আতাউর রহমান কাবুল শরীরের বিভিন্নস্থানে ক্ষত ও ব্যথা নিয়ে আমার দেশ এর কারারুদ্ধ সাহসী ও মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ)-র আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিল থেকে তিনি কোন খাবার খাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ না করায় তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। রিমান্ডে নির্যাতনে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের ক্ষত নিয়েও তিনি অনশন করে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় শরীরে ব্যথা নিয়ে তার শারিরীক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
মাহমুদুর রহমানের এ অবস্থা শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার বৃদ্ধা মা মাহমুদা বেগম।
৬দিনের রিমান্ডে নির্মম নির্যাতন শেষে আমার দেশ সম্পাদককে আদালতের মাধ্যমে জেলখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেও তিনি না খেয়ে থাকেন। শুরু থেকেই তার ৩টি দাবী না মানা পর্যন্ত তিনি কোন কিছুই খাচ্ছেন না। জেলখানায় অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরী ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সিতে স্থানান্তর করা হয় গত বুধবার।
এখানেও কয়েক দফা চেষ্টা করেও তাকে কোন কিছু খাওয়ানো যায় নি। শেষে ওই বিভাগের ২য় তলাস্থ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)তে স্থানান্তর করা হয়। এখানেও তাকে কোন কিছু খাওয়ানো যায়নি। অবশেষে অবস্থার আরো অবনতি হলে আজ শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ইউনিটের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো: আবু সিদ্দিক, গ্যাসট্রোএনট্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এএসএম রায়হান, নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সজল কৃঞ্ন ব্যানার্জি, অ্যনেসথেশিয়া এনালজেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ারের অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মেশকাত আহমেদ, কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনজুর মাহমুদ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক।
এই মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ আজ আমার দেশকে জানান, বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে মাহমুদুর রহমান সাহেবকে সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় একেবারে না খেয়ে ওষুধ দিয়ে বেশিদিন কন্টিনিউ করা যাবে না। তিনি বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক। তাই রাজনৈতিক বিষয়টির সুরাহা করে হলেও তাকে দ্রুত খাওয়া দাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত। নচেত এ অবস্থায় চলতে থাকলে যে কোন সময় শারিরীক অবস্থার মারাত্বক অবনতি ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বিএসএমএমইউ কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো: আবু সিদ্দিক জানালেন, খাওয়া দাওয়া না করলে রোগী ক্রমশ: নিস্তেজ হয়ে পড়বে। আমরাও অনেক চেষ্টা করে তাকে খাওয়াতে পারছি না। অবশেষে নাক দিয়ে নল ঢুকিয়ে খাবার দিতে চাইলেও তিনি রাজী হচ্ছেন না।
জানা গেছে, শনিবারও বোর্ডের সব সদস্যরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে কোন কিছুই খাওয়াতে পারেননি। তার দেহে আজও বিভিন্ন ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করা হয়েছে।
ইলেট্রোলাইট অ্যামবেলেন্স অবস্থায় সার্বক্ষনিক দেহের পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। হৃদপিণ্ডের পালস্ অর্ধেকে নেমে এসেছে, কন্ঠস্বরও বেশ ক্ষীন হয়ে গেছে।
কার্ডিওলজি বিভাগের ২য় তলাস্থ করিডোরে পর্যাপ্ত পুলিশ পাহারারত আছে। শুধু তাই নয়- করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-র ভেতরেও একজন ডেপুটি জেলারের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন পুলিশ সার্বনিক অবস্থান করছে। ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।