সৈকত। অনেক দেরীতে সাংবাদিকতায় এসেছিল সে। প্রথম দিকে সংবাদ সংগ্রহে তার নিদারুন বাজে পারফর্মেন্সে তার ক্যারিয়ার হুমকীর মুখে পড়ে গিয়েছিল বললে কম বলা হবে মোটামুটি মুখ হয়ে গলা অবধি চলে গিয়েছিল। এ নিয়ে তার অফিসে সিনিয়র তো অবশ্যই রীতিমতো জুনিয়রদেরও নির্মম হাসাহাসির শিকার হতে হতো তাকে। এসব লাঞ্ছনা গঞ্জনা যখন চরম একদিন দেখলাম তার মধ্যে বিশাল পরিবর্তনের ছোঁয়া।

অনেকটা বদলে দাও, বদলে যাও টাইপ। যদিও তখনও এই শ্লোগান নিয়ে কোনো পত্রিকা তার পাশে দাঁড়ায়নি। একদিন ঠিক ঠিক বদলে গেল সৈকত। এসাইনমেন্টের বাইরে একধিক নিউজ এনে অফিসে তোলপাড় ফেলে দেয়া শুরু করলো প্রতিদিন। কম্পিউটর অপারেটররা তার রির্পোট কম্পোজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিল।

নিউজ এডিটর হাপিয়ে উঠেছিল তার নিউজ দেখতে দেখতে আর সহকর্মীরা হাপিয়ে উঠেছিল তার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করতে করতে। মোটামুটি সবাইকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়ে দিল। তার সিরিয়াসনেসের মাত্রা এমন জায়গায় গিয়ে পৌছালো, রাস্তায় কিছু দেখলেও সে থেমে যায়, ভাবখানা এমন এটা তার এসাইনমেন্টের তালিকায় ছিল। একদিন রিকশায় করে যাচ্ছি, হঠাৎ পাশ কেটে একটা রিকশা গেল সেখানে এক লোককে ধরাধরি করে নিয়ে যাচ্ছে। মনে হল লোকটার মাথা ফেটে গেছে।

সৈকত লাফ দিয়ে রিকশা থেকে নামলো, মামা ইস! চোক্ষের সামনে দিয়া একটা নিউজ চলে গেল। সৈকতের প্রসঙ্গের অবতারণার একটা উদ্দেশ্য আছে, ব্লগে লেখালেখি শুরুর পর থেকে আমারও এই রোগে ধরেছিল। যাই দেখতাম মনে হতো আজ বাসায় গিয়ে এটা নিয়েই লিখবো। আমার ধারণা, এই রোগটায় কম বেশি সবাই আক্রান্ত। আমার এক বড় ভাইকে দেখেও সেটা বুঝেছি।

তিনিও একজন সন্মাণিত ব্লগার। তার সঙ্গে বাসে যাওয়ার সময় হঠাৎ গোপন অসুখ নিরাময় সংক্রান্ত্র একটি পোষ্ট সরি একটা লিফলেট উড়ে এলো জানালার বাইরে থেকে। তিনি খুব বিরক্ত হলেন। বললেন, এটা কোনো কথা হলো? বলা নেই কওয়া নেই লিফলেট ছুড়ে মারছে। কত সময় পাশে কতজন থাকে।

আমিও তার সাথে একাত্মতা জানালাম। তিনি এতে উৎসাহিত হয়ে বললেন,আজ ব্লগে এটা নিয়ে লিখবো। আমিও ব্যাপক সমর্থন জানালাম, লিখবেন মানে অবশ্যই লিখবেন। ফাজলেমী নাকি? এইভাবে কাগজ ছুড়ে মারা! বড় ভাই কাগজটি সযতনে পকেটে রেখে দিলেন, লেখার সাথে স্ক্যান করে লিফলেটের ছবিও দিবেন। আর আমাকে বলে দিলেন ঝাঝালো কমেন্ট করবা কিন্তু।

আমি বললাম,আপনি শুধু লেখেন না। দেখেন কী কমেন্ট করি। তো আমি তার লেখার অপোক্ষায় রাতভর বসে রইলাম। তার খবর নাই। কোনো পোস্টও নাই।

একটা সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন তার সাথে দেখা। কী ব্যাপার পোষ্ট দিলেন না কেন? তিনি রেগে গেলেন আরে রাখো মিয়া তোমার পোষ্ট। আমি আতঙ্কিত চেহারা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,ক্যান কি হইলো আবার? আরে মিয়া ওই লিফলেটের কাগজ নিয়া ভুইলা গেছি। তোমার ভাবী প্যান্ট ধুইতে নিয়ে পকেট চেক করতে গিয়ে কাগজটা পেয়ে গেছে।

তো কি হয়েছে? আরে এখন ক্যামন যেন সন্দেহের দৃস্টি নিয়ে তাকায়। ভাবটা এমন আমি অমন সব রোগে আক্রান্ত। আমি বললাম,এখন তাহলে কী হবে? তিনি এক মুখ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ভাবছি এই অভিজ্ঞতা নিয়া একটা পোষ্ট দিমু। তুমি কিন্তু একটা ঝাঝালো কমেন্ট করবা। আমি এবার কোনো জবাব দিলাম না।

এনরকম পোষ্টিং নিয়ে আমাদের ব্লগীয় জীবন চলছে। দেখতে দেখতে আমিও চলে এসেছি ৩০০ তম পোষ্টে। এই ৩০০ পোষ্টের নানা সময় নানা অভিজ্ঞতা আমার সময়কে করেছে বর্ণাঢ্য। নানা মন্তব্য আমাকে দেখিয়েছে বৈচিত্রের পথ। যারা দীর্ঘসময় ধরে আমার ব্লগিং জীবনকে মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছেন, যাচ্ছেন আমার ব্লগে, পড়ছেন আমার পোষ্ট সকলকে ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ যারা পোষ্ট পড়ে পড়ে কমেন্ট করেছেন। ধন্যবাদ যারা পোস্ট পড়ে প্লাস দিয়েছেন। ধন্যবাদ যারা পোষ্ট পড়ে মাইনাসও দিয়েছেন। তাদেরও ধন্যবাদ যারা পোস্ট পড়ে কোনো প্লাস মাইনাস না দিলেও কমেন্টের জবাবে আশাহত হয়ে মাইনাস দিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০০ তম পোষ্ট পার করতে সহযোগীতায় কৃতজ্ঞতা।

ভালো থাকুন।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.